Ajker Patrika

জাল সনদের শিক্ষক

সম্পাদকীয়
জাল সনদের শিক্ষক

আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকের ২৬২ জনের মধ্যে ২৫১ জনের নিবন্ধন সনদ এবং বাকিদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শনাক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

যে শিক্ষক পড়ালেখা শেখাবেন, তাঁরাই যদি অযোগ্য হন এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে না ঘটলে অযোগ্য ব্যক্তিরাই যে নিয়োগ পায়, তার অসংখ্য প্রমাণ আমাদের দেশে আছে।

এর আগেও জাল সনদ ধরা পড়ায় ৬৭৮ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, বেতন-ভাতার সরকারি অংশের অর্থ ফেরত নেওয়ার এবং ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব অসৎ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা আমাদের জানা নেই।

আমাদের দেশে বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ ও পেশিশক্তির বলে নিয়োগ হয়ে থাকে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ধরনের যোগ্যতা থাকা দরকার, সেই যোগ্যতা না থাকলেও হয়। কারণ, ন্যূনতমভাবে শুধু পাস করার সনদ থাকলেই হলো। পাস করা আর যোগ্যতা না থাকা যে এক বিষয় নয়, সে পার্থক্য জানা থাকা জরুরি। ফলে অর্থই হয়ে যায় বড় ধরনের যোগ্যতার মাপকাঠি। এটা যে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে, তা কি আর অস্বীকার করা যায়! শৃঙ্খলা ও সততার যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা অসম্ভব। এসব অনাচার বন্ধ করা দরকার।

নিয়োগ দেওয়ার সময় নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি—কেউই এ ধরনের অবৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়ার দায় এড়াতে পারেন না। নিয়োগপ্রার্থীর সঙ্গে এদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে কোনো পেশিশক্তি এবং ক্ষমতাবানের চাপ ছিল কি না। উক্ত ব্যাপারগুলো একটু তদন্ত করলেই প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হবে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কাজ হলো, শুধু অবৈধভাবে নিয়োগের ঘটনাগুলো তদন্ত করা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শাস্তির সুপারিশ করা। এর বাইরে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। এখনই এ অপকর্ম প্রতিরোধ না করা গেলে, তা ডালপালা ছড়াবে ভাইরাসের মতো। শুধু অর্থ ফেরত নিলে, এ ধরনের অপকর্ম রোধ করা যাবে না। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাহলে একটা সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সৎ, মেধাবী ও যোগ্যদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি বাড়াতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এক দশক পর নির্মাণে ফিরছেন ওয়াহিদ আনাম

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন: থালাপতি বিজয়ের দলের চমকের পূর্বাভাস

ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে ‘শত্রু হার্ট অ্যাটাক’ করতে পারে

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত