
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে যোগ দিতে মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রায় ১০টার দিকে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁকে এ সময় অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী।
এর আগে ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারেড মাঠে পৌঁছান। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানেরা।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই কুচকাওয়াজে আরও উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানও।
এর পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি। জিপে তাঁর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক। এ সময় বাদ্য দল ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’ গানের সুর বাজাতে থাকে। রাষ্ট্রপতির প্যারেড পরিদর্শনের পর অধিনায়ক আবারো ঘোড়ায় আরোহণ করে রাষ্ট্রপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর অধিনায়ক কুচকাওয়াজ শুরুর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চেয়ে ঘোড়ায় চড়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। অধিনায়কের নেতৃত্বে প্রত্যেকটি দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শনের জন্য এগিয়ে আসতে থাকে।
মার্চপাস্টের প্রথমে থাকে বিভিন্ন পতাকাবাহী তিনটি দল বা কন্টিনজেন্ট। এরপর পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিতে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাঁজোয়া রেজিমেন্ট কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্টারি রেজিমেন্ট, আর্টিলারি কন্টিনজেন্ট, এয়ার ডিফেন্স কন্টিনজেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারস কন্টিনজেন্ট, সিগনালস কন্টিনজেন্ট, সার্ভিসেস কন্টিনজেন্ট। জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিনজেন্টের সদস্যরা এর পর রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানান। এই দলটি সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গ্যালারিতে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সালাম প্রদর্শন করেন।
পর্যায়ক্রমে প্যারা কমান্ডো কন্টিনজেন্ট, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, কারা পুলিশ, সম্মিলিত নারী কন্টিনজেন্ট ও মডারনাইজড ইনফ্যান্টারি কন্টিনজেন্টগুলো সালাম প্রদর্শন করে মার্চপাস্ট করে বেরিয়ে যায়। সেনা ও বিজিপির ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী কন্টিনজেন্টের পর এগিয়ে যায় খোলা গাড়িতে বহনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের কন্টিনজেন্ট। এরপরই ২৬ জন প্যারাট্রুপার ১০ হাজার ফুট ওপর থেকে মূল মঞ্চের দুদিকে প্যারেড গ্রাউন্ডে নামেন। এই ২৬ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা বহন করেন। প্যারা কমান্ডো টিমের প্যারাট্রুপার দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করেন। এর মধ্যেই উড়ে যায় আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান। পর্যায়ক্রমে উড়ে যায় আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার, বিজিবি এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, র্যাব এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, নেভাল অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার। এরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর ট্যাংক, কামানসহ ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়।
এবারের কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ বিমানবাহিনীর ‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ এই প্রতিপাদ্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারগুলোর বিভিন্ন ফরমেশনে উড্ডয়ন কৌশল প্রদর্শিত হয়। পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান বর্ণিল রং ছাড়তে ছাড়তে প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদক্ষিণ করে।
‘লো লেভেল’ ফ্লাইং বিমান প্রদর্শনীর বিমানবাহিনীর আধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্লাইং স্যালুট’ প্রদর্শন করে। এরপর কয়েক দফা টার্ন পারফরম্যান্স, লো লেভেল ফ্লাইংও প্রদর্শিত হয়। শেষে মূল মঞ্চের পেছন দিক থেকে এসে ‘ভিক্টরি রোল’ প্রদর্শন করে ওপরের দিকে মেঘের আড়ালে চলে যায় মিগ-২৯, যেটিকে ‘চূড়ান্ত প্রদর্শনী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত হয় এই কুচকাওয়াজ। ২০০৮ সালের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পর এ বছর ২৬ মার্চ কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হতো। তবে চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজই তাঁর গাড়ির স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাওয়া-আসার...
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সারা দেশের মানুষ অত্যন্ত আশাবাদী ও আস্থাশীল। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
৪ ঘণ্টা আগে
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে যোগ দিতে সকাল পৌনে...
৪ ঘণ্টা আগে
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণার প্রথম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের...
৪ ঘণ্টা আগে