Ajker Patrika

জুলাইয়ে শুরু ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’র দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১৩: ৩১
জুলাইয়ে শুরু ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’র দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। যুবসমাজকে ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি এবং মাদকের গ্রাস থেকে দূরে সরিয়ে মাঠে ফেরাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাস করার জন্য মাঠে এসে নির্দিষ্ট শিক্ষকের অধীনে প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিতে হবে।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ তথ্য জানান।

একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে জোয়ার তুলতে আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’র দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বর্তমান সমাজে প্রযুক্তি ও ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘরে বন্দী হয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের মাঠে ফেরানো অত্যন্ত জরুরি।

সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এখন পরীক্ষায় পাস করার জন্যই মাঠে আসতে হবে। এটি একটি কঠোর কিন্তু ইতিবাচক পদক্ষেপ। নির্দিষ্ট শিক্ষকের অধীনে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে ট্রেনিং সেশনে অংশ নিতে হবে।’

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে সরকারের বিশদ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম মৌসুমের জাতীয় পর্বের খেলাগুলো শেষ হবে।

এর পরপরই সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় মৌসুম। এই মৌসুমে দেশের সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে খেলা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই আসরে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা এতে অংশ নিতে পারবে। খেলার মধ্যে থাকবে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা এবং মার্শাল আর্ট। ইউনিয়ন পর্যায়ে হাজার হাজার দল গঠন করা হবে।

খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ও পেশাদারি নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান, আগামী জুলাইয়ের পর আরও ২০০ জন খেলোয়াড়কে সরকারি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এর ফলে সব মিলিয়ে দেশের প্রায় ৫০০ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা ও বিশেষ ‘ক্রীড়াকার্ড’ প্রদান করা হবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। যৌথভাবে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে শিগগিরই মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এই সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় দেশের ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ১৪টি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত