
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রকোপের মাত্রা দৃশ্যত দিন দিন বাড়ছে। গত এক মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার ডেঙ্গু রোগী। এ সংখ্যা বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আট মাসের মোট রোগীর এক-তৃতীয়াংশ। সম্প্রতি রাজধানী এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটে রোগীর হার বেড়েছে। এসব অঞ্চলে বছরজুড়ে যতসংখ্যক রোগী হাসপাতালে এসেছে, তার প্রায় অর্ধেক এসেছে গত আগস্টে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রমণ-বিষয়ক হালনাগাদকৃত তথ্যে গতকাল রোববার জানানো হয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩১ হাজার ৪৭৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর মারা গেছে চিকিৎসাধীন থাকা ১২২ রোগী। শুধু সদ্য শেষ হওয়া আগস্টেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০ হাজার ৪৯৬ রোগী। এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে শুধু রাজধানীতে রোগী ভর্তি হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার। এর মধ্যে গত এক মাসে হাসপাতালে এসেছে ৩ হাজার। রাজধানীর বাইরে সারা দেশে মোট রোগী ২৩ হাজার ৮৮২ জন। এর মধ্যে গত মাসে সাড়ে ৭ হাজার রোগী ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরে রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগে সোয়া ৪ হাজার, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৫০, চট্টগ্রাম বিভাগে পৌনে ৫ হাজার, খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৭০০, রাজশাহী বিভাগে সোয়া ২ হাজার, রংপুর বিভাগে ২০০, বরিশাল বিভাগে ১০ হাজারের বেশি এবং সিলেট বিভাগে ১১৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসে রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগে রোগী বৃদ্ধির হার ৪৯ শতাংশ। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৪ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৩৬ শতাংশ, খুলনায় ৪০ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৪ শতাংশ, রংপুরে ৪৬ শতাংশ, বরিশালে ২২ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে রোগী বৃদ্ধির হার ৬২ শতাংশ। গত এক মাসে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুরে রোগী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।
কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামনের মাসগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে বর্তমানে ডেন-২ ও ডেন-৩ সংক্রমণ বেশি। তবে জিনগত গবেষণা না হওয়ায় মিউটেশন হচ্ছে কি না, তা জানা যাচ্ছে না। রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু বৃদ্ধির পেছনে দায়ী পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশদূষণ এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার বৃদ্ধি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়াতে পারে।
‘রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা ছাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন’
ডেঙ্গু রোগের অঞ্চলভিত্তিক রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা ছাড়া সংক্রামক এই রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন বলে মনে করছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক ডেঙ্গুর রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনার জন্য সরকারের উদ্যোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে বারবার বলা হয়েছে। দৃশ্যত সরকার ডেঙ্গুকে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা মনে করছে না। সরকারের দেখা উচিত, এডিস মশা বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে কি না। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর হার বেশি। যেসব দেশ মৃত্যু ও রোগ কমিয়ে এনেছে, তারা রোগতত্ত্বের জায়গায় গুরুত্ব দিয়েছে।’
‘মশা নির্মূলে যথাযথ কার্যক্রম নেই’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যথাযথ না হওয়ায় মশা নির্মূল করা যাচ্ছে না। মশা এখন পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হচ্ছে। পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় সদিচ্ছার অভাব থাকায় ডেঙ্গু সারা দেশে ছড়িয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রতিবছর সংকট সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি দেশে সব অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ছে। বৃষ্টির পর এডিস মশা ডিম পাড়ে, ডিম লার্ভায় পরিণত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পরিণত মশায় রূপ নেয়।
সিলেটে ডেঙ্গুর বিস্তার বাইরে থেকে?
সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. আনিসুর রহমান বলছেন, সেখানে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘সিলেট বিভাগের ডেঙ্গু রোগীদের বেশির ভাগই হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার। এটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাশে। এখানে ডেঙ্গু মূলত ঢাকা বা অন্যান্য বিভাগ থেকে আসা রোগীর মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনেও এত রোগী দেখা যায়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। পুরো বিভাগটিই পর্যটন অঞ্চল। মূলত পর্যটকদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। আমরা তাদের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি।’
রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা যে কারণে নেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ আজকের পত্রিকা'কে বলেন, ‘বর্তমানে (স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কর্মসূচির) অপারেশনাল প্ল্যান না থাকায় রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা কম হচ্ছে। তবে আইইডিসিআর গবেষণা করছে। সার্ভেও কয়েকটি হয়েছে। কয়েকটি চলছে। মশা বা মাছি নির্মূলের কাজ স্থানীয় সরকারের। আমরা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত দুই যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে ২০২৩ সালে। সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মারা যায় ১ হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১১ জন। ২০১৯ সালে প্রথম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু।

মামলায় শুধু আলকাছ মল্লিক (মাঝি) অপহরণ ছাড়া প্রতিটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। আর এই সাক্ষীরা আর কেউ নন, জিয়াউল আহসানের বাহিনীর, তাঁর অধীনস্থ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত তাঁরা (জিয়াউল আহসানের পক্ষে) দুজন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছেন।
৪৪ মিনিট আগে
২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নতুন এই বন্দর। ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধা থাকায় পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয়
২ ঘণ্টা আগে
দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের সারা দেশে আত্মশুদ্ধির...
৪ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, মব সৃষ্টি ও ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আজ রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে এই নিন্দা প্রকাশ করে সংস্থাটি।
৪ ঘণ্টা আগে