Ajker Patrika

নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার ও নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পুলিশের অধীনে বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজ শিশুদের স্বজনরা। তাঁরা বলেছেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত জিডি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হলে তাকে উদ্ধারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা না গেলে পুলিশ জিডি নিতে চায় না—এমন অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারবর্গের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও পুলিশ জিডি নিতে চায় না। অথচ যত দ্রুত জিডি নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে, তত বেশি শিশুকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের একটি বিশেষ সেল থাকা প্রয়োজন। এই সেলের মাধ্যমে নিখোঁজের পরপরই দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা গেলে অনেক শিশুকে পাচার বা অন্য কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর এক লাখ মানুষের পিটিশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহযোগিতায় এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন (মুন অ্যালার্ট) ও টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম চালু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ১৭ হাজার ৮০৮ টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০ টি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এ ধরনের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ৭১৭ টি। বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান। তিনি বলেন, ‘আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে কোনো শিশু নিখোঁজ হলে এম্বার এলার্ট হয়। সবার মোবাইলে চলে যায়, টিভি, রেডিও বিলবোর্ড সব জায়গায় প্রকাশ করা হয় যে এই শিশু মিসিং বা অপহরণ করা হয়েছে। তখন কেউ শিশুকে দেখে থাকলে পুলিশ বা এম্বার এলার্টে কল করে এরপর শিশুটি উদ্ধার হয়। আগে আমাদের কোনো প্লাটফর্ম ছিল না, তবে এখন মুন এলার্ট যেই একটি সংগঠন দাড়িয়েছে, এর মাধ্যমে আমরা নিখোঁজ শিশুদের জন্য কাজ করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত