Ajker Patrika

আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যাংকমালিকদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ২১
আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যাংকমালিকদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান
ছবি: বঙ্গভবন

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করার জন্য ব্যাংকমালিক ও ব্যাংকার্স নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) একটি প্রতিনিধিদল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা যখন গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি, তখন দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষমতাশালীদের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লাখ-লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাংকিং সেক্টর অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে উত্তরণ এবং দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গ্রাহক ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সরকার ও সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অবিশ্বাস্যভাবে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখলের ঘটনা ঘটেছে, জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এই উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের জন্য ব্যাংকমালিকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসুবিধা নিশ্চিত ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকের নির্বাহী প্রধানদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে ব্যাংকের নির্বাহীরা জানান, বিগত সময়ে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী ব্যাংকের টাকা পাচার করায় হাজার-হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হয়ে গেছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা দিতে না পারা তাঁদের জন্য অপমানজনক। দেশের মোট অর্থের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়। সে জন্য তাঁরা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যাংকের নেতারা ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা চালু, পরিশোধিত মূলধন ও লভ্যাংশ প্রদানে বিদ্যমান নিয়ম বহাল ও আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষার ওপর জোর দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত