জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সুফল পাওয়ায় স্থানীয় সরকারের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা, ও ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনেও এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধনের পরিকল্পনা করছে ইসি। এ জন্য ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া তৈরি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের শুরু থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। শুরুতে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সরকার থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই যাতে নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু করা যায়, সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে ইসি।
নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়ে অনেক দিন ধরেই কথা বলে আসছিলেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, পলিথিন ও লেমিনেটিং করা পোস্টারে জলাবদ্ধতা তৈরি করে পরিবেশের ক্ষতি করে, আবার পোস্টারের কালি ফসলের মাঠের ক্ষতি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধন করে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
নির্বাচন আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করায় রাজনীতিবিদদের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলাম আমরা। তারা আমাদের তখন বলেছিল, পোস্টার না লাগালে মানুষের ভোটের বিষয়টি কীভাবে জানবে? আমরা বলেছিলাম ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন কাপড়ের লিখে ঝোলাতে পারবেন। সেটাতে আমরা সফল হয়েছি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়ে আমরা (ইসি) প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা করেছি।’
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একক বিধিমালা প্রণয়নের সুপারিশ ছিল নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের। ইসি ওই প্রস্তাব আমলে নেবে না বলে সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি নির্বাচনের জন্য প্রচলিত বিধিমালাগুলো বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সেগুলোতে শুধু প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
এ ছাড়া বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার চালানোসহ সংসদ নির্বাচনে যেসব নতুন নিয়মের প্রচলন করেছে ইসি, সেগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আনতে চায় কমিশন। স্থানীয় নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ না রাখার পক্ষে ইসি। ফলে পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
প্রতিটি উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বসার জন্য একটি কক্ষ প্রস্তুত করতে সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গত মাসে। এতে স্থানীয় সরকারে এমপিদের প্রভাব বিস্তার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যমান আইনে এমপি-মন্ত্রীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু পরিদর্শন কক্ষ থাকলে সেখানে বসে ভোটের পুরো সময় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা আছে। এমন অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে পরিদর্শন কক্ষ এমপি ব্যবহার করতে পারবেন না—এমন উপধারা যুক্ত করার পরিকল্পনা ইসির রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা পরিষদে এমপিদের পরিদর্শন কক্ষ থাকার সুযোগ অসাংবিধানিক বলে জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এমন নির্দেশনার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
বদিউল আলম মজুমদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে এমপির পরিদর্শন কক্ষ থাকাই তো অসাংবিধানিক। এদের তো (ইসি) কোনো ধারণা নেই। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এমপিদের স্থানীয় উন্নয়নে যুক্ত হওয়া অসাংবিধানিক, এ বিষয়ে আদালতের রায় আছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের বিধান বাতিল করা হয়। বর্তমান সরকার তা বলবৎ রেখে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাস করেছে। যে কারণে নির্দলীয় প্রতীকে (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ) স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে কারণে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ফরমেও পরিবর্তন আনছে ইসি। দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হওয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করার বিধান বাতিল করতে যাচ্ছে ইসি।
অপর দিকে আচরণ বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের নতুন বিধান যুক্ত করা হবে। প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা এবং এ ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘প্রার্থিতার জন্য সমর্থকদের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতার বিধান থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার করলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে বিবেচনা করে বিধিমালা সংশোধন করেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই বিধান যুক্ত করব।’

রাতে রাজধানীর একটি ফাঁকা মোড়। ট্রাফিক সংকেতে লাল বাতি জ্বলছে। ট্রাফিক পুলিশ নেই দেখে ওই সংকেত অমান্য করে গাড়ি নিয়ে মোড় পার হলেই মামলা থেকে আর নিস্তার নেই। সকাল হওয়ার আগেই গাড়ির মালিকের মোবাইলে চলে যাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মামলা। এ ছাড়া ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো, যেখানে-সেখানে পার্কিং...
১ ঘণ্টা আগে
বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি কমছে হাওরে। নদীর পানিও নিচে নামছে। আর তাই হাওরাঞ্চলে জাগতে শুরু করেছে এত দিন ডুবে থাকা বোরো ধান। তবে এর বেশির ভাগই পচে গেছে। তার থেকে বেছে বেছে কেটে তোলার চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। আর যাঁরা ধান কাটতে যাননি, তাঁরা গতকাল বৃহস্পতিবার কড়া রোদে আগের কাটা ধান শুকাতে ব্যস্ত সময়...
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সাত দিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে