বৈশাখ মাস শুরু হয়ে গেল। তার মানে, গ্রীষ্মকাল শুরু। প্রচণ্ড গরম পড়বে এখন। হঠাৎ হঠাৎ হবে ঝড়। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম মানে তীব্র দাবদাহ, উচ্চ আর্দ্রতা এবং ক্লান্তিকর আবহাওয়া। মার্চ থেকে জুন—এই সময়টায় দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে খোঁজেন একটু স্বস্তি, একটু শীতলতা। এখানেই পাহাড়ি অঞ্চল হয়ে ওঠে আদর্শ গন্তব্য।
কেন এই সময় পাহাড় ভ্রমণের জন্য ভালো?
এর রয়েছে বিভিন্ন কারণ। এগুলো যদি বুঝতে পারেন, তাহলে ভ্রমণ হবে আরামদায়ক।
প্রথমত, পাহাড়ি অঞ্চলের উচ্চতা তাপমাত্রা অনেকটা কমিয়ে দেয়। সাধারণভাবে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, তাপমাত্রা ততই কমতে থাকে। বাংলাদেশের পাহাড়গুলো খুব বেশি উঁচু না হলেও বান্দরবান, খাগড়াছড়ি কিংবা রাঙামাটিতে সমতলের তুলনায় তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কম অনুভূত হয়। এই সামান্য পার্থক্যই গরমের দিনে বড় স্বস্তি এনে দেয়।
দ্বিতীয়ত, পাহাড়ি এলাকায় বাতাস চলাচল বেশি থাকে। খোলা প্রান্তর, উঁচু-নিচু ভূমি আর বনাঞ্চলের কারণে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। ফলে সেখানে গরম স্থির হয়ে থাকে না, বরং বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে সাজেক বা নীলগিরির মতো উঁচু জায়গায় দাঁড়ালে যে শীতল বাতাস অনুভূত হয়, তা গরমের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে।
তৃতীয়ত, পাহাড়ি অঞ্চলে সবুজের আধিক্য গরম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘন বন, গাছপালা ও ঝোপঝাড় সূর্যের তাপ শোষণ করে এবং পরিবেশ শীতল রাখে। গাছের ছায়া, জলাধার ও ঝরনা মিলিয়ে সেখানে একধরনের প্রাকৃতিক ‘কুলিং সিস্টেম’ তৈরি হয়। তাই বনভূমির ভেতর হাঁটলে কিংবা ঝরনার কাছে গেলে তাপমাত্রা আরও কম মনে হয়।
চতুর্থত, পাহাড়ি অঞ্চলে আবহাওয়ায় বৈচিত্র্য রয়েছে। সমতলে যেখানে সারা দিন প্রায় একই রকম গরম থাকে, পাহাড়ে সকাল ও সন্ধ্যায় আবহাওয়া অনেকটা ঠান্ডা হয়ে আসে। ভোরের কুয়াশা, মেঘের আনাগোনা কিংবা হালকা বৃষ্টি—সব মিলিয়ে একধরনের প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, যা গ্রীষ্মের একঘেয়ে গরম থেকে মুক্তি দেয়।
পঞ্চমত, পাহাড় ভ্রমণ মানসিক স্বস্তিও আনে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, সবুজ পাহাড় দেখা, মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি—এসব অভিজ্ঞতা মন প্রশান্ত করে। শহরের গরম, ধুলো আর কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে এই মানসিক প্রশান্তি শরীরের ক্লান্তিও কমিয়ে দেয়। ফলে গরমের প্রভাব অনেকটা কম অনুভূত হয়।
গ্রীষ্মকালে স্বস্তি খুঁজতে পাহাড়ি অঞ্চল ভ্রমণের বিকল্প কমই আছে। তাপমাত্রা তুলনামূলক কম, বাতাস সতেজ, পরিবেশ সবুজ ও প্রাণবন্ত—সব মিলিয়ে পাহাড় হয়ে ওঠে এক প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল। তাই গরম থেকে বাঁচতে চাইলে এই সময়ের জন্য পাহাড় ভ্রমণই হতে পারে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত।
পাহাড় ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক আরামদায়ক। পাহাড়ে তৈরি হয়েছে প্রচুর রিসোর্ট ও হোমস্টে। আর পুরোনো হোটেল তো আছেই।
সেই সঙ্গে বেড়েছে খাওয়াদাওয়ার সুবিধা। বেড়েছে নিরাপত্তা। ফলে এই গরমে ভ্রমণ করতে পাহাড়ি অঞ্চল বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে

যেকোনো কর্মজীবী মানুষ সকালে অফিসের উদ্দেশে বের হন ঝরঝরে আমেজে। সব ঠিক থাকলে আগের রাতে ভালো একটা ঘুম দিয়ে, নাশতা করে আয়নায় নিজেকে সতেজ দেখেই বের হন সবাই। কিন্তু ঠিক দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে আর ক্লান্ত হয়ে পড়েন অনেকে। নারীদের মেকআপ কোথাও নষ্ট হয়ে যায়। আবার চুল হয়ে যায় রুক্ষ, চোখ...
২ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণ মানেই কি শুধু আইফেল টাওয়ার কিংবা স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে যাওয়া? আধুনিক পর্যটকেরা এখন খুঁজছেন এমন সব জায়গা, যা সাশ্রয়ী অথচ অভিজ্ঞতায় অনন্য। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ভিড় এড়িয়ে যাঁরা একটু নিরিবিলি অথচ বৈচিত্র্যময় জায়গা খোঁজেন, তাঁদের জন্য সুখবর এনেছে ভ্রমণ ম্যাগাজিন ‘ট্রাভেল+লেজার’।
২ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণপিয়াসি পরিবারগুলোর জন্য বিমানবন্দর এখন আর শুধু ট্রানজিট পয়েন্ট নয়। এটি এখন বিনোদন গন্তব্যও বটে। স্কাইট্র্যাক্সের ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের ‘পরিবারবান্ধব বিমানবন্দর’ হিসেবে শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ইনচন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
৩ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি, ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ঐতিহাসিক রুট ৬৬-এর শতবর্ষ উদ্যাপন—সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতের জন্য ২০২৬ হতে পারত এক ঐতিহাসিক উৎসবের বছর। কিন্তু দীর্ঘায়িত সরকারি শাটডাউন, বিমানবন্দরে প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ সারি আর কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্ব পর্যটকদের কাছে...
৩ ঘণ্টা আগে