Ajker Patrika

মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে পোনামাছ অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে খামারিরা মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার সারা দেশে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আসবেন। খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।

মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয়ও কমছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনামাছের মধ্যে রয়েছে— ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস। এসব পোনামাছের আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। মোট প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।

পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত