
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন আইপিজিএমআর বা পিজি হাসপাতাল) ১১৭ নম্বর কেবিনই ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ ঠিকানা। অসুস্থ অবস্থায় জীবনের শেষ এক বছর এক মাস আট এই কেবিনে কেটেছে তাঁর। কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কেবিনটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকক্ষ’ হিসেবে। কিন্তু অবহেলা, অযত্ন ও অপরিকল্পিত ব্যবহারে স্মৃতিকক্ষটির অবস্থা আজ মলিন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১১৭ নম্বর কক্ষটি।
কক্ষের বাইরে তরুণ নজরুলের ছবিসংবলিত ফলকে লেখা রয়েছে—‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকক্ষ’। অফিস চলাকালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও স্মৃতিকক্ষটির রক্ষণাবেক্ষণে কার্যত কোনো নজরদারি নেই। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে দাগ, ময়লা ও রং খসে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। কোথাও ধুলার আস্তরণ, কোথাও বেঁকে ঝুলছে ছবি। কক্ষের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি দেশের জাতীয় কবির শেষ জীবনের স্মৃতিবিজড়িত একটি সংরক্ষিত কক্ষ।
স্মৃতিকক্ষটিতে এখনো রয়েছে নজরুলের হাতে লেখা ‘চল্ চল্ চল্’ কবিতার পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠি, বিভিন্ন আলোকচিত্র, স্মৃতিচিহ্ন এবং কবির নিজের লেখা এবং কবিকে নিয়ে লেখা বই। দর্শনার্থীদের জন্য কেবিনটির ইতিহাস ও কবির চিকিৎসাজীবনের তথ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। তবে একসময় পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রদর্শিত এসব নিদর্শন এখন অযত্ন ও অবহেলার ছাপ বহন করছে। কবির ব্যবহৃত প্রক্ষালন কক্ষটি এখন প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিকক্ষের ভেতরে প্রায় ১৫টি প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা হয়েছে। সেখানে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায়। কথা বলে জানা যায়, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। পাশেই ১১৬ নম্বর কক্ষটি উপ-উপাচার্যের। স্মৃতিকক্ষে বসে থাকা ব্যক্তিরা জানালেন, উপ-উপাচার্যের কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাঁদের এখানে অপেক্ষা করতে বলেছেন। পরে উপ-উপাচার্যের দপ্তরের সামনে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যও একই তথ্য জানান।
স্মৃতিকক্ষের ভেতরে বইয়ের তাকগুলো দেখা যায় অপরিচ্ছন্ন ও এলোমেলো। কোথাও বই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এক পাশে তাকের নিচে রাখা হয়েছে দুই জোড়া জুতা। একটি ভাঙা চেয়ার, স্ট্যান্ড ফ্যানের অংশ, এসির কার্টনসহ বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক সামগ্রী। কবির ব্যবহৃত শয্যার চাদর মলিন, বালিশ নেই, শয্যায় ধুলা জমেছে। শয্যার বিপরীতে থাকা কবির ব্যবহৃত পুরোনো ড্রেসিং টেবিলে ধুলার স্তর। সেখানে একটি ভেজা ছাতা শুকাতে রাখা হয়েছে। পাশের টেবিলে পড়ে আছে একটি খালি পানির বোতল।
এ বিষয়ে প্রথমে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।। তাঁর একান্ত সচিব ও উপ-রেজিস্ট্রার মো. মারুফ হোসেন জানান, ডা. নজরুল ব্যস্ত রয়েছেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এফ এম সিদ্দিকী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে তাঁদের কক্ষে গিয়ে জানা যায়, তাঁরা দাপ্তরিক কাজে বাইরে রয়েছেন। অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্মৃতিকক্ষ অবহেলার বিষয়ে আমার জানা নেই। এমন হয়ে থাকলে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা দ্রুত বিষয়টি আমলে নিচ্ছি।’
কর্মকর্তারা জানান, স্মৃতিকক্ষটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কক্ষটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, প্রদর্শিত নিদর্শনের সংরক্ষণ কিংবা দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেই। ফলে জাতীয় কবির শেষ জীবনের স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি ধীরে ধীরে অবহেলার শিকার হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ২২ জুলাই চিকিৎসকদের পরামর্শে কাজী নজরুল ইসলামকে ধানমন্ডির ‘কবিভবন’ থেকে তৎকালীন আইপিজিএমআরের ১১৭ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি এক বছর এক মাস আট দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট এখানেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কেবিনটিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকক্ষ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীকে নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় নিখোঁজের পরদিন গত শনিবার মরদেহ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। একই দিন সুনামগঞ্জে অচেতন বাবার পাশ থেকে তিন ভাই-বোনের মরদেহ এবং মানিকগঞ্জে মা-বাবার মরদেহের পাশ থেকে দেড় বছরের আলিজা নূরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা পৃথক হলেও এই পাঁচ শিশুই হয়
৮ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে তাঁদের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীদের একটি অংশ। তাঁদের অভিযোগ, বিএনপির বাইরের কিছু আইনজীবী টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই আলোচনা শেষ করে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ...
১৪ ঘণ্টা আগে