Ajker Patrika

সেই জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১৭: ৫৮
সেই জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ
সংসদে আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জামায়াতে ইসলামীর সেই সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে মাইক্রোওভেন দিতে চাইলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিং মেশিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পর্দা দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। পার্থের এমন প্রস্তাবকে জামায়াত এমপির জন্য অসম্মানজনক হতে পারে বলে মনে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘উনি (জামায়াত এমপি) নিজের জন্য চাননি, যেসব সংসদ সদস্য সরকারি বাড়িতে বসবাস করেন, তাঁদের জন্য চেয়েছেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এসব কথা বলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ।

এর আগে গতকাল বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি জানান জামায়াতের এমপি মিজানুর রহমান।

জামায়াত এমপির ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন, পর্দা চাওয়া বৃহৎ অর্থে সংসদকে ইফেক্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, ‘অনেক কষ্টের পরে আমরা এ সংসদ পেয়েছি। এখানে স্বৈরাচারের দোসর বা ফ্যাসিস্টদের কেউ নেই। গত সংসদ শুধু সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে নাই, সংসদের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি, এখানে মমতাজ থেকে শুরু করে... গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরাসরি ওই দিকে না গেলেও কিছু জায়গায় আমরা ওই দিকে চলে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু সংসদ সদস্য ছাড়াও এ সংসদের অ্যাম্বাসেডর। আমরা বাইরে কোথাও গেলে সংসদকে প্রতিনিধিত্ব করি।’

পার্থ বলেন, ‘কালকে বা পরশু দিন সংসদ থেকে যাওয়ার পরে অনেক টেলিফোন পেয়েছিলাম, সেখানে আমি ডিফেন্ড করার চেষ্টা করি। গণমাধ্যম প্রতিবেদন লেখে জামায়াত এমপি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন, পর্দা চেয়েছে। এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, সংসদকে অনেক লজ্জা দেয়। সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবেন, যেখানে জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরবেন, সেখানে একজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল, না মাইক্রোওভেন পেল, না পর্দা পেল—তা নিয়ে কথা বলবে!’

পার্থ বলেন, ‘সেখানে আবার বলা হয়, আমরা গাড়ি নেব না, আমরা প্লট নেব না। আমার কাছে মনে হয়, গাড়ি ও প্লট উনারা যখন বাদ দিলেন, উনাদের বুকের ওপর কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো। সেখানে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।’

বিজেপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের এমন একটা মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত; আমি মনে করব, আমাদের মাননীয় যাঁরা আছেন, বিশেষ করে বিরোধী দল...কালকে হয়তো আমাদেরও বলতে পারে, আমি খুব সিরিয়াসলি বলছি, তারপরও যদি আমার ভাই, যেহেতু মন্তব্য করেছেন, উনি চান, আমি উনাকে বিব্রত না করে, আগামীতে উনার যদি পর্দা, মাইক্রোওভেন লাগে, তাহলে আমি আমার তরফ থেকে দিতে চাই।’

পার্থ আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, উনি যদি ওয়াশিং মেশিন দেন (জামায়াত এমপিকে)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে বলতাম, পর্দাটা কিনে দিয়েন। উনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম, তারপরও যেন আমাদের সংসদকে উনি বিব্রত না করেন।’

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। সংসদ সদস্য বাজেট সেশনের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন, সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। তা ছাড়া একজন সদস্য তাঁর সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, এটা সংসদে না বললেও হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেন নাই। আমাদের সংসদ কমিটি আছে, সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র ইত্যাদি দিয়ে থাকি।’

স্পিকার বলেন, ‘তিনি (জামায়াত এমপি) তাঁর নিজের জন্য চাননি, সব সংসদ সদস্যদের জন্যই, যাঁরা সংসদের দেওয়া ভবনে বসবাস করেন, তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন। সুতরাং, এটা এমন কোনো গর্হিত অপরাধ হয়নি। তবে আমি মনে করি, এটা না বললেও হতো, জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাঁদের প্রাপ্য হতে পারে, এমন কোনো বড় জিনিস নয়। সামান্য জিনিস নিয়ে তর্কবিতর্ক চাই না। এটা নিয়ে বিতর্ক করলে বাইরে খারাপ বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে বক্তব্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকব। যেসব জিনিস ব্যক্তিগত, হাউস কমিটির চেয়ারম্যান আছেন, সদস্য আছেন, তাঁদের জানালে সমাধান করতে পারবেন।’

পার্থের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে অফার করেছেন, তাঁকে দেবেন। এটাও তাঁর জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। উনি নিজের জন্য চাননি, যেসব সংসদ সদস্য সরকারি বাড়িতে বসবাস করেন, তাঁদের জন্য চেয়েছেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।’

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একজন সদস্য সবার জন্য চেয়েছেন। আপনি (স্পিকার) ঠিকই বলেছেন, এটা সংসদে না বলে কমিটিতে বললেই হতো। কিন্তু তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে গাড়ি-বাড়িসহ সব নিয়ে আসলেন। উনি তো বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, নিজে থেকে অফারও দিয়ে দিলেন, সব দিয়ে দেবেন। উনার কাছে চাইছে নাকি? আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত, এখানে দাঁড়িয়ে কারও সম্মানে আঘাত করব না। আশা করি, সকলেই এ বিষয়ে যত্নশীল হব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত