Ajker Patrika

আলোচিত ভূমি কর্মকর্তা সেতাফুলের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আলোচিত ভূমি কর্মকর্তা সেতাফুলের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন
মো. সেতাফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএ শাখা) মো. সেতাফুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা মাহাথীর মুহাম্মদ সামী শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন।

দুদক সূত্র বলেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকাকালে প্রচলিত বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক ও তারিখ ব্যবহার করে ভুয়া ‘নগদায়ন এডভাইজ’ প্রস্তুত করেন এবং নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে তা সরাসরি জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠান।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ তহবিলের এলএ চেকের মুড়ি ও প্রাপক অংশে ভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি না হওয়া সত্ত্বেও নিজের পরিচিত ও আত্মীয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভূমি অধিগ্রহণের চেক ইস্যু করা হয়।

দুদকের তদন্তে আরও জানা যায়, এসব অনিয়ম গোপন করতে সেতাফুল দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অফিসের বাইরে সরিয়ে ফেলেন এবং শ্রেডার মেশিন ব্যবহার করে সেগুলো ধ্বংস করেন। তদন্তকালে এলএ শাখার লেজার এবং জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের রেজিস্টারের তথ্য যাচাই করে মোট ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬ টাকার গরমিল পাওয়া যায়। এর মধ্যে পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলাম ছাড়াও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের তৎকালীন অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামান এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, কে এ আল মামুন, মো. কামরুজ্জামান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আনিছুর রহমান ও মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন শিমুলকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগে জিলন খাঁন ও আবদুল হামিদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার দুই আসামি আবুল কালাম ও রায়হান উদ্দিন মারা যাওয়ায় তাদের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০,৪০৯, ৪৬৭,৪৬৮, ৪৭১,৪৭৭ ক, ১২০খ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হঠাৎ বাড়তি রড-সিমেন্টের দাম

ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—নিশ্চিত করলেন দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিছানো শুরু ইরানের, নজিরবিহীন পরিণতির হুমকি ট্রাম্পের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত