জাহীদ রেজা নূর, ঢাকা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি কখনো গ্রেপ্তার এড়াতে চাননি। যা হবে সামনাসামনি হবে—এই ছিল তাঁর মনোভাব। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালেই দেখা যাবে, শুধু একবার তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়েছিলেন এবং সেটাও নিজের ইচ্ছেয় নয়, মওলানা ভাসানীর অনুরোধে। এবং বিস্ময়কর ব্যাপার, মওলানা ভাসানীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বলেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ১৯৩৮ সালে। তখন তাঁর বয়স ১৮। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মামলায় পড়েন। পুলিশ ডাকা হয়, মামলা করা হয়। তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু পালাননি। তাঁর এক হিতাকাঙ্ক্ষী বলেছিলেন, ‘মিয়া ভাই, পাশের বাসায় একটু সরে যাও না।’
শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘যাব না, আমি পালাব, লোকে বলবে আমি ভয় পেয়েছি।’ পালাননি তিনি। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, তিনি সত্যের পক্ষে আছেন।
প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে খাদ্য সমস্যা ও রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। এ জন্য আগেই টেলিগ্রাম করেন। লিয়াকত আলী খান এর উত্তর দেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৯ সালের ১১ অক্টোবর আরমানিটোলা মাঠে সভা হলো। এরপর শোভাযাত্রা শুরু হতেই ধরপাকড়। মওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার হতে নিষেধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্য তা ছিল মনঃপীড়ার কারণ। তিনি লুকিয়ে ছিলেন দুই দিন। দেখা হলেই মওলানা ভাসানীকে তিনি কী জিজ্ঞেস করবেন, তা ঠিক করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু পালিয়ে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি গোপন রাজনীতি পছন্দ করেন না, বিশ্বাসও করেন না। এ কারণেই মওলানাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ব্যাপার, কেন পালিয়ে বেড়াব?’ এই একটিমাত্র ঘটনা ছাড়া বঙ্গবন্ধু আর কখনো গ্রেপ্তার এড়াননি।
১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটানা ৭৮৭ দিন জেলে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এর মধ্যে ছিল ভাষা আন্দোলন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে ৯২-ক ধারার শাসন প্রবর্তনের পর ধরপাকড় শুরু হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘জেলে অনেকের যেতে হবে। তবে প্রতিবাদ করে জেল খাটাই উচিত।’ এরপর তিনি নিজে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেছেন পুলিশ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।
আইয়ুব খান ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার পর ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর আবার গ্রেপ্তার হন। মুক্ত হন ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি। এরপর ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হন। মুক্তি পান ১৮ জুন। এরপর ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন। এটা নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেন বটে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনের দিকে তাকালে বলা যায়, তিনি মূলত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেছেন। ফলে রাজনীতির ভাষা হিসেবেই গ্রেপ্তারবরণকে দেখেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি কখনো গ্রেপ্তার এড়াতে চাননি। যা হবে সামনাসামনি হবে—এই ছিল তাঁর মনোভাব। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালেই দেখা যাবে, শুধু একবার তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়েছিলেন এবং সেটাও নিজের ইচ্ছেয় নয়, মওলানা ভাসানীর অনুরোধে। এবং বিস্ময়কর ব্যাপার, মওলানা ভাসানীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বলেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ১৯৩৮ সালে। তখন তাঁর বয়স ১৮। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মামলায় পড়েন। পুলিশ ডাকা হয়, মামলা করা হয়। তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু পালাননি। তাঁর এক হিতাকাঙ্ক্ষী বলেছিলেন, ‘মিয়া ভাই, পাশের বাসায় একটু সরে যাও না।’
শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘যাব না, আমি পালাব, লোকে বলবে আমি ভয় পেয়েছি।’ পালাননি তিনি। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, তিনি সত্যের পক্ষে আছেন।
প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে খাদ্য সমস্যা ও রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। এ জন্য আগেই টেলিগ্রাম করেন। লিয়াকত আলী খান এর উত্তর দেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৯ সালের ১১ অক্টোবর আরমানিটোলা মাঠে সভা হলো। এরপর শোভাযাত্রা শুরু হতেই ধরপাকড়। মওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার হতে নিষেধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্য তা ছিল মনঃপীড়ার কারণ। তিনি লুকিয়ে ছিলেন দুই দিন। দেখা হলেই মওলানা ভাসানীকে তিনি কী জিজ্ঞেস করবেন, তা ঠিক করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু পালিয়ে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি গোপন রাজনীতি পছন্দ করেন না, বিশ্বাসও করেন না। এ কারণেই মওলানাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ব্যাপার, কেন পালিয়ে বেড়াব?’ এই একটিমাত্র ঘটনা ছাড়া বঙ্গবন্ধু আর কখনো গ্রেপ্তার এড়াননি।
১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটানা ৭৮৭ দিন জেলে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এর মধ্যে ছিল ভাষা আন্দোলন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে ৯২-ক ধারার শাসন প্রবর্তনের পর ধরপাকড় শুরু হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘জেলে অনেকের যেতে হবে। তবে প্রতিবাদ করে জেল খাটাই উচিত।’ এরপর তিনি নিজে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেছেন পুলিশ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।
আইয়ুব খান ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার পর ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর আবার গ্রেপ্তার হন। মুক্ত হন ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি। এরপর ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হন। মুক্তি পান ১৮ জুন। এরপর ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন। এটা নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেন বটে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনের দিকে তাকালে বলা যায়, তিনি মূলত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেছেন। ফলে রাজনীতির ভাষা হিসেবেই গ্রেপ্তারবরণকে দেখেছেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করা হবে।
১ ঘণ্টা আগে
নিরাপত্তার বিবেচনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি।
৯ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে গত জুলাইয়ে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল কমিশন। আগের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কাজ যথাসময়ে শেষ করতে পারেনি ইসি। এর মধ্যে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস ছিল অন্যতম।
১২ ঘণ্টা আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে সঙ্গে তাঁরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে