Ajker Patrika

ঢাবির চারুকলার বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৪২
ঢাবির চারুকলার বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় চারুকলা থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলা নতুন বছরের সূর্য উঠতেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন নগরবাসী। বৈশাখী শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে নতুন বছরকে আবাহন করতে এসেছেন তরুণ-তরুণীরা। রমনার বটমূলে প্রভাতি আয়োজন শেষে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় চারুকলা থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা।

‎শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ঘুরে সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তুলে ধরতে পাঁচটি মোটিফ রাখা হয়েছে—লাল ঝুঁটির মোরগ, কাঠের হাতি, পায়রা, দোতারা ও টেপা পুতুলের কায়দায় তৈরি করা ঘোড়া।

boishakh-rally02

পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক ছোট ছোট নানা উপকরণ যুক্ত ছিল শোভাযাত্রায়। ছিল ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের পাঁচটি পটচিত্রও—যার বিষয়বস্তু বাংলাদেশ, গাজীরপট, সম্রাট আকবর, বনবিবি ও বেহুলা। এবারও ছিল বিভিন্ন জাতিসত্তার শিল্পীদের অংশগ্রহণে তাদের সংস্কৃতিকে উপস্থাপন।

boishakh-rally03

শোভাযাত্রায় শুরুতে ছিল পুলিশের একটি সজ্জিত ঘোর সওয়ার দল, জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তারপরে সংস্কৃতি মন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ অতিথিরা। এর পর চারুকলার শিক্ষার্থীদের হাতে নানা ধরনের মুখোশ, এরপরেই ছিল মূল মোটিফগুলো।

boishakh-rally04

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ থানা পর্যন্ত গিয়ে আবার উল্টোমুখে ঘুরে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে চারুকলা অনুষদে ফিরে আসে।

শোভাযাত্রা ঘিরে আজ ভোর থেকে কড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শোভাযাত্রার সামনে এবং পেছনে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে রেখেছিল।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালিদের একটা সাংস্কৃতিক উৎসব। তাই উৎসবটিতে যেন সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারে তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাবি ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত