
দিন দিন সম্পর্কের সমীকরণগুলো জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। প্রেম বা বিবাহ, সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, একসময় এগুলো টিকে থাকত দুজন মানুষের পারস্পরিক নিষ্ঠার কারণে। সমস্যা ছিল না, তা বলা যাবে না। সমঝোতা বা মেনে নেওয়ার ক্ষমতাও ছিল বেশি। কিন্তু প্রযুক্তির প্রসার, জীবনের নতুন অর্থ, নাগরিক গতিশীলতা ইত্যাদির হাত ধরে নতুন প্রজন্ম সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন সব শব্দ। গত কয়েক বছরে ‘সিচুয়েশন শিপ’ বা ‘বেঞ্চিং’য়ের মতো শব্দগুলোর পর এখন আলোচিত ও বিতর্কিত সম্পর্কের নাম ‘টলিয়ামরি’। আপাতদৃষ্টিতে একে আধুনিক জীবনধারার অংশ মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে একপক্ষীয় যন্ত্রণা আর বিশ্বাসের সংকটের মধ্যে।
টলিয়ামরি আসলে কী?
সহজ কথায় টলিয়ামরি এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি, যেখানে সম্পর্কের এক সঙ্গী তৃতীয় একজনের সঙ্গে রোমান্টিক বা শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হন, আর অন্যজন তা জেনেও মুখ বুজে সহ্য করেন। ফলে বলা হচ্ছে ‘টলারেন্স’ বা সহ্যশক্তি থেকেই ‘টলিয়ামরি’ শব্দটির উৎপত্তি। এটি অনেকটা এমন বিষয়, একজন সঙ্গী প্রতারণা করছেন জেনেও অন্যজন ভালোবাসা হারানো বা একাকিত্বের ভয়ে সব মেনে নিয়ে সম্পর্কটা চালিয়ে যান। আন্তর্জাতিক লাইফস্টাইল ওয়েবসাইটগুলোর মতে, এটি মূলত ‘প্রতারণা’ এবং ‘সহনশীলতা’র এক বিষাক্ত মিশ্রণ।
পলিয়ামরি বনাম টলিয়ামরি
অনেকেই ভুল করে টলিয়ামরিকে পলিয়ামরির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু এই দুটির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পলিয়ামরি: এটি একটি স্বচ্ছ ধারণা। এখানে সম্পর্কের প্রতিটি পক্ষই জানে যে তাদের সঙ্গীর অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এখানে আলোচনা হয় এবং সবারই সম্মতি থাকে।
টলিয়ামরি: এটি পুরোপুরি অসততার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে কোনো পারস্পরিক আলোচনা বা সম্মতি থাকে না। একজন সঙ্গী নিজের স্বার্থে অন্যকে ঠকান, আর অন্যজন নিরুপায় হয়ে সম্পর্ক ও সংসার টেকানোর জন্য অমর্যাদাকেই মেনে নেন।
যেসব কারণে বাড়ছে টলিয়ামরি
টলিয়ামরির উত্থানের পেছনে মূলত রয়েছে সম্পর্কের নিরাপত্তাহীনতা। বর্তমান যুগে অনেকেই একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে সঙ্গীর অনেক বড় বড় ভুলও ক্ষমা করে দেন। ‘ডিজিটাল ডেটিংয়ের যুগে বিকল্পের অভাব নেই’—এ ধারণা থেকে অনেকেই মূল সম্পর্কের বাইরে অন্য সম্পর্ক খোঁজেন। আর প্রতারিত সঙ্গী ভাবেন ‘অন্তত সে তো আমাকে ছেড়ে যায়নি’। এই নিরুপায় মেনে নেওয়াই সমাজে টলিয়ামরির ডালপালা মেলতে সাহায্য করছে।
সম্পর্ক মানে একে অপরের পরিপূরক হওয়া, একে অপরকে সহ্য করা বা ঠকানো নয়। টলিয়ামরি কেবল একটি গালভরা নাম, যা আসলে বিশ্বাসের অবক্ষয়কে আড়াল করে। মনে রাখা জরুরি, প্রতারণা একটি সিদ্ধান্ত। নিখুঁত সঙ্গী তো কখনো মিলবে না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে একে অপরের ত্রুটি সহ্য করতে হয়। কিন্তু বিশ্বস্ততা যে সেই সহনীয় ত্রুটির তালিকায় পড়ে—তা একেবারেই নয়।’অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া, চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিকস ওয়েলনেস সেন্টার বিডি
মানসিক স্বাস্থ্য়ের ওপর এর প্রভাব
টলিয়ামরি কোনো সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। যে ব্যক্তি দিনের পর দিন সঙ্গীর প্রতারণা বা পরকীয়া সহ্য করেন, তিনি একধরনের গভীর মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যান। এটি বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও গভীর একাকিত্বের জন্ম দেয়। সম্পর্কের যে মূল ভিত্তি—বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা, তা এখানে পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকে।
সঙ্গী কেন টলিয়ামরি মেনে নেয়?
চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘মানুষ বিভিন্ন কারণে টলিয়ামরিতে থেকে যায়। হতে পারে কেউ সঙ্গীকে খুব ভালোবাসেন বা ভালোবাসার প্রতি অন্ধ যে তাঁর ভুলগুলো মেনে নেন। কেউ নিজেকে বোঝান, ‘ও তো বড়ই আকর্ষণীয়, তাই এমন করে। কখনো বা দোষ নিজের গায়ে নেন—‘আমি হয়তো প্রেম দেখাই কম, তাই ও অন্য জায়গায় খোঁজে।’ আবার ব্যবহারিক কারণও থাকে। অর্থ, সংসারের খরচ, সামাজিক মর্যাদা, সন্তানদের নিরাপত্তার চিন্তা থেকেও অনেকে এ সম্পর্কে রয়ে যেতে বাধ্য হন।’
রাজনীতিবিদ, অভিনেতা বা ব্যবসায়ীদের স্ত্রী-স্বামীদের মধ্যেও এটা দেখা যায়। কেউ কেউ ভয় পান একা হয়ে যাওয়ার অথবা সঙ্গীর প্রতিশোধের। কেউ শারীরিকভাবে অসুস্থ বা সামাজিক সুরক্ষার অভাবে আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি অনুভব করেন। সঙ্গীও বোঝাতে পারেন, আমাকে ছাড়া তুমি কিছুই না।
উত্তরণের পথ
আধুনিকতার মোড়কে টলিয়ামরির মতো প্রতারণামূলক প্রবণতা সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট করছে। সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি গড়তে কিছু পদক্ষেপ জরুরি—
স্বচ্ছতা ও আলোচনা: সম্পর্কের শুরুতেই প্রত্যাশা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন। কোনো সমস্যা তৈরি হলে তৃতীয় পক্ষকে না জড়িয়ে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করুন।
আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি: একাকিত্বের ভয় থেকে সঙ্গীর প্রতারণা মেনে নেবেন না। অসম্মানজনক সম্পর্কের চেয়ে একাকিত্ব ভালো। নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রাখাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
ডিজিটাল সততা: বর্তমান যুগে অনলাইন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সঙ্গীর অগোচরে কারও সঙ্গে রোমান্টিক ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন। ডিজিটাল ফিডেলিটি বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
পেশাদার সহায়তা ও সীমা নির্ধারণ: সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে রিলেশনশিপ কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। সঙ্গীকে ক্ষমা করলেও স্পষ্ট ‘বাউন্ডারি’ বা সীমানা নির্ধারণ করে দিন, যাতে বিশ্বাসের অমর্যাদা না হয়।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও অন্যান্য

ইতিহাস, স্থাপত্য আর আধুনিক গ্রাফিকসের অনন্য মিশেলে এবারের বিশ্বকাপের জার্সিগুলোতে ঘটেছে টাইপোগ্রাফি বিপ্লব। জার্সির নম্বর ও নামের ফন্টগুলোতে এবারও নিখুঁত ইতিহাস আর জ্যামিতিক কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফিফার কঠিন সব নিয়ম মেনেও জার্সির নম্বরের মাধ্যমে একেকটি দেশের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে...
২ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের সময় কানেকটিং ফ্লাইট মিস হওয়া অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং উদ্বেগজনক। আবহাওয়া বা বিমানবন্দরজটের মতো কিছু বিষয় যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও কিছু পূর্বপ্রস্তুতি এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত ইউনাইটেড ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট কানেকটিং ফ্লাইট মিস হওয়ার প্রধান পাঁচটি ভুল...
৩ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের কথা মাথায় এলে আমরা অনেকেই এমনভাবে পরিকল্পনা করি, যাতে পকেটও বাঁচবে, মনও ভরবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেছে নিতে পারেন। সে দেশগুলোতে ভ্রমণের রোমাঞ্চ পাবেন অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে একেবারে আলাদা। তবে এই ভ্রমণ নিখুঁত ও নিরাপদ করতে ৯টি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।
৩ ঘণ্টা আগে
১৪ আষাঢ়, রোববার। বিকেল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফাঁকে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস। আমরা তখন ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় হেঁটে নয়, গাড়িতে। গাড়ির ভেতর বাজছিল আষাঢ়ের গান, ‘চলো কোথাও যাই, এই ঝড়-বর্ষায়...’। মুহূর্তেই মনে হলো, শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির কাছে না গেলে যেন আষাঢ় সত্যিকার অর্থে অনুভব করা হবে না।
৮ ঘণ্টা আগে