Ajker Patrika

গুপ্তরা কি স্বৈরাচারকে সুযোগ দিচ্ছে—প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ০৭
গুপ্তরা কি স্বৈরাচারকে সুযোগ দিচ্ছে—প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

স্বৈরাচারের সময়ে যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় লুকিয়ে ছিল, এখন তাদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের সব সংকটে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি, শহীদ জিয়া ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখনই বিএনপি তার হাল ধরেছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি, জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা রাজপথে ছিল। দেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, ততবারই বিএনপি সরকার গঠন করেছে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় যেমন গুপ্তরা লুকিয়ে ছিল, এখন কি সেই গুপ্তদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে, কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা দরকার। গুপ্তরা তাহলে কি স্বৈরাচারকে সুযোগ দিচ্ছে?’

বিএনপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ‘এই ভাইস ভার্সা গুপ্ত বাহিনী ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময় একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬;—গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও বিভিন্নভাবে তারা একে অন্যকে আড়াল করেছে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি আলোচনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, সো ইট ইজ ডান (এটি সুপ্রতিষ্ঠিত)। আইন-আদালত যা দিয়েই চেষ্টা করা হোক না কেন, কোনোভাবেই বিএনপিকে মুছে ফেলা যাবে না।’ তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর কোনো না কোনোভাবে বিএনপি নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপি রাজপথে ছিল, অন্য কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি। বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি। মানুষের অধিকার আদায়ে যা করেছে, তা রাজপথে বুক চিতিয়ে সোচ্চার থেকে করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণই সবকিছুর সাক্ষী, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল এবং বর্তমানেও আছে। আমরা অনেক কিছু চেয়েছি, কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে তা সফল করতে পারিনি। তারপরও সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে-দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার মতো যদি কোনো রাজনৈতিক দল থাকে, তার নাম বিএনপি।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দলের সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের লক্ষ্য দেশকে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালনা করা এবং মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখা। আমরা এখনো তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনায় সঞ্চালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনের যে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত