রাজনৈতিক দলগুলোর ও প্রার্থীদের পরস্পরের প্রতি বাক্যবাণ, অভিযোগ, নানান প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাঠের আনুষ্ঠানিক প্রচার বন্ধ হলেও প্রার্থীরা এবং তাঁদের সমর্থকেরা ঝুঁকে পড়বেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগপর্যন্ত তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রচারের ক্ষেত্র বানাতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে, মাঠের প্রচারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার বন্ধ থাকবে। এটি নজরদারি করা হবে। তারা আশা করছে, প্রার্থীরা বিষয়টি মেনে চলবেন।
প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক ঘটনাও ঘটেছে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হয়।
আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রচার বন্ধের বিষয়ে গতকাল সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতারা দেখা করেছেন। তাঁরা নির্বাচনী পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় সিইসির নজরে এনেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে সারা দেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৪৬১টি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ২৫৯টি মামলায় ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করেছেন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব মামলা ও জরিমানা করা হয়।
এদিকে নিজ এলাকার বাইরে ৮১ ঘণ্টা কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না—এমন একটি নির্দেশনা গতকাল সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে ইসি। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব হতে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কমিশনে এসেছিলেন। তাঁদের প্রথম উদ্বেগ ছিল, মোবাইল ফোন। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন জায়গায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তাঁরা বলেছেন। পরিবহনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ থাকবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।
আজ সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচার শেষ হলে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, মিছিল, সমাবেশ, শোডাউন ইত্যাদি বন্ধ হবে। তাঁরা আশা করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার বন্ধ থাকবে। কেউ করলে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সর্বোপরি তাঁরা চান, আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচন হোক। একজনের আনন্দ যেন আরেকজনের কষ্টের কারণ না হয়।
ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত মারাত্মক কোনো খবর আসেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ঘটনা ঘটেছে। তফসিল ঘোষণার পরপর ওসমান হাদিকে আমরা হারিয়েছি এবং কয়েক দিন আগে শেরপুরে একজনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রাণহানির মতো ঘটনা নিন্দনীয়। এর বাইরে মিছিল, মিটিং, বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য নির্বাচনেরই একটা অংশ। তবে এটা শালীনতার পর্যায়ে এখনো আছে।’
ইসি ভোট গ্রহণের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর ভোট পড়ার হার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফল না পাওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইসি সচিবালয়ে ভোট গ্রহণ চলাকালে নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর ভোট দেওয়ার হার, ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থেকে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী পাঠাতে হবে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁদের নির্ধারিত কেন্দ্রের ফল ইসির সফটওয়্যারে এন্ট্রির জন্য দুজন করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। এই অপারেটররা কেন্দ্রভিত্তিক ফল (ফরম-১৬) স্ক্যান ও আপলোড করবেন।
ভোটের ফল প্রকাশের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, ভোট গণনা শেষ হলেই তা প্রকাশ করা হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা সময় দিয়েছেন। কারণ, ফল কেন্দ্র থেকে যায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে, সেখান থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। আর এবার দুটি ব্যালট গণনা করা হবে। কাজেই গণনার সময়টুকুর কথা বলা হয়েছে। ফল দিতে দেরি হবে, এমনটি বলা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে অন্তত ৮৪টিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এ কারণে এসব আসনে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনে উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে আরও শুনানির জন্য আগামী ২ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে এই ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের প্রভাবিত করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ব্যাপকভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি পুরোনো হওয়ায় এর কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। আজ সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির উপদেষ্টা পরিষদের
৬ ঘণ্টা আগে