Ajker Patrika

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ০৯
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বিজিবি পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শুক্রবার থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় এবং বিজিবির আভিযানিক সফলতা নিয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বিজিবি পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এসব তথ্য জানান।

বিজিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার ১৮৩টি পূজামণ্ডপ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় থাকবে। সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। অন্য এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বাহিনীটি।

নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলো সরেজমিন পরিদর্শন ও রেকি করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রয়োজনীয় জনবল ও বিশেষায়িত দল প্রস্তুত রাখা হবে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিজিবির সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি।

পূজার সময় গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি। সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে তা যাচাই এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প, পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন এবং পরিবার নিয়ে উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও অনুমোদিত নির্দেশনা অনুসরণ, সংযম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতির পাশাপাশি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে মাদক, স্বর্ণ, বস্ত্র, প্রসাধনী ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে।

এ সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। এসব মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি এসএমজি, সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২১৩টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানব পাচার প্রতিরোধে নারী, শিশুসহ ৪২ জনকে পাচারের সময় উদ্ধার এবং ২০ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

পুশ ইনের ১৮২টি চেষ্টা প্রতিহত

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় সীমান্তে নজরদারি ও টহলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া কৃষি উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সুরক্ষায় সার, জ্বালানি ও ভোজ্যতেল পাচার প্রতিরোধে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ১৫৮ টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্ত নজরদারি জোরদার করতে আধুনিক সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষায় বাহিনীটির অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে সবার সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত