
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের (এক্সট্র্যাডিশন) একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আইনি ও বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত।
গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছে ভারত। আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।
সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচার বিভাগীয় এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই অনুরোধটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে এই ইস্যুতে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাব। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি।’
২০২৫ সালে ভারত প্রথম এই প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার কথা স্বীকার করে। এটি বর্তমানে ভারতের বিচার বিভাগীয় কাঠামোর মধ্যে একটি কঠোর মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রক্রিয়াটি অভ্যন্তরীণ আইনি প্রটোকল দ্বারা সীমাবদ্ধ বলে জানান জয়সওয়াল।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া স্পর্শকাতরতা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উদ্ধৃতি দিয়ে মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, ‘আমি এটিও জোর দিয়ে বলতে চাই, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ভারতের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য উভয় দেশই আনুষ্ঠানিক মাধ্যমগুলো ব্যবহারের বিষয়ে একমত হয়েছে। মুখপাত্রের মতে, দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে অংশীদারত্ব গভীর করার প্রস্তাবগুলো অন্বেষণে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটাতে দ্রুতই সরকারি পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মতামত বিনিময়ের জন্য খুব দ্রুতই সরকারি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।’
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। ঢাকার বর্তমান সরকার শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার হচ্ছে ‘বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ’ এবং প্রতিবেশী দেশটিতে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র বজায় রাখা।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা চলতে থাকলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানে অনড়। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভারত নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) অনুসরণ করবে এবং এটি নিশ্চিত করবে যেন বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত না হয়।

ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) অংশীদার সদস্য হওয়ার আবেদনে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বকে আরও উন্নীত করে নতুন যুগে...
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামীকাল শনিবার বিকেল ৪টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে শুক্রবার রাতে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে...
৩ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।
৫ ঘণ্টা আগে
কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সীমান্তে কাউকে এনে পুশ ইন করিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা যথাযথ প্রক্রিয়া নয়। ভারতের কাছে যদি অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা থাকে, তাহলে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার জাতীয়তা যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে নেবে
৭ ঘণ্টা আগে