ভ্রমণের আনন্দ শুধু দর্শনীয় জায়গা দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় মানুষের আচার, ব্যবহার ও আতিথেয়তা আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমূল বদলে দিতে পারে। সম্প্রতি ‘রেমিটলি’ বিশ্বের ‘ভদ্র’ বা মার্জিত দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ২৬টি দেশের ৪ হাজার ৬০০ মানুষের ওপর পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে সেসব দেশের নাম, যেগুলোতে স্থানীয়রা পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি সম্মান ও বিনয়ের সঙ্গে বরণ করে নেয়। জরিপে দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট দেশের মানুষের আচার, আচরণ পর্যটকদের মনে গভীর দাগ কেটেছে।
জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মানুষের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। উভয় দেশের মানুষ তুচ্ছ বিষয়েও বারবার ক্ষমা চাওয়ার কিংবা ‘সরি’ বলার জন্য বিখ্যাত। বিনয় কিংবা শিষ্টাচার একেক সংস্কৃতিতে একেক রকম হতে পারে। যেমন জাপানে মাথা নত করে সম্মান জানানো হয়, কানাডায় বারবার ক্ষমা চাওয়া হয় কোনো ভুলের জন্য, আবার জার্মানিতে সময়ানুবর্তিতা বা শান্ত পরিবেশ বজায় রেখে সম্মান জানানো হয় অতিথিদের। তবে সার্বিকভাবে মানুষ নিজেদের বেশ বিনয়ী বলেই ধারণা করে।
বিশ্বের পাঁচ বিনয়ী বা মার্জিত দেশ
জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মতে, বিশ্বের শীর্ষ ৫টি বিনয়ী দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে জাপান। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৫ দশমিক ১৫ শতাংশ মানুষ এমনটিই ধারণা করে থাকে। জাপানিরা মাথা নত করে কাউকে অভিবাদন জানানো, সম্মানসূচক ভাষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বিনয়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে কানাডার খ্যাতি রয়েছে। তাই র্যাঙ্কিংয়ে দেশটি দ্বিতীয় স্থানে আছে। জরিপে ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ মানুষ দেশটিকে ‘মার্জিত দেশ’ হিসেবে ভোট দিয়েছে। যদিও কানাডিয়ানদের নিয়ে প্রায়ই এমন রসিকতা করা হয় যে তারা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের জিনিসের জন্যও ক্ষমা চায়। তবে এই ধারণা একটি বৈচিত্র্যময় সমাজের অতি সরলীকরণমাত্র। নতুনদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিকতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—সবকিছু মিলিয়ে কানাডা পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য।
ব্রিটিশদের কাছ থেকে শিষ্টাচার-সংক্রান্ত প্রত্যাশা অনেকটা কানাডিয়ানদের মতোই; ঘন ঘন ক্ষমা চাওয়া এবং ‘প্লিজ’ ও ‘থ্যাংক ইউ’ বলা ব্রিটিশদের আচরণের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর সে কারণেই জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ মনে করে, যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম বিনয়ী মানুষের দেশ। দেশটির শক্তিশালী কিউয়িং বা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি দৈনন্দিন সামাজিক মেলামেশায় শিষ্টাচার মিশে থাকার আরেকটি বড় প্রমাণ। ব্রিটিশ সংস্কৃতির আরেকটি স্বতন্ত্র দিক হলো তাদের দারুণ রসবোধ, যা হয়তো সব সময় প্রথাগতভাবে মার্জিত নয়।
তালিকার চার নম্বর অবস্থানে রয়েছে চীন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশের কাছে দেশটি মার্জিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এখানকার শিষ্টাচার প্রায়ই কনফুসীয় মূল্যবোধে প্রভাবিত ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যা সম্মান, শ্রেণিবিন্যাস
এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর জোর দেয়। এটি বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো থেকে শুরু করে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং মতবিরোধ সূক্ষ্মভাবে সমাধান করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এখানকার মানুষ পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় সৌজন্য প্রকাশকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। রেমিটলির তৈরি এই তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে জার্মানি। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ মার্জিত দেশ হিসেবে ভোট দিয়েছে জার্মানির পক্ষে। এ ছাড়া দেশটিতে শিষ্টাচার, সরাসরি যোগাযোগ এবং গোপনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়। দৈনন্দিন আলাপচারিতায় সময় সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিক ভঙ্গি ব্যবহার করা হয়। তবে সম্পর্ক গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও সহজ হয়ে ওঠে।
আপনার ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য এই দেশগুলো বেছে নিতে পারেন।

চিকিৎসকের একটি সতর্কবার্তা আমূল বদলে দিয়েছিল দিল্লির দম্পতি রূপিকা আনন্দ ও রাকেশ আনন্দের জীবন। শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ জীবনের খোঁজে শহরের আরাম-আয়েশ ও সফল করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন কৃষিকাজ।
৩ ঘণ্টা আগে
ওজন কমানো বা নিজেকে ফিট রাখা যে কতটা কঠিন, তা ভুক্তভোগীরাই ভালো বোঝেন। এর চিন্তা মাথায় এলেই মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রিয় চকলেট কেকটিকে না ছুঁয়ে বিদায় জানানোর দুঃখ। কিংবা ধোঁয়া ওঠা কাচ্চি বিরিয়ানি প্লেটে নেওয়ার পর অপরাধবোধে ভোগার দৃশ্য। মন বলে ‘আরেকটু খাই’, যুক্তি বলে ‘না’।
৭ ঘণ্টা আগে
মানসিকভাবে মানুষ প্রতিটি সম্পর্কের এক জটিল ছক বা মানচিত্র তৈরি করতে ওস্তাদ। কে কার অনুগত, কার সঙ্গে কার প্রতিযোগিতা কিংবা কে কখন কার বিরুদ্ধে যেতে পারে—প্রতিনিয়ত আমাদের মন এসবের হিসাব রাখে। কিন্তু সম্পর্কের এই অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা বিরোধের ছাপ বেশি স্পষ্ট হয়। কখনো ভেবে দেখে
৮ ঘণ্টা আগে
ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান বা ঘাবড়ে যান। অনেকের হয়তো ভয়ে বুক ধুকধুক করে বা হাতের তালু ঘামতে শুরু করে। অনেক সময় আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, কণ্ঠস্বর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমরা
৯ ঘণ্টা আগে