Ajker Patrika

দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বাসস
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩: ৩৮
দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বিচারপ্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ উপলক্ষে আদালতের ইনার কোর্টে এক আলোচনা সভায় আজ সোমবার তিনি এই আহ্বান জানান। এ ছাড়া রাষ্ট্রপ্রধান মামলা নিষ্পত্তির পর রায়ের কপির জন্যও যাতে বিচারালয়ের বারান্দায় ঘুরতে না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে যত্নবান হওয়ারও পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রপতি বিচারিক কর্মকাণ্ডে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মামলা নিষ্পত্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি আশা করব, এখন থেকে ‘জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনায়েড’ প্রবাদটি আমাদের বিচার বিভাগে উদাহরণ হিসেবে আর ব্যবহৃত হবে না।’

তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধানের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করবেন। তিনি মনে করেন, অমর শহীদের রক্তে লেখা এই সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাঙালির অধিকার আদায়ের যেমন অনন্য দলিল, তেমনি বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে মুক্তির পথ দেখাবে।

আইনজীবীগণ বিচারব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই আইনজীবী বলেন, ‘আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচারের কাজ কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না। বিচারকাজে বেঞ্চ ও বারের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা খুবই জরুরি।’ আইন, নির্বাহী ও বিচার—রাষ্ট্রের এই তিন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা রাষ্ট্র পরিচালনায় খুবই অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রকাশনা স্মারকগ্রন্থের উন্মোচন শেষে অতিথিরা। ছবি: ফোকাস বাংলাদায়রা জজ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মো. সাহাবুদ্দিন, তাঁর আইনপেশার কিছু স্মৃতিচারণার পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়, যেখানে তাঁরা ন্যায়বিচার ও অধিকার রক্ষার জন্য মুখাপেক্ষী হন। দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ভরসার এবং জাতির গৌরবের প্রতীক হলো সুপ্রিম কোর্ট। 

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদানকারী। সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে জুডিশিয়াল রিভিউর ক্ষমতা। কিন্তু এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিজয়ের এক বছরের মধ্যেই জাতিকে তিনি উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি সংবিধান, যেটা বিশ্ব গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বিরল ও অবিস্মরণীয় ঘটনা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তার যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি শান্তি ও সংকটে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যেকোনো আইন বাতিলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সব সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশে সামরিক শাসন জারি করে, সংবিধানকে নানাভাবে কাটাছেঁড়া করে গণতন্ত্রকে চিরতরে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনতার প্রতিরোধের মুখে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে। 

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ ও ধনী-দরিদ্রনির্বিশেষে কেউ যাতে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন এবং তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমিটির সভাপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বক্তব্য দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত