
বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের অনেকের ব্যাপক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প নিয়েছিল তৎকালীন কে এম নূরুল হুদার নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সেই নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। ইভিএম কোথায় রাখা হবে, প্রকল্পে তা ছিল না। এ কারণে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ওয়্যারহাউসের (গুদাম) বকেয়া ভাড়ার টাকাও দেওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইভিএম বুঝে নিয়ে ওয়্যারহাউস খালি করতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিএমটিএফ।
এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পটির সময় শেষ হয়ে গেছে গত ৩০ জুন। অব্যবহৃত রয়ে গেছে প্রকল্পের ১১৬ কোটি টাকা, যা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিএমটিএফের দাবি, ভাড়া বাবদ ইসির কাছে তারা ৬০ কোটি টাকা পায়। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং প্রকল্প পরিচালক বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটি নেওয়ায় রাষ্ট্রের বিপুল অঙ্কের অর্থ কার্যকর ব্যবহার হয়নি।
বিএমটিএফ ওয়্যারহাউস খালি করতে বললেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের পদ শূন্য থাকায় ইসি সচিবালয় কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। তাই প্রকল্পের মেয়াদ আরেকবার বাড়াতে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয়বার পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছেন ইসি সচিব শফিউল আজিম। প্রসঙ্গত, বর্ধিত মেয়াদ শেষের চার দিন আগে গত ২৬ জুনও একই অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল ইসি।
ইভিএম প্রকল্প নিয়ে কথা হলে সচিব শফিউল আজিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টা শেষ করতে চাচ্ছি। আমাকে প্রকল্পটি বুঝে নিতে হবে। এ কথাগুলোই আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। বিএমটিএফের গুদামের ভাড়ার বিষয়টি সেটেল (ফয়সালা) করতে হবে। আমি দেব কীভাবে?’
বকেয়া ভাড়ার জন্য তাগাদা এবং ওয়্যারহাউস খালি করার চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন শফিউল আজিম।
তিনি জানান, পরিকল্পনা কমিশনে লেখা চিঠিতে তাঁরা ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর জন্য বলেছেন। এখন এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।
সচিব বলেন, ইসির নিজস্ব ওয়্যারহাউস থাকলে সেখানে ইভিএমগুলো রাখা যেত। তিনি বলেন, ইসির ১০ অঞ্চলের ডিসিদের ওয়্যারহাউসের জায়গা বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
প্রকল্পের আওতায় কেনা দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে ৮৬ হাজার ৫৭৮টি বিএমটিএফে, ৬২ হাজার ৭৬৩টি ইসির মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে এবং ৬৫৯টি নির্বাচন ভবনের কাস্টমাইজ সেন্টারে সংরক্ষিত আছে। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইভিএমগুলো সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রকল্প দপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ না থাকায় এগুলো বুঝে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিছু অডিট আপত্তিও রয়েছে, যা প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই নিষ্পন্ন করা প্রয়োজন ছিল। কিছু ইভিএম নষ্ট অবস্থায় রয়েছে, যা মেরামতযোগ্য। কিছু ইভিএম একেবারে অচল। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন না থাকায় ইভিএমগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
ইভিএমের সোর্স কোড ক্রেডেনশিয়াল সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর সামগ্রী বুঝে নেওয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পের আওতায় অনিয়মিত শ্রমিক মজুরি বাবদ কিছু বিল পরিশোধ বাকি রয়েছে। কর্মকর্তারা এসব কারণে ব্যয় না বাড়িয়ে হলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে বলছেন। তাঁরা এ-ও বলছেন, প্রয়োজনে প্রকল্পের খরচ না হওয়া আনুমানিক ১১৬ কোটি টাকায় বাড়তি মেয়াদের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।
গুদামের ভাড়া বাবদ ৬০ কোটি টাকা বকেয়া হওয়ার কথা নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ইভিএম প্রকল্পটি পরিকল্পিতভাবে নেওয়া হয়নি। যদি অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া হয়েও থাকে, পরে অনেক সময় ছিল তা ঠিক করার। আগের ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম প্রকল্প শেষ করে দেবেন বললেও এর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে বর্তমান সচিব এসে ব্যয় না বাড়িয়ে এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। সাবেক সরকারের পক্ষ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, আগামীতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনবিষয়ক সংস্কার কমিশন থেকে এখনো কিছু বলা হয়নি। তবে সুষ্ঠু, কারচুপিমুক্তভাবে দেশের প্রত্যেক মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইভিএমের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি। সোর্স কোড দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, নভেম্বরের মধ্যেই প্রকল্প ইসিকে বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইভিএমের অবস্থা এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ
প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গত জুন পর্যন্ত যে নির্বাচন হয়েছে, তখনকার হিসাবে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মেশিন ওয়ার্কিং কন্ডিশনে (কার্যোপযোগী) ছিল। ২০-৩০ হাজার ব্যবহারের অনুপযোগী, যেগুলো আর ঠিক করা যাবে না। আর বাকিগুলোর বেশির ভাগের টাইমারে সমস্যা, সেগুলোর সমাধান আমরা পেয়েছি। এ ছাড়া ব্যালট ইউনিটের সমস্যার বিষয়ে বিএমটিএফকে জিজ্ঞেস করতে হবে, মেরামতের খরচ কী রকম আসে।’
প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়ানো হলে রাষ্ট্রের টাকা একপ্রকার গচ্চা গেল মনে করেন কি না, এ প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘এই টাকা তো আর কোনো কিছুতে কার্যকরভাবে লাগেনি। এতে আসলে সেই অর্থে কোনো উপকার পাওয়া যায়নি।’
কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান আরও বলেন, প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি পরিকল্পনার পর ঠিকঠাক করে রাখার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কেউই দেয়নি। এটি নিয়ে কারও কোনো উৎসাহ নেই, কেউ জানতে চায় না।
তাহলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ হবে কি না, এটি জানতে চাইলে রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ালে যদি এক-দেড় মাসের মধ্যে টাকা দেয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এগুলো আমলাতান্ত্রিক বিষয়। চিঠি যাবে, অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে টাকা আসবে, টাকা কবে দেবে—এসব করতে করতে আরও লম্বা সময় লাগবে। আমার মনে হয় কোনো লাভ নেই।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমগুলো মেরামতে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা লাগবে বলে বিএমটিএফ জানিয়েছে।
ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভাবনা কী অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সচিব শফিউল আজিম বলেন, ‘আমাদের এখনকার ভাবনা হচ্ছে প্রকল্পটি বুঝে নেওয়া। একটি প্রকল্প শেষ হলে তা বুঝে নেওয়ার ব্যাপার থাকে। নতুন কমিশন এলেও কমপক্ষে ছয় মাস লাগবে এটি বুঝে নিতে। যন্ত্রগুলো রাখবে, না ফেলে দেবে; তা সরকার বা কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আপাতত আমরা শুধু প্রকল্পটা বুঝে নিতে চাচ্ছি।’

সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
২৬ মিনিট আগে
জাতীয় নির্বাচনের পর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার পর্যটন ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা পরিষেবা ‘পুরোপুরি সচল’ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সিনিয়র কনস্যুলার অফিসার অনিরুদ্ধ রায়।
৩৬ মিনিট আগে
নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। কার্ড নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের মেয়াদ বাড়াতে চান কয়েকজন রাজনীতিবিদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল থাকবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে...
১০ ঘণ্টা আগে