সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্য বিস্তারের উন্মাদনায় মত্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের ছাড় দেওয়ার মানসিকতার অভাব আন্তর্জাতিক অস্থিরতাকে তীব্রতর করছে। অভেদ্য অবিশ্বাসের পর্দায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে সংঘাতে জড়িত দেশ দুটি। এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কার্যকারিতা ও কূটনৈতিক কৌশল রয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি তৈরি করেছে এক নিশ্চুপ আশঙ্কার ধোঁয়া। তাই প্রয়োজন এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান, যা টেকসই শান্তি নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বিশ্ববাসীর। এমতাবস্থায় বিশ্বের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বাস্তবতা হলো, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থার নৈতিক অবস্থান রয়েছে প্রশ্নের মুখে। অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও স্থায়ী সমঝোতার অভাবে দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে উত্তরণের পথ দিনে দিনে সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। আগ্রাসী মনোভাব, বিতর্কিত অবস্থান, প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন কটাক্ষ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরব অবস্থান সমালোচনার শিকার। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলোর সীমাবদ্ধ কাঠামো এবং স্বাধীনভাবে ক্ষমতা ব্যবহারে অক্ষমতা ব্যর্থ করে দেয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যকে। বড় রাষ্ট্র, কূটনৈতিক স্বার্থ কিংবা শক্তিনির্ভর বিশ্ব রাজনীতিতে সদিচ্ছা প্রয়োগের ফলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ভঙ্গ হচ্ছে।
বিশ্বশান্তি ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গঠন হলেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবতা হলো নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা। সত্যিকার অর্থে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আইন অমান্য করলেও সংস্থাগুলোর কোনো কিছু করার প্রকৃত ক্ষমতা থাকে না। এ ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হলো রাষ্ট্রগুলোর অর্থায়নের ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বাজেট নির্ভরশীলতা। ফলে নিরপেক্ষতার বিষয়টি থাকে প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে মাকড়সার জালের মতো বুনন করা হয়েছে জটিল সব নেটওয়ার্ক। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের কোনো সক্ষমতা নেই। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতে কৌশলী অবস্থানে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে বর্তমান অসহনীয় অস্থিরতা সৃষ্টি। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে পৃথিবীর ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য বড় জ্বালানি সংকটে পড়েছে বিশ্ব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রয়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। নতুবা এই ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতে রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে যেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা—পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয়তা। কেননা, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রয়েছে তা যেকোনো সময়ে আরও বেগবান হয়ে উঠতে পারে। পর্যায়ক্রমে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকারিতা এবং বিশ্ব জনমতের সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে পারে বৈশ্বিক শান্তি। তবে বড় রাষ্ট্রগুলোর সমঝোতাপূর্ণ মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে টেকসই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে।
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঘাত-প্রতিঘাতে পিষ্ট হচ্ছে বিশ্ব নিরাপত্তা। ড্রোন হামলা, মিসাইল আক্রমণ, প্রক্সি যুদ্ধ কিংবা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক হামলার প্রভাব সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়েছে মানবজীবনে। তাই এই ত্রিমুখী সংঘাতের দহন নেভাতে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ কখনোই পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি নজরে রেখেছে। তারা প্রত্যক্ষভাবে হস্তক্ষেপ না করলেও নজরে রেখেছে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি। অপরদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস বেসামরিক হতাহতের অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট প্রকাশ করছে। কিন্তু এই জটিল পরিস্থিতিতে কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা লক্ষণীয়। বড় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়, বরং প্রশ্নবিদ্ধ। কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফলে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে সব আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা শুধু নীতিগত বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ।
বহুদিন ধরে চলমান এই বৈশ্বিক উদ্বেগ যাতে পারমাণবিক ইস্যুতে পৌঁছাতে না পারে তার জন্য প্রয়োজন কৌশলগত সমঝোতা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন—এই ত্রিশক্তিনির্ভর। এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কূটনৈতিক চাপ, মানবিক সহায়তা কিংবা আইনি নজরদারি ছাড়া সমাধানের পথে নিজস্ব কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের অবকাশ নেই। ফলে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংঘাত এড়ানোর আহ্বানের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। কার্যত বর্তমানের বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি উত্তরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে জোটভিত্তিক সমঝোতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত অপরিহার্য।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংঘাতে জড়িয়ে থাকা দেশগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ কূটনৈতিক আলোচনা, যা তৈরি করবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের রাস্তা। তবে দুই পক্ষের নিজস্ব স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে পুরো মানবজাতির শান্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থাৎ দেশগুলোর বর্তমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন টেকসই শান্তিচুক্তি।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

ইরান যুদ্ধ গত মঙ্গলবার দুই মাসে গড়িয়েছে। দৃশ্যত এখন পাল্টাপাল্টি হামলা না চললেও উত্তেজনা কমেনি বিন্দুমাত্র। দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তানের উদ্যোগ থমকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলা চলে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ তো বটেই, সারা বিশ্বেই ‘মব’ আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার এই প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভিড়ের মানসিকতা, ডিজিটাল লিটারেসির অভাব, নৈতিক দুর্বলতা এবং আরও অপরাপর বিষয়গুলো যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তথাকথিত ‘মব জাস্টিস’ বা ‘ভিজিল্যান্ট ভায়োলেন্স’ও খুবই
১৬ ঘণ্টা আগে
আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকের ২৬২ জনের মধ্যে ২৫১ জনের নিবন্ধন সনদ এবং বাকিদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শনাক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
১৬ ঘণ্টা আগে
কাউকে এখন আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে যেকোনো হীন আচরণ করা যেন ন্যায্যতা পেয়ে গেছে! আওয়ামী দোসর বলে যেমন কোনো ব্যক্তিকে মব সৃষ্টি করে মারধর করা যেতে পারে, তেমন তাকে লুটও করা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেখা যাবে, একদিন দোসর বলে কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হাল ফ্যাশনে পরিণত হবে!
২ দিন আগে