শোভন সাহা
নীল রং নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতার শেষ নেই। কত যে উপমা তৈরি করা হয়েছে এই রং নিয়ে, তার হিসাব নেই। কিন্তু জানেন তো, এটি কষ্টেরও রং! শুধু মানসিক কষ্ট নয়, ত্বকবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ব্যবহার করা মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ যেকোনো ডিভাইস থেকে বের হওয়া নীল আলো বা ব্লু লাইট ত্বকেরও কষ্টের কারণ!
কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে বিচ্ছুরিত এই বিশেষ আলো শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—কারও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বেশ কয়েক বছর ধরে ত্বকবিশেষজ্ঞরা ত্বকের ওপর এই ব্লু লাইট বা নীল রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অনেক কথা বলে যাচ্ছেন। যেহেতু এখন কাজের প্রয়োজনেই হোক কিংবা অভ্যাসবশত; প্রায় সবারই স্ক্রিন টাইম বেশি, তাই ব্লু লাইট কিংবা নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব আগের তুলনায় অনেকটা বেশি। এই নীল আলো ত্বকের গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবের কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। এ রশ্মি যেমন ত্বক পুড়িয়ে দেয়, তেমনি নীল আলো বা ব্লু লাইট তৈরি করে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন। এ ধরনের অক্সিজেন ত্বকের কোষ অথবা কোলাজেনের সংস্পর্শে এলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়; পাশাপাশি ত্বকে নানা ধরনের দাগছোপ ফুটে উঠতে শুরু করে। তাই বাইরে বের হলে যেমন সান প্রোটেকশন নেওয়া জরুরি, তেমনি দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও ত্বকের আলাদা সুরক্ষা নেওয়া জরুরি।
নীল আলো থেকে ত্বক সুরক্ষায় যা করা যেতে পারে
শুরুতে বলতে হয়, সানস্ক্রিনের বিকল্প নেই। শুধু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে যে সানস্ক্রিন ত্বক সুরক্ষা দেয়, তা নয়। এটি এই নীল আলো থেকেও ত্বক সুরক্ষা দিতে পারে। আর তাই ত্বকবিশেষজ্ঞরা এখন দিনের বেলা বাইরে না বেরোলেও সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অন্তত এসপিএফ ৩০, ইউভিএ অথবা ইউভিবি রয়েছে এমন সানস্ক্রিন কিনুন। অনেকের সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ত্বকে সাদাটে স্তর জেগে ওঠে এবং ঘাম হয়।
সে ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। প্রতি দুই ঘণ্টা পর ত্বক পরিষ্কার করে আবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এতে নীলাভ আলোর রেডিয়েশন থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।
৮ ঘণ্টার চাকরিতে বেশ কয়েকবার মুখ ধুয়ে নিন
যাঁরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের ত্বক অনেক বেশি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। কারণ, বাড়ি ফিরেও তো তাঁরা রিক্রিয়েশনের জন্য টিভি দেখছেন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। তাই সারা দিনে অফিসে বেশ কয়েকবার ডেস্ক থেকে উঠে মুখে পানির ঝাপটা দিন। অফিসে অন্তত একবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে পারলে ভালো। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ত্বক পরিষ্কার করতে হয়। সে সময় কোমল ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণতা হারাবে না। নীল আলো ত্বকের সংস্পর্শে এসে যে ক্ষতিকর র্যাডিক্যাল তৈরি করে, তা জলের ঝাপটায় ধুয়ে যাবে।

সঠিক ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে
যেকোনো ডিভাইস থেকে নির্গত নীল রশ্মি ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলে দ্রুত। এর ফলে ত্বক আর্দ্র থাকছে কি না, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, আর্দ্রতা হারালেই ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং বলিরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাই নিয়মিত ওয়াটার-বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বক শুষ্ক হবে না। ত্বক আর্দ্র থাকলে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেনের সঙ্গে মোকাবিলা সহজ হবে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ প্রসাধনীতে ভরসা রাখুন
ত্বকের সুরক্ষায় ভিটামিন সি, রেটিনলের প্রাকৃতিক বিকল্প, জিংক অক্সাইড বা আয়রন অক্সাইডের মতো সক্রিয় উপাদানসমৃদ্ধ সেরাম এবং অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে।
দীর্ঘ সময় নীল আলোয় কাজ করলে যেভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন
» গোসলের সময় ত্বকের উপরিভাগ পরিষ্কারের জন্য লুফা বা তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে।
» গোসল শেষে ভেজা শরীরে ময়শ্চারাইজার মাখিয়ে নিতে হবে।
» ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে চিনি ও টক দই মিশিয়ে স্ক্র্যাব তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
» চালের গুঁড়া, টক দই, কাঠবাদাম, ডালের বেসন, ভিনেগার সব ১ চামচ করে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে প্যাক তৈরির পর মেখে নিতে পারেন সপ্তাহে ৩ দিন।
» মুলতানি মাটির সঙ্গে টমেটোর রস ভালোভাবে মিশিয়ে সপ্তাহে এক দিন করে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
» দিনে কয়েকবার চোখের চারপাশে আইক্রিম লাগাতে হবে। এতেও শুষ্ক ভাব না কমলে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেন: কসমেটোলজিস্ট, স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার

নীল রং নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতার শেষ নেই। কত যে উপমা তৈরি করা হয়েছে এই রং নিয়ে, তার হিসাব নেই। কিন্তু জানেন তো, এটি কষ্টেরও রং! শুধু মানসিক কষ্ট নয়, ত্বকবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ব্যবহার করা মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ যেকোনো ডিভাইস থেকে বের হওয়া নীল আলো বা ব্লু লাইট ত্বকেরও কষ্টের কারণ!
কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে বিচ্ছুরিত এই বিশেষ আলো শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—কারও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বেশ কয়েক বছর ধরে ত্বকবিশেষজ্ঞরা ত্বকের ওপর এই ব্লু লাইট বা নীল রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অনেক কথা বলে যাচ্ছেন। যেহেতু এখন কাজের প্রয়োজনেই হোক কিংবা অভ্যাসবশত; প্রায় সবারই স্ক্রিন টাইম বেশি, তাই ব্লু লাইট কিংবা নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব আগের তুলনায় অনেকটা বেশি। এই নীল আলো ত্বকের গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবের কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। এ রশ্মি যেমন ত্বক পুড়িয়ে দেয়, তেমনি নীল আলো বা ব্লু লাইট তৈরি করে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন। এ ধরনের অক্সিজেন ত্বকের কোষ অথবা কোলাজেনের সংস্পর্শে এলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়; পাশাপাশি ত্বকে নানা ধরনের দাগছোপ ফুটে উঠতে শুরু করে। তাই বাইরে বের হলে যেমন সান প্রোটেকশন নেওয়া জরুরি, তেমনি দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও ত্বকের আলাদা সুরক্ষা নেওয়া জরুরি।
নীল আলো থেকে ত্বক সুরক্ষায় যা করা যেতে পারে
শুরুতে বলতে হয়, সানস্ক্রিনের বিকল্প নেই। শুধু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে যে সানস্ক্রিন ত্বক সুরক্ষা দেয়, তা নয়। এটি এই নীল আলো থেকেও ত্বক সুরক্ষা দিতে পারে। আর তাই ত্বকবিশেষজ্ঞরা এখন দিনের বেলা বাইরে না বেরোলেও সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অন্তত এসপিএফ ৩০, ইউভিএ অথবা ইউভিবি রয়েছে এমন সানস্ক্রিন কিনুন। অনেকের সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ত্বকে সাদাটে স্তর জেগে ওঠে এবং ঘাম হয়।
সে ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। প্রতি দুই ঘণ্টা পর ত্বক পরিষ্কার করে আবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এতে নীলাভ আলোর রেডিয়েশন থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।
৮ ঘণ্টার চাকরিতে বেশ কয়েকবার মুখ ধুয়ে নিন
যাঁরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের ত্বক অনেক বেশি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। কারণ, বাড়ি ফিরেও তো তাঁরা রিক্রিয়েশনের জন্য টিভি দেখছেন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। তাই সারা দিনে অফিসে বেশ কয়েকবার ডেস্ক থেকে উঠে মুখে পানির ঝাপটা দিন। অফিসে অন্তত একবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে পারলে ভালো। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ত্বক পরিষ্কার করতে হয়। সে সময় কোমল ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণতা হারাবে না। নীল আলো ত্বকের সংস্পর্শে এসে যে ক্ষতিকর র্যাডিক্যাল তৈরি করে, তা জলের ঝাপটায় ধুয়ে যাবে।

সঠিক ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে
যেকোনো ডিভাইস থেকে নির্গত নীল রশ্মি ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলে দ্রুত। এর ফলে ত্বক আর্দ্র থাকছে কি না, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, আর্দ্রতা হারালেই ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং বলিরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাই নিয়মিত ওয়াটার-বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বক শুষ্ক হবে না। ত্বক আর্দ্র থাকলে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেনের সঙ্গে মোকাবিলা সহজ হবে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ প্রসাধনীতে ভরসা রাখুন
ত্বকের সুরক্ষায় ভিটামিন সি, রেটিনলের প্রাকৃতিক বিকল্প, জিংক অক্সাইড বা আয়রন অক্সাইডের মতো সক্রিয় উপাদানসমৃদ্ধ সেরাম এবং অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে।
দীর্ঘ সময় নীল আলোয় কাজ করলে যেভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন
» গোসলের সময় ত্বকের উপরিভাগ পরিষ্কারের জন্য লুফা বা তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে।
» গোসল শেষে ভেজা শরীরে ময়শ্চারাইজার মাখিয়ে নিতে হবে।
» ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে চিনি ও টক দই মিশিয়ে স্ক্র্যাব তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
» চালের গুঁড়া, টক দই, কাঠবাদাম, ডালের বেসন, ভিনেগার সব ১ চামচ করে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে প্যাক তৈরির পর মেখে নিতে পারেন সপ্তাহে ৩ দিন।
» মুলতানি মাটির সঙ্গে টমেটোর রস ভালোভাবে মিশিয়ে সপ্তাহে এক দিন করে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
» দিনে কয়েকবার চোখের চারপাশে আইক্রিম লাগাতে হবে। এতেও শুষ্ক ভাব না কমলে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেন: কসমেটোলজিস্ট, স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার

বাস্তবে আমরা কমবেশি ছোট-বড় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ফেলি। ছোটদের ক্ষেত্রে এটি সহজাত মনে হলেও বড়দের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। সত্যকে মেনে নেওয়ার অভ্যাসটি কষ্টকর হলেও এটি আপনাকে অনেক মূল্যবান শিক্ষা দেয়। তবে সদিচ্ছা থাকলে এই অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব...
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা যাচাই ও অভিবাসন প্রক্রিয়া...
৪ ঘণ্টা আগে
শিশু সদ্যই স্বাভাবিক খাবার খেতে শুরু করেছে। সকাল, দুপুর কিংবা বিকেলে নানা ধরনের খাবারের সঙ্গে তো তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, পাশাপাশি এসব খাবারের পুষ্টিগুণও যাচাই করতে হবে। আবার সুস্বাদু না হলে সবকিছুই বরবাদ। এ সবই পূরণ হবে এক প্যান কেকে। শিশুকে তৈরি করে দিন বিভিন্ন স্বাদের এই প্যান কেক। কীভাবে...
৬ ঘণ্টা আগে
কনফিডেন্স আপনার আকাশছোঁয়া। তবে খেয়াল রাখবেন, কনফিডেন্স যেন ওভার কনফিডেন্সে না বদলে যায়। বসের ভুল ধরতে যাবেন না। কারণ, ‘বস ইজ অলওয়েজ রাইট’, বিশেষ করে যখন মাসের শেষ! সঙ্গীর সঙ্গে তর্কে জেতার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, শান্তিতে ডাল-ভাত খাওয়া, ঝগড়া করে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে ভালো।
৬ ঘণ্টা আগে