Ajker Patrika

বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে কাজ করবে ইইউ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে কাজ করবে ইইউ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের বৈঠক।

বাংলাদেশ থেকে কর্মীদের বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমানো, অনিয়ম বন্ধ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনেও বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার। রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে আসে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা যাতে বৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ এবং বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইইউ। এ ছাড়া বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেনিং ফাউন্ডেশন’ আনার পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত নৈতিক অভিবাসন (ইথিক্যাল মাইগ্রেশন) উৎসাহিত করা এবং বিদেশ যেতে উচ্চ ব্যয়ের প্রবণতা বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৈধ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। ইইউ রাষ্ট্রদূত শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন করার স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিতভাবে কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান।

বৈঠকে ইইউ মিশনের প্রথম সচিব লরা কার্টানিয়া ল্লাচ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সিংহ ও মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত