Ajker Patrika

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা হচ্ছে, থাকবে কিউআর কোড ও রুট নির্ধারণ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ০২
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা হচ্ছে, থাকবে কিউআর কোড ও রুট নির্ধারণ
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নীতিমালা কার্যকর হলে অনুমোদিত অটোরিকশাগুলোকে নম্বরপ্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। চালকদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের পর লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি কোন সড়কে এসব যান চলতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেহানা আক্তার রানুর নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রেহানা আক্তার রানু।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর কিছু এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা বসানোর পর লাল বাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। কিন্তু অটোরিকশায় নম্বরপ্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও এগুলোর বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি তুলে ধরেন।

রানু বলেন, রাজধানীর প্রধান সড়কে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করছে। এগুলোর কাঠামোগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে কম ভাড়া ও সহজে পাওয়া যায় বলে এসব যান অনেক মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অটোরিকশায় নম্বরপ্লেট যুক্ত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দেওয়া এবং পুরো ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার দাবি জানান রানু।

প্রধান সড়কে অননুমোদিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও একই ধরনের বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান গত এক দশকে শহর ও গ্রামের পরিবহনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া ও স্বল্প দূরত্বে সহজ যাতায়াতের পাশাপাশি এই খাত চালক, মালিক, গ্যারেজশ্রমিক, ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবাদাতাসহ অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। নিয়ম ভাঙা অটোরিকশা আটক ও ডাম্পিং করা হচ্ছে।

অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ ব্যবহারকারী রিকশা গ্যারেজের বিরুদ্ধেও ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসি যৌথ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এর ধারাবাহিকতায় রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।

পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও এআই ক্যামেরা বসানোর কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘নিষিদ্ধ বলিনি, নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছি’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে রেহানা আক্তার রানু জানান, তাঁর নোটিশে অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার যে বিষয়, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ বলিনি। আমি বলেছি চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে।’ রানু বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন নতুন অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে এবং এসব যান চার্জ করতে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এই খাতে অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া যান জব্দ, ডাম্পিং বা চালকদের হয়রানি করা ঠিক হবে না বলে মত দেন তিনি। প্রধান সড়কের বদলে ভেতরের সড়কে অটোরিকশা চলার ব্যবস্থা, বৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগে চার্জিং, বিআরটিএ নিবন্ধন ও এলাকাভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন রানু।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা ও বিধি প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে হয়েছে এবং তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকবে। প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি তাদের জন্য নির্দিষ্ট রুট ঠিক করা হবে।

কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে ব্যবহৃত লেড-এসিড ব্যাটারির অনিয়ন্ত্রিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ পরিবেশদূষণের কারণ হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত রাখা হবে। ব্যাটারির সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে যাতে একাধিক অটোরিকশা চালানো না যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখা হবে।

অবৈধ চার্জিংয়ের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে চার্জিং স্টেশন চালানোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু লোকও জড়িত। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, যান চলাচলের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সব দিক বিবেচনায় নিয়েই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত