Ajker Patrika

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডরে আগ্রহ বেইজিংয়ের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১৭: ২৬
বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডরে আগ্রহ বেইজিংয়ের
আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে সংযোগকারী প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর’ (সিএমবিইসি) উন্নয়নে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং। আজ শুক্রবার বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই আগ্রহের কথা জানায়। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন তাদের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে যুক্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরের কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে ইচ্ছুক। এর পাশাপাশি দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গ্রিন অ্যান্ড লো কার্বন ডেভেলপমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ খোঁজার বিষয়ে একমত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপকে যুক্ত করার লক্ষ্যে সি চিন পিংয়ের ফ্ল্যাগশিপ অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগ দেয় বাংলাদেশ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সমর্থন

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন তাঁর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ বন্দর এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিস্তা নদীর ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার (তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যাকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন তার সাধ্যমতো এই প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

এর আগে আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নে তিনি চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।

মিডিয়া পুলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সি চিন পিংকে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমরা আমাদের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে আপনাদের সহায়তা কামনা করছি।’ বিশেষ করে বাংলাদেশের তাজা আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জলজ পণ্য (মাছ ও হিমায়িত খাদ্য), কাঁচা চামড়া এবং ওষুধ সামগ্রী (ফার্মাসিউটিক্যালস) চীনের বাজারে বেশি পরিমাণে রপ্তানির সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান শিল্প ইউনিটগুলোর আধুনিকায়নেও চীনের সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী।

চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীন বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনেছে। যার মধ্যে পরচুলা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ১৫৩ মিলিয়ন ডলারের মানুষের চুল, ৮০ মিলিয়ন ডলারের সুতা এবং ৭৮ মিলিয়ন ডলারের পাটজাত পণ্য ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এই খাতে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এর আগে বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর চীনের ঋণের পরিমাণ ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং বেইজিং-ভিত্তিক এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) আরও ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। এর বিপরীতে ভারতের ঋণের পরিমাণ মাত্র ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার অর্ধেকই গেছে জ্বালানি খাতে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে ঋণ ও বিনিয়োগে চীন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চিম লি। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বর্তমানে চীন এমন কৌশলগত পরিবহন করিডরে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যেগুলোর বিস্তৃত আঞ্চলিক সম্ভাবনা রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্য এশিয়া বা মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত