Ajker Patrika

ফেসবুকে আওয়ামী লীগ–ভারতের বিপক্ষে লেখায় গুম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফেসবুকে আওয়ামী লীগ–ভারতের বিপক্ষে লেখায় গুম

ফেসবুকে আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিপক্ষে লেখালেখি করায় গুম করে নির্যাতন করা হয় যশোরের মনিরামপুরের ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিনকে। গুম করার ১৮ মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। গুম থাকা অবস্থায় তাঁকে বলা হয়, তিনি যখন বাইরে ছিলেন তখন কি খালে-বিলে বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পাননি? দেখতে পাননি ট্রেন লাইনে অতিরিক্ত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া যায়? এ রকম লেখালেখি করলে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া তাঁকে।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা বলেন ব্যবসায়ী ও মনিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক নাজিম উদ্দিন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জন এই মামলায় আসামি। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। বাকিরা পলাতক।

নাজিম উদ্দিন জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ফেসবুকে আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিপক্ষে লেখালেখি করতেন। তিনি ঢাকায় ব্যবসা করতেন। ২০১৬ সালের ২৫ মে মিরপুর-১২ নম্বরের মোল্লা টাওয়ারের সামনে থেকে তাঁকে কয়েকজন মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়। তাঁকে নিয়ে যেখানে রাখা হয় তার দেয়ালে লেখা ছিল ‘এটা ডিজিএফআই এর হেডকোয়ার্টার জেআইসি সেল’। সেখানে তাঁকে নিয়ে জিজ্ঞেস করা হতো, তিনি কেন আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন।

নাজিম আরও বলেন, তাঁকে যে সেলে রাখা হয়, তার বাম পাশের সেলে বাড্ডার লিটন, তার বাম পাশে তেহজীব ও ডান পাশে শামীম ও তোজো নামের কয়েকজন ছিল। তাঁর সেলের বিপরীত দিকে পাঁচটি কক্ষ ছিল। সেখানে আবুজর, ইবতেশাম সামী, মামুন এবং হাসানকে রাখা হয়েছিল। দুই মাস পর সেখানে হাসান নামের রাজশাহীর একজনকে নিয়ে আসা হয়। তিন মাস পরে শরিফুল নামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী একজনকে আনা হয়। পাঁচ মাস পর নাজিম উদ্দিনকে অন্য একটি জায়গায় নেওয়া হয়। সেখানে আবুজর, ইবতেশাম সামি ও মামুনকেও নেওয়া হয়। সেখানে একটি সেলে লক্ষ্মীপুরের ডা. ইকবাল আগে থেকেই ছিলেন। সেখানে যারা তাদের দেখাশোনা করতেন, তাদের কাছে জানতে পারেন তাঁরা র‍্যাব-২-এ আছেন। ২০-২২ দিন পর তাঁদের র‍্যাব-১০-এ নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বাথরুমে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁরা তাজুল ইসলাম ও নূর আলমকে পান। পরদিন তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে র‍্যাব-৭-এ হস্তান্তর করা হয়।

জবানবন্দিতে নাজিম আরও বলেন, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ভোরে একটি মাইক্রোবাসে তাজুল ইসলাম ও তাঁকে এক জায়গায় নিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দাঁড় করানো হয়। সেখানে একটি কাপড় বিছিয়ে দুটি ব্যাগ, দুটি পিস্তল এবং কিছু গুলি রাখা হয় এবং তাঁদের ছবি তোলা হয়। পরে নেওয়া হয় মুকিম তালুকদারের বাড়িতে। সেখানে অনেক মানুষের পদচারণা ছিল। তাদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে আবুজর, ইবতেশাম সামি এবং নূর আলমকে দেখতে পান। তখন পাশের ভবন থেকে কেউ তাদের ভিডিও করছিল। র‍্যাব সদস্যরা তা দেখতে পেয়ে তাঁদের মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেন। এর কিছু পর নিচে নামিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করা হয়। তাঁদের কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে র‍্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ওই দিন রাত ৩টায় আকবর শাহ থানায় তাঁদের হস্তান্তর করা। তার এবং তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দেওয়া হয়। বাকিদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দেওয়া হয়। ১৮ মাস জেল খাটার পর নাজিম জামিনে মুক্তি পান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পুলিশের জঙ্গিবিরোধী ইউনিট থাকছে না

রাঙামাটির চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়ের স্ত্রীকে সতর্ক করল জেলা প্রশাসন

৯০ লাখ ভোটার বাদ দিয়ে হারানো হয়েছে তৃণমূলকে, মমতার আবেদনে সাড়া দিলেন আদালত

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর: শুভেন্দু

জঙ্গল সলিমপুরে হবে দুটি পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত