
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ‘নীরবতার’ ব্যাখ্যাও দাবি করেছে সংগঠনটি।
আজ এক খোলাচিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এ দাবি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে জাতীয় সংসদ না থাকা অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার জনগণকে অন্ধকারে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশিত হলে তা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং তা দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, নির্বাচনের আগে বিএনপির ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই চুক্তি বহাল থাকলে তা সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। একই সঙ্গে তারা বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদেরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে জুলাই সনদে আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সংসদের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছিল। অথচ সংসদে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো আলোচনা বা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়নি।
সংগঠনটির মতে, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের ভূমিকা থেকে মনে হয়েছে, চুক্তিটি নিয়ে তাঁরা কোনো গুরুত্বই দিচ্ছেন না। জাতীয় স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই নীরবতার কারণ জানতে চেয়েছে তারা।
খোলাচিঠিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তির পেছনে যে তথাকথিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্কনীতি ছিল, সেটিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে চুক্তির যে প্রেক্ষাপটে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেই ভিত্তির আইনগত বৈধতা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নেই।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির দাবি, চুক্তিটি কার্যকর থাকলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে এবং সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি জ্বালানিনিরাপত্তা, তথ্যনিরাপত্তা, কৃষি, ওষুধশিল্প, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য খাত, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এমনকি দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে সীমিত সময়ের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার সুযোগ নেই। ফলে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা থাকার কথা নয়। তারপরও সরকার ও সংসদ সদস্যরা কেন এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন না, তার ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে করে, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় কোনো একক পরাশক্তির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও অসম চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। সংগঠনটির ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন, তবে কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয়নি।
তারা জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই চুক্তিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও অসম এই চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষে খোলাচিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা।

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত বিশ্ববাজারে ক্রমশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ওষুধ ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে; যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’
১ ঘণ্টা আগে
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শক্তভাবে প্রতিহত করছে। পাশাপাশি পুশ ইন বন্ধে ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
১ ঘণ্টা আগে
আগামী বছর অর্থাৎ, ২০২৭ সালে হজ পালনে সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুকদের চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট। আজ সোমবার ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের...
২ ঘণ্টা আগে
অনলাইন জুয়া পরিচালনা এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে