Ajker Patrika

আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই: বিএনপির এমপির উদ্দেশে স্পিকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৮: ০৭
আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই: বিএনপির এমপির উদ্দেশে স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাজেটের কোনো কথা বলেননি বিএনপি (জামালপুর-২) দলীয় সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু। তাঁর বরাদ্দ হওয়া প্রথম সাত মিনিটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা, বৃদ্ধাশ্রম ও নিজ নির্বাচনী এলাকা নিয়েই কথা বলেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় এমনটি ঘটে।

জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুকে বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিতে সাত মিনিট সময় বরাদ্দ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সুলতান মাহমুদ বাবু প্রথম সাত মিনিটে বিএনপি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং নিজ এলাকা নিয়ে কথা বলেন।

একপর্যায়ে সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে ফিরে যেতে চাই।’ স্পিকারের কাছে সময় বাড়ানোর আহ্বান করেন সুলতান মাহমুদ বাবু। এ সময় স্পিকার বলেন, ‘আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই। দুই মিনিটে আপনার বক্তব্য শেষ করুন।’

পরে সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘আমার এলাকার মানুষ তিন-তিনবার এই মহান সংসদে পাঠিয়েছে ভোটের মাধ্যমে। এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়। ওই এলাকার মানুষের জন্য ৭১ বিধিতে এবং পরে যদি সময় পাই, ওই এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলব।’

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় টিভি স্ক্রিনে নাম লেখার নির্দেশনা স্পিকারের

এর আগে অধিবেশনে দিনের কার্যক্রমের শুরুতে স্পিকার জানান, দ্বিতীয় অধিবেশনে এখন পর্যন্ত বিশেষ অধিকার প্রশ্নের বিষয়ে ছয়টি নোটিশ দেন সংসদ সদস্যরা। যেগুলোর সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার।

নোটিশে জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে মাননীয় সংসদ সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া খুবই প্রয়োজন। প্রায় চার মাস হতে চলল, কিন্তু বেশি সংসদ সদস্যদের চেনা-জানা হয়নি। অনেক সময় চেহারা চিনলেও নাম ও সংসদীয় এলাকা জানা যায় না। যখন টেলিভিশনে সংসদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, তখন শুধু ছবি দেখা যায়, বক্তৃতা শোনা যায়। এখন থেকে যখন দৃশ্য দেখানো ও প্রচারকাজ চলবে, তখন ছবি ও চেহারার সঙ্গে টেলিভিশন স্ক্রিনের সঙ্গে তাঁর নাম ও সংসদীয় এলাকা ভেসে উঠলে সবার সঙ্গে পরিচিতি সহজ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মুজিবুর রহমান।

জবাবে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যের বিষয়টি খুবই যুক্তিযুক্ত। আমি সংসদ সচিবালয়কে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।’ তবে বিষয়টি সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সংসদ সচিবালয়-সম্পর্কিত। তাই নোটিশটি গ্রহণ করেননি।

নোটিশে জামায়াতের এমপি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্তরে ফাটল নজরে পড়েছে বিধায় ছাদ ও অন্যান্য অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়া এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নের জায়গা, এর মর্যাদা ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখা দায়িত্ব।

জবাবে স্পিকার বলেন, ‘নোটিশটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ তবে নোটিশটি সংসদ সচিবালয়সংক্রান্ত হওয়ায় গ্রহণ করেননি স্পিকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত