
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পর কিছু অযাচিত সমালোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এই সমালোচনায় তিনি অসন্তুষ্ট নন। কিন্তু অসত্য খবর ছাপার কারণে অনেক সময় তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনঃক্ষুণ্ন হন। সমালোচনার কারণে সারা দেশে নিজের পরিচিতি বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ নিশ্চয় একদিন তাঁর ভালো দিকগুলো খুঁজে পাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রতিমন্ত্রী।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইউনিয়ন পরিশোধ চেয়ারম্যান, সেখান থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে সংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতৃভূমি বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে রয়েছেন মীর শাহে আলম। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি নানান কর্মকাণ্ডে বেশ সমালোচিত হচ্ছিলেন এই বিএনপি নেতা।
এর মধ্যে রয়েছে সংবাদ প্রকাশের জন্য স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের নামে মামলা, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের সম্পত্তি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া, নিজের সন্তানদের নামে ইউনিয়ন পরিশোধের নামকরণ। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করার আগেই নিজ থেকে প্রায় সব বিতর্কের ব্যাখ্যা দেন শাহে আলম। শেষে জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি নিজেও সাংবাদিক ছিলেন। শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই তিনি হারেননি বলে দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর উল্লেখ থাকায় এর সমালোচনা এবং নাকচ করেন শাহে আলম। বলেন, ‘তারেক রহমানের বন্ধু বলে কিছু কিছু মিডিয়ায় আসে। তারেক রহমানের জন্ম বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আমার জন্ম বেড়ে ওঠা বগুড়ার শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে ৯৩-৯৪ সালের আগে সাক্ষাৎই হয়নি। কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু আমি নই। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী। বগুড়া বাড়ি হওয়ার কারণে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয় সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে স্নেহ করেন, বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন। তাঁর সঙ্গে আমার বয়সেরও বড় তারতম্য রয়েছে।’
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘এক সময় সাংবাদিক ছিলাম। শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম প্রায় পাঁচ বছর। পরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর পেশা থেকে রিজাইন দিয়েছি। কোনো এক সময়ের সহকর্মী হিসেবে আপনাদের সহযোগিতা চাইতেই পারি।’
সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমালোচনাতে আমি খুব একটা অসন্তুষ্ট না। কারণ অনেকেই আমাকে চিনত না। আলোচনা ও সমালোচনার কারণে দেশবাসী আমাকে চিনেছে। আশা করি, তারা দেরিতে হলেও ভালো দিকগুলো খুঁজে নেবে।’
সাংবাদিকদের নামে মামলা এবং গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সত্য–মিথ্যা যোগ করে হাইপ তুলে কিছু নিউজ করা হয়। আমরা মাঝে মধ্যে হেয় প্রতিপন্ন হই। কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগে না। রাজনীতি করতে গেলে সমালোচনা হবেই। কিন্তু পরিবার আত্মীয়স্বজন নিতে পারে না। অনেক নির্যাতন, কারাবাস মোকাবিলা করে আমাকে রাজনীতি করতে হয়েছে। এই সুন্দর হাতটিতে একাধিকবার হ্যান্ডকাফ উঠেছে। জেলে রাখা হয়েছে পকেটমার, চোর ডাকাতদের সঙ্গে। সে কারণে আত্মীয়স্বজনরা অনেক সময় মিথ্যা নিউজ সহ্য করতে পারে না।’
নিজ মন্ত্রণালয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে খুব স্বচ্ছন্দে কাজ করছি। কারণ, আমার মন্ত্রী হচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে আমাকে ডাকেন। আমরা এক সঙ্গে পরিচালনা করছি। আর আমার নিরাপত্তার জায়গাটা হচ্ছে, ফাইল স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ জায়গা হচ্ছে মন্ত্রী। আমার নিরাপত্তা, দেওয়ালটা তো এখানে আছে। আমার ফাইল তো তাঁর কাছে যায়। যদি কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকলে তিনি তো দেখবেন। এই দিক থেকে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’
নিজ জেলায় হেলিপ্যাড, স্টেডিয়াম, উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য বিষয়ে প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা হচ্ছে, বিগত সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে তাঁর জেলা উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। বগুড়া জেলার নাগরিকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বগুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা যেখান দিয়ে ১১টি জেলার মানুষ চলাচল করে। বগুড়া যদি মেট্রোপলিটন পুলিশ হয়, বগুড়ায় যদি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হয় তা বগুড়াবাসীর জন্য আনন্দের হবে। বগুড়াবাসী যতবার সুযোগ পেয়েছে ততবার ধানের শীষকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে আমি কাজ করছি। বগুড়ার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু যেন হয় সেটাই প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন, বেশি নয়।’
নিজের পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সন্তানরা কিছু করলে সমালোচনা হয়। আমার নিজের সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। আমি তাঁকে বুঝিয়ে পদত্যাগ করিয়েছি। কিন্তু এই নিউজ কেউ হাইলাইট করেন না। বিগত ১৭ বছর আমাদের ছেলেরা কিছু করতে পারে নাই, আমাদের পরিচয়ের কারণে। এখন যদি তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো সামাজিক সংগঠনে আসে তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করা উচিত। বিরোধী দলে থাকলে সরকারের রোষানলে পড়বে আর সরকারে আসলে সবার রোষানলে পড়বে. . ।’
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পর সম্পদ ৮ গুণ বেড়েছে বলে যেই খবর প্রকাশ হয়েছে তাতে অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার পর আমার নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে। টাকার উৎস কী? ৪২ কোটি টাকায় একটি অটো রাইসমিল বিক্রি করলাম। আমার ১২-১৩টি ব্যবসা। সেখান থেকে কি আমার টাকা আসে না? সমাজের যে কোনো ব্যক্তিকে হেয়প্রতিপন্ন করার আগে তাঁর সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনেশুনে লেখা।’

রাজধানী ঢাকার পথচলতি মানুষের ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে ছিনতাই। নগরের ছিনতাইপ্রবণ বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ছিনতাই হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন সড়কে গত শনিবার প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনা ছিনতাইকারীদের বেপরোয়াভাবকেই সামনে এনেছে।
২৩ মিনিট আগে
সরকারি দরপত্রে সিন্ডিকেট ভাঙতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। খসড়াটি শিগগির সংসদে আসবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
৪ ঘণ্টা আগে
এখন ভাদ্র মাস। এ মাসে তাল পাকে। সেটা এমনি এমনি পাকে না, গরমের তীব্রতার কারণেই পাকে। সেই তাল পাকা গরমে দেশে বেড়েছে লোডশেডিং। ফলে, দিনে-রাতে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। সে সঙ্গে সন্ধ্যা নামার পর লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে অন্ধকার নেমে আসছে দেশের অনেক এলাকায়।
৫ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (১) হুমায়ুন কবির...
৫ ঘণ্টা আগে