Ajker Patrika

লোকসান কমাতে সমঝোতার চেষ্টা করছি: বিদ্যুৎমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
লোকসান কমাতে সমঝোতার চেষ্টা করছি: বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ খাতের পাহাড়সম লোকসান কমাতে এবং গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ না দিতে বিদ্যুতের দাম নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চিন্তা করছে সরকার। এ ছাড়া সিস্টেম লস কমিয়ে এনেও কিছুটা স্বস্তি দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের বিদ্যুৎ খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার দায় সৃষ্টি হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৮ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। দৈনিক লোডশেডিং প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বাড়তি বিদ্যুৎ যোগ করতে গিয়ে সেখানে অনেক দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নতুন বিদ্যুৎমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে। আমি মনে করি, ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো। বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না, সেখানে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হযবরল অবস্থা।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৪ সালে নীতিমালা করেছিলাম, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশীদারত্ব থাকবে ৩৫ শতাংশ আর সরকারি থাকবে ৬৫ শতাংশ। পরবর্তী সরকার এটা মানেনি। এখন বেসরকারি অংশ হয়ে গেছে ৮২ শতাংশ। যে কারণে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা জনগণের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে গেছে। এত টাকা দায়, ম্যানেজ করা কঠিন। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারব না। আমরা চেষ্টা করছি, উইন উইন সিচুয়েশনে আনতে হবে।’

সিস্টেম লস কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে দেখছি, ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। ১ শতাংশ সমান ৫০ লাখ টাকা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসে। আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি; যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়। যদি সিস্টেম লস কমিয়ে আনা যায়, তাহলে অনেকটা সহজ হয়।’

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অনুরোধ

আগের মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে উদ্দেশ্যমূলক সাংবাদিকতার শিকার হয়ে কারাবাস ও সম্পদ ধ্বংস হওয়ার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আশা করছি, এমনটি আর কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে হবে না।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘তোমরা খাম্বা কেনার কথা লিখছ, কিন্তু ট্রান্সফরমার, তার, কনস্যুলেটর কেনা সেগুলোর কথা সাংবাদিকেরা লেখে নাই। এমন জার্নালিজমের ভিকটিম আমি হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ে বারবার তদন্ত করেও কোনো দুর্নীতি খুঁজে পায়নি। অথচ আমাকে এক-এগারোর সময় ধরে নিয়ে যায়। তোমাদের লেখার কারণে আমার পুরো এম্পায়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। প্লিজ, আমার জন্য লিখেছ আর কোনো মন্ত্রীর জন্য এভাবে লিখো না। নেগেটিভ নিউজে কাটতি বাড়তে পারে, কিন্তু জাতির কোনো লাভ হবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত