Ajker Patrika

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৪৪
বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সিজিএস আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর তৃতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: আজকের পত্রিকা

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে বাংলাদেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে হবে।

আজ সোমবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বও ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। তাই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সুযোগে পরিণত করতে হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সমুদ্রপথ ও দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর সংযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ চায়, এটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে থাকুক; সংঘাতের মঞ্চে পরিণত না হোক।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় উন্নয়নের অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করাও এর লক্ষ্য। পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখে না বাংলাদেশ। যেখানে স্বার্থের মিল রয়েছে, সেখানে সহযোগিতা ও মতপার্থক্য থাকলে সংলাপের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতিকে এখন আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজার, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো কূটনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশের পণ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটকেও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে মানবিক সহায়তা এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়; এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াবে না, বরং তা গঠনে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে শান্তির অংশীদার, আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্র, বিনিয়োগের গন্তব্য ও বৈশ্বিক দক্ষিণের দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত