Ajker Patrika

ইরান-কোরিয়ার মতো নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা তৈরিতে চলচ্চিত্র আর্কাইভ সাহায্য করতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইরান-কোরিয়ার মতো নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা তৈরিতে চলচ্চিত্র আর্কাইভ সাহায্য করতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি

ইরান-কোরিয়ার মতো নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা তৈরিতে চলচ্চিত্র আর্কাইভ সাহায্য করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে আজ রোববার আয়োজিত বাংলাদেশে ফিল্ম আর্কাইভের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা ‘‘ইরানিয়ান নিউ ওয়েভের’’ কথা জানি। যেখানে খুব কম বাজেটে, নিজস্ব একটা স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র ভাষা তৈরি করে পৃথিবীকে জয় করেছিল তারা—এবং সেটা মারাত্মক সীমাবদ্ধতার মধ্যে। ইরান যেহেতু খুবই নিয়ন্ত্রিত একটা দেশ, সেখানে স্ক্রিপ্টিং থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নানা রকম রেস্ট্রিকশন (বিধিনিষেধ) আছে। কিন্তু নিজের ঐতিহ্যের দিকে তাকিয়ে, সেটাকে সংরক্ষণ করে একটা ভিন্ন চলচ্চিত্র ভাষা তৈরি করা যায়, যেটা আসলে পৃথিবী জয় করে।’

একই ধারার কোরীয় চলচ্চিত্রের কথাও উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এই আর্কাইভটা আমাদের এই জায়গাটায় সাহায্য করতে পারে—আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখা। আমাদের ভবিষ্যতে যেসব গবেষক আছেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা আছেন, সেই নির্মাতারা এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের একটা স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র ভাষা তৈরি করবেন।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত দুটি মন্ত্রণালয় নিজেই পছন্দ করে নিয়েছেন বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে অন্য কিছু, অন্য মন্ত্রণালয়ের কথা প্রস্তাব করেছিলেন—যেগুলো কোট-আনকোট “মোর গ্ল্যামারাস” কারও কারও কাছে। কিন্তু আমি সেটা নিইনি, কারণ আমি মনে করি এই দুটো মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ করার স্কোপ আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আশা করি, যেসব ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবেই, এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী—তাঁর সঙ্গে আমি বসেছি, আমরা বসেছি, তাঁর খুবই আন্তরিক পরিকল্পনা আছে এই জিনিসগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।’

ফিল্ম আর্কাইভকে স্বাধীনতা পদক দিতে হবে, এই কথা আগের ডিজিদের কেন বলতে হয়—এমন প্রশ্ন রেখে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এই কথাটা তো জনগণের বলার কথা ছিল। আপনারা চেষ্টা করছেন, এই প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করছে। জনগণের সামনে কিন্তু এটা খুব বেশি প্রকাশ হয়নি। কিন্তু আমরা যদি প্রচুর সেমিনার করতে পারতাম, মানুষকে আরও ডাকতে পারতাম, ক্যাম্পেইন বাড়াতে পারতাম, তাহলে প্রতিষ্ঠানটা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারত।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলচ্চিত্র একটি জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি। দেশের অডিও ভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত আন্তরিক। চলচ্চিত্র সংরক্ষণ, ডিজিটালাইজেশন এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চলচ্চিত্র নির্মাতারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত