মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

সারা বিশ্বের মাতৃভাষা সংরক্ষণ, গবেষণা ও বিকাশে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। সিকি শতাব্দী পেরিয়ে হিসাব কষে দেখা যাচ্ছে, মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশের তুলনায় কর্মশালা, সেমিনার ও দিবসকেন্দ্রিক উদ্যাপনের মতো কাজেই বেশি সময় ও সামর্থ্য ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশে একে আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২৫ বছরে ভাষা সংরক্ষণ, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।
প্রতিষ্ঠানটির নিজেদের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গবেষণা ও ভাষা সংরক্ষণের কিছু কাজ করেছে। তবে দৃশ্যত বেশির ভাগ কাজ হয়েছে কর্মশালা, সেমিনার, দিবসকেন্দ্রিক উদ্যাপনের মতো খাতে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলা-ইংরেজি গবেষণা সাময়িকী, শব্দকোষ, একুশের স্মরণিকা প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া বের করেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘ককবরক ভাষার কবিতা সংকলন’, ‘চাক বাংলা অভিধান’, ‘বাংলাদেশের খোট্টা উপভাষা’ ইত্যাদি বই।
ভাষাবিষয়ক গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউটের বৃত্তি রয়েছে। এর আওতায় গবেষকেরা ভাষা নথিভুক্ত- করণ, ভাষার হারিয়ে যাওয়া উপাদান সংরক্ষণ এবং অভিধান তৈরি নিয়ে কাজ করছেন। পোস্ট ডক, পিএইচডি, এমফিল, ফেলোশিপ ও প্রফেশনাল—এই পাঁচ ভাগে গবেষণার কাজ চলে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গবেষণা বৃত্তির জন্য ১২ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ অর্থবছরে ১২টি কর্মশালা, ১৭টি প্রশিক্ষণ এবং ৫টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বইমেলায় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন, লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইনস্টিটিউট।
প্রবাসী দুই বাংলাদেশিসহ একদল ভাষাপ্রেমীর উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সেই ঘোষণার ফলে পরে বিশ্বের বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের উপস্থিতিতে ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ইউনেসকোর ক্যাটাগরি-২ ইনস্টিটিউটের স্বীকৃতি পায়।
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন-২০১০ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২৩টি দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে প্রথমে রয়েছে—‘দেশে ও দেশের বাইরে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ’। দ্বিতীয় হলো—‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও ক্ষুদ্র জাতিসমূহের ভাষা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, এ-সংক্রান্ত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা’।
প্রথম দুটি কাজের পরিসরই বিশাল। কিন্তু গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার বাজেট ছিল মাত্র ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য একটি কাজ ভাষাগত নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা। ২০১৩ সালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এ সমীক্ষার কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে এ সমীক্ষার মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ হয়। গবেষণায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ১৫টি ভাষাকে বিপদাপন্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মুন্ডারি, কোল, খুমি, পাংখোয়া, রেংমিৎচা, লুসাই, সৌরা, কোদা, মাল্টো, কোন্দো, চাক, কিয়াং, কাহরিয়া, দেশওয়ালি ও লালেং/পাট্রা। জানা গেছে, এর মধ্যে কয়েকটি ভাষা সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। নৃগোষ্ঠীগুলোর কয়েকটি ভাষার নিজস্ব বর্ণমালাও নেই। কোনো কোনোটি বলতে পারা লোকের সংখ্যা নিতান্ত কম এবং ক্রমেই আরও কমে যাচ্ছে। এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না গেলে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ভাষার লিপি উদ্ধার, লিপি না থাকলে নতুন লিপি প্রণয়ন এবং সংরক্ষণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ বৃহস্পতিবার বলেন, ভাষা সংরক্ষণ, গবেষণা ও বিকাশে তাদের বেশ কিছু কাজ চলমান। এই মুহূর্তে তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, নামটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট বলে শুধু দেশের গণ্ডির মধ্যকার ভাষা নয়, বাইরের বিশ্বের ভাষাগুলো নিয়েও কাজ করার কথা এ প্রতিষ্ঠানের।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও লেখক মফিদুল হক বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সব ভাষা নিয়েই কাজ করার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ শুধু বাংলাই না, পৃথিবীর সব ভাষা নিয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বেই অনেক ভাষা বিলুপ্তপ্রায় বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এগুলোর লাল তালিকা করা দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ ভাষা সংরক্ষণের জন্য যা করা হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়। আরও উদ্যোগী হওয়া দরকার।’

রাজধানীর মিরপুর ১-এ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতেই নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে স্থাপনা ভেঙে
৩ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন হবে ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। বিকেল সাড়ে ২টায় ১২টি থিমেটিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
ফ্যাসিবাদের শক্তিকে গোপনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের মাঠপর্যায়ের কিছু সদস্য দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন, এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। লোয়ার লেভেলে, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করার, অবহেলা...
৬ ঘণ্টা আগে
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
৭ ঘণ্টা আগে