Ajker Patrika

জাপানে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে চায় সরকার, চলছে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ

বাসস, ঢাকা  
জাপানে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে চায় সরকার, চলছে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ
জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে রোববার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: মন্ত্রণালয়

জাপানে দিনে দিনে জনসংখ্যা কমছে। এই অবস্থায় ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুব কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাব্য এই শ্রমবাজার ধরতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ জোরদার করতে আজ রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

সভায় জানানো হয়, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ২০টি কার্যক্রম সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জনগণের সমর্থনে ইশতেহারটি জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হওয়ায় এর বাস্তবায়নে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাপানে বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক কর্মী প্রেরণের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুব কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কীভাবে এ বিপুল যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে জাপানসহ অন্যান্য দেশে পাঠানো যায়- সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে জাপানে জনসংখ্যার বার্ধক্য ও যুব শ্রেণির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন নির্দিষ্ট ট্রেডে জনবল প্রয়োজন হচ্ছে। সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩৩টি টিটিসিতে জাপানমুখী ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু ছিল। বর্তমানে জাপানের চাহিদা বিবেচনায় আরও ২০টি টিটিসি যুক্ত করে মোট ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে জাপানি ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। এ সংকট নিরসনে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দেশের প্রায় ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জনশক্তি প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে কীভাবে সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জাপানের শ্রমবাজারে অন্যান্য দেশের আগেই বাংলাদেশ যেন শক্ত অবস্থান নিতে পারে, সে লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং দুই কর্মদিবস পর অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া জাপানে জনশক্তি প্রেরণ, প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার, প্রশিক্ষক ও অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত