Ajker Patrika

সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের তথ্য দিল এফবিআই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩৪
সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের তথ্য দিল এফবিআই
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামান। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা, সম্পত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাওয়া পারস্পরিক আইনি সহায়তা বা এমএলএআরের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে এমএলএআর পাঠানো হয়েছিল। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এফবিআই প্রতিবেদন দিয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুয়া কোম্পানির নামে ব্যাংকঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও পরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে।

২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এরপর তাঁর সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। তদন্তের অংশ হিসেবে বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য পেতে বিভিন্ন দেশের কাছে এমএলএআর পাঠানো হয়।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া এফবিআইয়ের প্রতিবেদন এখন পর্যালোচনা করা হবে। প্রতিবেদনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদ, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ও পরবর্তী সময়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন, ব্যাংকঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুদক।

এদিকে বিদেশে পাচার করা অর্থ ও গোপন সম্পদের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আইনি সহযোগিতা নিচ্ছে দুদক। সংস্থাটি বলছে, বিদেশ থেকে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত