Ajker Patrika

বন্দীকে ব্রিজের রেলিংয়ে ঠেকিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করেন জিয়াউল: জবানবন্দি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বন্দীকে ব্রিজের রেলিংয়ে ঠেকিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করেন জিয়াউল: জবানবন্দি

বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের খুনের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া মেজর খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আওয়ামী লীগের দেড় দশকে শতাধিক মানুষকে গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

সাজ্জাদুল ইসলামের দাবি, র‍্যাবে যোগদানের প্রথম দিন রাতে ২০১১ সালের ১১ জুলাই তাঁকে একটি বিশেষ অভিযানে নিয়ে যাওয়া হয়। টঙ্গীর আহসানুল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার পার হয়ে ডানে গিয়ে তাঁদের গাড়ি ইউ টার্ন নিয়ে ভেতরের দিকে একটি ব্রিজে দাঁড়ায়। এরপর চোখ-হাত বাঁধা এক বন্দীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জিয়াউল আহসান ব্রিজের রেলিংয়ে মাথা ঠেকিয়ে গুলি করে নিচে ফেলে দেয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে র‍্যাবে যোগদানের পর ওই ঘটনা দেখে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন!

জবানবন্দিতে সাজ্জাদ বলেন, বর্তমানে তিনি একজন ব্যবসায়ী। আমি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৬ তম বিএমএ লং কোর্সে কমিশন লাভ করেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মেজর পদে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীতে থাকাকালে ২০১১ সালের ৫ জুলাই সরকারি আদেশে তাঁকে র‍্যাবে বদলি করা হয়। তখন র‍্যাব সদর দপ্তরে লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান ডাইরেক্টর ইন্টেলিজেন্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাজ্জাদ বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই প্রথম ঘটনা শেষে কিছু দূর যাওয়ার পর তাদের গাড়িগুলো আবার একটি ব্রিজের ওপর গিয়ে দাঁড়ায়। আবার সবাই গাড়ি থেকে নামে। জিয়াউল আহসান তাঁকে ইঙ্গিত করে বলে, ‘এখানে একটি সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশন হবে এবং তুমি সেটা করবে। আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, স্যার সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশন কী? কারা সন্ত্রাসী? তাদের অপরাধ কী? আমার এই কথা শোনার পর তিনি অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন। উপস্থিত ৬-৭ জনের সামনে তিনি চিৎকার করে আমাকে গালি দিতে থাকেন। এরপর আমাকে গাড়িতে গিয়ে বসতে বলেন। স্যারের এই কথা শুনে আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে গাড়ির ভেতর গিয়ে বসলাম। আমার সারা গায়ে ঘাম বের হচ্ছিল। আমি ভয়ে দোয়া-দরুদ পড়তে শুরু করলাম এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে শুরু করলাম। এর মাঝেই আমার কানে বাইরে থেকে একটি অস্পষ্ট আওয়াজ ভেসে অসলো। সেটি গুলির শব্দ বলেই মনে হলো। প্রায় ৮-১০ মিনিট পর বাকিরা সবাই গাড়িতে ফিরে অসলো এবং গাড়িগুলো আবার চলতে শুরু করল। এভাবে তিন জায়গায় গাড়ি থামে এবং অপারেশন শেষ করে।’

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, পরদিন ১২ জুলাই তাঁকে র‍্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে বদলি করে দেওয়া হয়। এরপর ৩-৪ দিনের ভেতর জাতীয় পত্রিকায় গাজীপুর, জয়দেবপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনটি লাশ পাওয়া গেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

সাজ্জাদ আরও বলেন, একজন সৎ, যোগ্য, মেধাবী এবং ন্যায়পরায়ণ অফিসার হওয়া সত্যেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তাঁর আর পদোন্নতি হয়নি। পরে ২০১৩ সালে অবসরের মেয়াদকাল ১২ বছর বাকি থাকতেই স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত