Ajker Patrika

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিং-নির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ১৭: ০৯
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিং-নির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘পত্রিকার কাটিং-নির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। প্রকৃত তথ্য জানতে হলে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত।

আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কার দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকেরা জানতে চান, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির পর পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি না এবং টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী এ সময়ে ৬০০-এর বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করেন কি না।

টিআইবির প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলা হয়েছে, সরকার তা গ্রহণ করছে নাকি প্রত্যাখ্যান করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি তো সরকারি সংস্থা নয়। প্রকৃত পরিসংখ্যান নিন পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। তারপর আপনারা এবং জনগণ বিচার করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদন আমার সামনে নেই। তবে তারা সাধারণত পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করে। টিআইবি নিজে কোনো তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে তারপর তারা বক্তব্য দেয় না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে তথ্য রয়েছে, তা পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান। জেলাপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়। এটিই প্রকৃত তথ্যের ভিত্তি। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরগুলোও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি এবং সেগুলো যাচাইয়ের ব্যবস্থা করি। তবে সব খবরই যে শতভাগ সঠিক, তা বলা যাবে না।’

তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ সদস্যদের ভাতা ও আর্থিক বরাদ্দ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, পুলিশের আর্থিক সংকট রয়েছে এবং বিষয়টি সরকার জানে। দেশের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ, টহল কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাতে পুলিশ পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পায়, সে বিষয়ে আমরা ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেব।’

এদিকে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিভাগীয় তদন্ত, কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, যাঁদের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অনেকগুলোর তদন্ত চলমান, কিছু মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত