Ajker Patrika

গুম থাকার সময়ের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ব্যারিস্টার আরমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গুম থাকার সময়ের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ব্যারিস্টার আরমান
২০১৬ সালের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ব্যারিস্টার আরমানকে। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। জবানবন্দিতে তিনি গুম থাকার সময়ের দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরেন। আজ বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের পর গুম থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার আরমানের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো। তাঁর আংশিক জবানবন্দির পর ২৬ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম, সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

এই মামলায় পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন ও ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন।

জবানবন্দিতে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, তাঁকে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি সংকীর্ণ সেলে চোখ বেঁধে রাখা হয়। ওই ঘরের মেঝে স্যাঁতসেঁতে; ইঁদুর ও তেলাপোকা তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে চলাফেরা করত। ১৬ দিন পর এক মাঝরাতে সেখান থেকে অন্য একটি বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নজরদারির জন্য একটি ছোট্ট জানালা ছিল, যা বাইরে থেকে খোলা যেত। সেখানেও সারাক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা হতো এবং হাতকড়া পরানো থাকত। শুধু টয়লেটে যাওয়া এবং খাওয়ার সময় চোখের বাঁধন ঢিলা করে দেওয়া হতো। খাবারের সময় ডান হাত খুলে দিত এবং টয়লেটের সময় বাঁ হাত খুলে দিত। প্রতিদিন গভীর রাতে দুই হাত পেছনের দিকে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে দেওয়া হতো।

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, তাঁকে নামাজের সময় বলা হতো না। তিনি দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতেন না। বাইরের আওয়াজ যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে, সে জন্য একটি এগজস্ট ফ্যান সারাক্ষণ চালিয়ে রাখা হতো। শুধু শীতকালে ফ্যান বন্ধ রাখা হতো। তখন তিনি বাইরের শব্দ শুনতে পেতেন; যার মধ্যে বিমান, ট্রেন এবং জোরে গাড়ি চলাচলের শব্দ ছিল। এ ছাড়া সেখানে অন্যান্য সেলের বন্দীদের নির্যাতনের সময় চিৎকার শুনতে পেতেন তিনি। অসুস্থ হলে ওষুধ দেওয়ার সময় একটি কাঠের বাক্স দেওয়া হয়। চোখ বাঁধা অবস্থায় নিচ দিয়ে একটু দেখতে পান। ওই বক্সের গায়ে লেখা টিএফআই। সেখানকার প্রহরীরা সাধারণত তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন না। কয়েক বছর পর একবার এক প্রহরীকে তিনি অভিযোগের সুরে বলেছিলেন, এভাবে কোনো মানুষকে রাখা হয়? উত্তরে বলেছিলেন, তিনি ভাগ্যবান যে বেঁচে আছেন।

জবানবন্দিতে আরমান বলেন, প্রহরী জানান, তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অ্যাসিড দিয়ে চেহারা এবং হাত ঝলসে ওজন অনুযায়ী ইট বেঁধে বরিশালের নদীতে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু যিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। এরপর সিদ্ধান্তটি ঝুলে যায়। প্রায়ই পরিদর্শনের জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁর সেলের সামনে আসতেন। তিনি তাঁদের কথাবার্তা শুনতেন। তাঁরা হিন্দি ভাষায় কথা বলতেন। মুক্ত হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকে খাবার খাওয়ার পর তাঁর সারা শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হতো। মনে হতো, হাজারটি পিঁপড়া কামড়াচ্ছে। খাওয়ার পর প্লেট ধোয়ার সময় পানি পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়া হতো। মনে হতো খাবারে তারা কিছু মেশাচ্ছে। তখন তিনি অধিকাংশ খাবার টয়লেটে ফেলে দিতেন। মাঝেমধ্যে ক্ষুধার কারণে কিছু খাবার পানি দিয়ে ধুয়ে খেতেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জাতীয় স্কেলে বেতন পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিন, গেজেট প্রকাশ

আইসিসির ভোটাভুটিতে মাত্র ২ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

কুমিল্লা-৪: শত চেষ্টার পরও ঋণখেলাপির জালেই আটকে গেলেন বিএনপির মঞ্জুরুল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত