নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিগত সরকারের আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের হত্যার পর ঢাকার বাইরে দাফন করা হতো। রাজধানীর পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জে এ রকম কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছে গুমসংক্রান্ত কমিশন। ওই লাশের মাথায় গুলি ও দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে গুম করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হতো। হত্যার পর নদী ও সাগরে ফেলে দেওয়া হতো।
আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে গুমসংক্রান্ত কমিশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, তুলে নেওয়ার স্থান, আয়নাঘর ও রেখে দেওয়ার স্থান পরিদর্শন করেছে। মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে। সেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত হয়েছে। লাশের মাথায় গুলি ও দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া বরিশালের বলেশ্বর নদীতে এবং সমুদ্রতীরবর্তী জেলা বরগুনার পাথরঘাটায় নিয়ে গুম করে ফেলে দেওয়া হতো।
কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে র্যাবকে বিলুপ্ত করা।
র্যাবকে বিলুপ্তির পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কার করা লাগবে বলে জানিয়েছেন মইনুল ইসলাম। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইন্টার্নাল পলিটিকসে নাক গলায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার রিফর্ম লাগবে। আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার্নাল পলিটিকসে নাক গলায়। পার্টি পাওয়ার চায় বলে তারা করে। তাদেরকে মিসইউজ করা হয়েছে।’
কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জোর করে তুলে নেওয়ার পর যেসব স্থানে তাদের দিনের পর দিন আটকে রাখা হতো, সে ধরনের ডিটেনশন সেন্টার সবচেয়ে বেশি ছিল র্যাবে। গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন তাদের অনুসন্ধানে ৪০টির মতো ডিটেনশন সেন্টার পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল র্যাবের। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিটেনশন সেন্টার ছিল অন্তত ২৩টি।
কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ডিবি, সিটিটিসি ও এনএসআই ব্যাপকহারে গুম করেছে। বহুক্ষেত্রে সাদাপোশাকধারী বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে।
এখনো নিখোঁজ ২৫১
কমিশনে গুমসংক্রান্ত অভিযোগ পড়েছিল ১ হাজার ৯১৩টি। এর মধ্যে কায়েকবার অভিযোগ করায় ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক ইনকোয়ারির পর গুমের সংজ্ঞার বহির্ভূত বিবেচনায় ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে মোট ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল, যার মধ্যে ২৫১ জন গুম এবং ৩৬ জনের গুম-পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়।
কমিশন জানিয়েছে, নিখোঁজদের অবস্থান নির্ধারণে কমিশন সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক সাক্ষীসহ মোট ২২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি ৭৬৫ জন গুমের শিকার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করলেও তাতে গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর গুমের শিকার হন ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ইন’ করার একটি নির্দিষ্ট ঘটনা কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রথম দফায় ১০৫২ ও দ্বিতীয় দফায় ৩২৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের যে তালিকা কমিশন পেয়েছিল, তা যাচাইয়ের পর গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি।

বিগত সরকারের আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের হত্যার পর ঢাকার বাইরে দাফন করা হতো। রাজধানীর পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জে এ রকম কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছে গুমসংক্রান্ত কমিশন। ওই লাশের মাথায় গুলি ও দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে গুম করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হতো। হত্যার পর নদী ও সাগরে ফেলে দেওয়া হতো।
আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে গুমসংক্রান্ত কমিশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, তুলে নেওয়ার স্থান, আয়নাঘর ও রেখে দেওয়ার স্থান পরিদর্শন করেছে। মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে। সেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত হয়েছে। লাশের মাথায় গুলি ও দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া বরিশালের বলেশ্বর নদীতে এবং সমুদ্রতীরবর্তী জেলা বরগুনার পাথরঘাটায় নিয়ে গুম করে ফেলে দেওয়া হতো।
কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে র্যাবকে বিলুপ্ত করা।
র্যাবকে বিলুপ্তির পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কার করা লাগবে বলে জানিয়েছেন মইনুল ইসলাম। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইন্টার্নাল পলিটিকসে নাক গলায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার রিফর্ম লাগবে। আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার্নাল পলিটিকসে নাক গলায়। পার্টি পাওয়ার চায় বলে তারা করে। তাদেরকে মিসইউজ করা হয়েছে।’
কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জোর করে তুলে নেওয়ার পর যেসব স্থানে তাদের দিনের পর দিন আটকে রাখা হতো, সে ধরনের ডিটেনশন সেন্টার সবচেয়ে বেশি ছিল র্যাবে। গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন তাদের অনুসন্ধানে ৪০টির মতো ডিটেনশন সেন্টার পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল র্যাবের। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিটেনশন সেন্টার ছিল অন্তত ২৩টি।
কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ডিবি, সিটিটিসি ও এনএসআই ব্যাপকহারে গুম করেছে। বহুক্ষেত্রে সাদাপোশাকধারী বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে।
এখনো নিখোঁজ ২৫১
কমিশনে গুমসংক্রান্ত অভিযোগ পড়েছিল ১ হাজার ৯১৩টি। এর মধ্যে কায়েকবার অভিযোগ করায় ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক ইনকোয়ারির পর গুমের সংজ্ঞার বহির্ভূত বিবেচনায় ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে মোট ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল, যার মধ্যে ২৫১ জন গুম এবং ৩৬ জনের গুম-পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়।
কমিশন জানিয়েছে, নিখোঁজদের অবস্থান নির্ধারণে কমিশন সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক সাক্ষীসহ মোট ২২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি ৭৬৫ জন গুমের শিকার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করলেও তাতে গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর গুমের শিকার হন ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ইন’ করার একটি নির্দিষ্ট ঘটনা কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রথম দফায় ১০৫২ ও দ্বিতীয় দফায় ৩২৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের যে তালিকা কমিশন পেয়েছিল, তা যাচাইয়ের পর গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৬ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক...
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধানদের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার এবং বিশেষ করে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশিসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ডের নিয়ম করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিষয়টি জানিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচার চালানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই প্রচার যেন নামকাওয়াস্তে। প্রচারকাজে অংশ নেওয়া ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান শুধু শহর এলাকাতেই ঘুরছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব গাড়ি না যাওয়ায় বেশির ভাগ ভোটার এই প্রচারণার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে