
চারদিকে ছড়িয়ে রাখা স্টল বানানোর সামগ্রী। কর্মীরা কাজ করছেন। হাতুড়ির ঠকঠক আওয়াজ। পাশ দিয়ে একটা অটোভ্যান মালপত্র নিয়ে মেলার মধ্যে ঢুকে গেল। কার্টনে ভরা বই আসছে। কাজ শেষ হওয়া স্টলগুলোয় বই সাজিয়ে রাখছেন বিক্রয়কর্মীরা। তবে সিংহভাগ স্টলেরই এখনো নির্মাণকাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করার পরে মেলা প্রাঙ্গণের চিত্র ছিল এটি।
মেলা ঘুরে দেখা গেল, বেশির ভাগ স্টলেরই নির্মাণকাজ চলছে। প্রথমা প্রকাশন, সাহিত্য প্রকাশ, বাংলা প্রকাশ, পাঠক সমাবেশ, অনন্যা, মিজান পাবলিকেশনস, বাতিঘর, পাঞ্জেরিসহ অনেক প্রকাশনীই প্রথম দিনের মধ্যে স্টলের কাজ পুরো শেষ করতে পারেনি। প্রথমায় এর মধ্যেই কিছু বই তোলা হয়েছে। একদল প্রকাশকের বইমেলায় অংশ নিয়ে নানা কারণে টানাপোড়েন চলছিল। শেষ মুহূর্তে এসে তাঁরা মেলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রকাশক ও মেলা কর্তৃপক্ষের সমঝোতার অংশ হিসেবে এবার কোনো দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন (চারদিক খোলা বড় বিক্রয়কেন্দ্র) নেই। জাঁকালো স্টলও চোখে পড়েনি। তবে মোটের ওপর ভাষার মাসে ঐতিহ্য মেনে মেলাটা যে শেষ পর্যন্ত হলো, প্রকাশক ও বইপ্রেমীরা তাতেই দৃশ্যত খুশি। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শুরু হওয়া এবারের বইমেলার প্রথম দিনে ভিড়ও তেমন হয়নি। সাধারণত প্রথম দিনে যেমন হয়ে থাকে, তার তুলনায় বেশ কম মানুষ দেখা গেছে।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম তাঁর স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। রংমিস্ত্রিরা শেষ ঘষামাজা করছেন। আজকের পত্রিকাকে মাজহারুল বললেন, ‘এই সারির কোনো স্টলই এখনো পুরো তৈরি হয়নি। দুই-তিন দিন লাগবে। এ কারণেই আমরা ঈদের পরে মেলা শুরু করতে চাচ্ছিলাম। এখন তাড়াহুড়ো করে করতে হচ্ছে। এদিকে মেলার দিনও কম।’
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছতলায় করা হয়েছে লিটলম্যাগের স্টল। সেখানে প্রথম দিনেই জয়ধ্বনি, আন্দোলন, অক্ষরচিহ্ন, ল্যাম্পপোস্ট, সরলরেখা, সরোদ, চারবাক, আরশি, তিতাসনামা, ভাস্করের স্টল দেখা গেছে। তিতাসনামার সংগঠক কবি তারিক সজিব বলেন, ‘যারা সৃজনশীল মানুষ, তাদের কাছে লিটলম্যাগের চাহিদা এখনো আছে। কবি, সাহিত্যিক, সৃজনশীল মানুষেরা লিটলম্যাগ কেনেন। এটা আমাদের কাছে শিল্প-সাহিত্যের আন্দোলন।’
বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্র ওমর আহমেদ আনাস বিকেলের দিকে তার সহপাঠী বন্ধু জোবায়েরকে নিয়ে এসেছে মেলায়। আনাস বলল, ‘আমার মায়ের
পছন্দ হুমায়ূন আহমেদের লেখা, আমার নিজের বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মা একবার জোর করে বইমেলায় নিয়ে এসেছিলেন। তারপরে মেলা খুব প্রিয় হয়ে যায়। প্রতিবছর আসি।’
আনাস ছুটির কারণে আজকালের মধ্যে গ্রামে চলে যাবে। তাই প্রথম দিন এসেই বই কিনে নিল। প্রথমেই কিনেছে বিভূতিভূষণের ‘দেবযান’।
মুন্সিগঞ্জ থেকে এসেছেন অন্তরা রহমান। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম নতুন অনেক বই এসেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত দেখে যা বুঝলাম, এখনো স্টলে সব বই আসেনি। কিছু বইয়ের তালিকা করেছি। সেগুলো কিনব। এত দিন ক্লাসের চাপ ছিল। এখন বই কিনব আর পড়ব।’
মেলায় প্রথম দিনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল ঢিলেঢালা। মেলায় ঢোকার মন্দিরের দিকের ফটকে গতকাল আর্চওয়ে ছিল না। কোনো নিরাপত্তা তল্লাশি করতেও দেখা যায়নি। মেলায় হকারদের আনাগোনা ছিল। মেলার সামনের টিএসসি থেকে কার্জন হলমুখী রাস্তায় যান চলাচল করেছে। এবারের মেলায় পলিথিন নিষিদ্ধ থাকলেও ইফতারসামগ্রীসহ খাবার পলিথিনে করে বিক্রি করতে দেখা যায়। জানতে চাইলে একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘তাড়াহুড়ায় আজকে ঠোঙা আনতে পারিনি। এর পর থেকে আনব।’
আজ শুক্রবার ছুটির দিন থাকছে শিশুপ্রহর। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। এ ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪-৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. সেলিম রেজা বলেন, ‘এবার একেবারে শেষ মুহূর্তে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে; যে কারণে স্টল নির্মাণের কাজ বাকি আছে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। আর ময়লা-আবর্জনাও সরিয়ে ফেলা হবে। আশা করছি, দু-এক দিনের মধ্যেই মেলার রূপ ফিরে আসবে।’

জনপ্রশাসনের বিশেষায়িত কোনো পদে ভালো বিকল্প না পাওয়ায় গত শতকের আশির দশকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রচলন হয়। ১৯৯০ সালের শেষে এরশাদ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও এভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে সব সরকারই সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় পদগুলোয় রদবদলের চার দিন পর আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সেনাসদর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় পদগুলোয় একদফা রদবদল করা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৬ ও ৭ এবং গাইবান্ধা–৪ আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ এবং ভোট পুনরায় গণনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এসব আবেদন গ্রহণ করে...
৮ ঘণ্টা আগে
বিদ্যুৎ খাতের পাহাড়সম লোকসান কমাতে এবং গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ না দিতে বিদ্যুতের দাম নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চিন্তা করছে সরকার। এ ছাড়া সিস্টেম লস কমিয়ে এনেও কিছুটা স্বস্তি দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
৮ ঘণ্টা আগে