Ajker Patrika

মঞ্চে উঠলেই নার্ভাস? জেনে নিন আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কিছু কৌশল

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫১
মঞ্চে উঠলেই নার্ভাস? জেনে নিন আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কিছু কৌশল

ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান বা ঘাবড়ে যান। অনেকের হয়তো ভয়ে বুক ধুকধুক করে বা হাতের তালু ঘামতে শুরু করে। অনেক সময় আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, কণ্ঠস্বর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমরা খুব চিন্তিত বা নার্ভাস হয়ে পড়ি বলে আমাদের শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে অনেক সময় পেশাদার বক্তারাও নার্ভাস হয়ে পড়েন। তবে তাঁরা কিছু কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলে নেন।

স্নায়বিক উত্তেজনা বা নার্ভাসনেস একটি স্বাভাবিক বিষয়। এগুলো থেকে মুক্ত থাকার ভালো উপায় হলো প্রস্তুতি, প্রস্তুতি এবং আরও বেশি করে প্রস্তুতি নেওয়া। এই উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার জন্য কিংবা জনসমক্ষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার কিছু উপায় জেনে নিতে পারেন।

আগে থেকে প্রস্তুতি নিন

ভালো প্রস্তুতি নিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে। আগে থেকে যেখানে বক্তব্য দেবেন, সেই জায়গা ও কক্ষ দেখে আসতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা উপকরণ অন্তত এক দিন আগে প্রিন্ট করে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখার জন্য ছোট নোট কার্ড তৈরি করে নিতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছান এবং বারবার অনুশীলন করুন।

কল্পনা করুন, আপনি সুন্দরভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। কথা বলার সময় শরীর কীভাবে নাড়াবেন এবং সেই সঙ্গে হাতের অঙ্গভঙ্গি কেমন হবে, সেগুলোরও অনুশীলন করুন। অন্যদের সামনে অনুশীলন করে তাঁদের মতামত নিন। নিজের বক্তব্য ভিডিও করে পরে দেখে ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করুন। তারপর নেতিবাচক চিন্তার বদলে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক চিন্তা করুন।

শ্রোতাদের সম্পর্কে জানুন

বার্তা বা বক্তব্য তৈরির আগে ভেবে দেখুন, এটি কাদের জন্য তৈরি করছেন। অর্থাৎ আপনার শ্রোতা কারা, সে বিষয়ে জেনে নিন। তাদের সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তাদের উপযোগী শব্দচয়ন, তথ্যের গভীরতা নির্ধারণ, বক্তব্যের কাঠামো সাজান। প্রয়োজনে শ্রোতাদের উপযোগী অনুপ্রেরণামূলক গল্প বা উদাহরণ ঠিক করে নিন।

বক্তব্য সাজিয়ে নিন

আপনার বক্তব্যের একটি কাঠামো বা খসড়া তৈরি করুন। বিষয়বস্তু, সাধারণ উদ্দেশ্য, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, মূল ধারণা এবং প্রধান পয়েন্টগুলো লিখে রাখুন। খেয়াল রাখবেন যেন শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়।

নার্ভাস হওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন

নার্ভাস কমানোর জন্য বক্তব্য দেওয়ার আগে বেশি কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করবেন না। এগুলো আপনাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। যাওয়ার পথে শোনার জন্য পছন্দের গান বা পডকাস্ট প্রস্তুত রাখতে পারেন। মঞ্চে ওঠার আগে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন।

শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন এবং সে অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিন

শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া বুঝে প্রয়োজনে আপনার বক্তব্য কিছুটা পরিবর্তন করুন এবং নমনীয় থাকুন। আগে থেকে মুখস্থ করা বা যান্ত্রিকভাবে কোনো বক্তব্য দিলে আগ্রহী শ্রোতারাও মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে পারেন বা বিভ্রান্ত হতে পারেন।

নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলুন

যেকোনো ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বা যান্ত্রিক না হয়ে নিজের স্বাভাবিক সত্তা বজায় রাখুন। ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। শ্রোতারা যখন আপনাকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে দেখবেন, তখন আপনার কথার ওপর তাঁদের আস্থা বাড়বে।

মাঝে মাঝে থামুন

যদি মনে হয়, খুব দ্রুত কথা বলছেন, তাহলে কিছুক্ষণ থামুন এবং গভীর শ্বাস নিন। এতে অস্বাভাবিক লাগবে না। বরং মনে হবে আপনি ভেবেচিন্তে কথা বলছেন। প্রশ্ন করার পরে বা একটি বিষয় শেষ হলে ইচ্ছা করে কিছুক্ষণ বিরতি নিতে পারেন। এতে আপনি শান্ত হতে পারবেন এবং শ্রোতারাও বিষয়টি ভাবার সময় পাবেন।

রসবোধ, গল্প এবং কার্যকর শব্দ প্রয়োগ করুন

উপস্থাপনায় কোনো মজার ঘটনা বা কৌতুকপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথা যুক্ত করলে নিশ্চিতভাবে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হবে। শ্রোতারা সাধারণত বক্তব্যের মধ্যে ব্যক্তিগত ছোঁয়া পছন্দ করেন, যা কোনো গল্পের মাধ্যমে সহজেই দেওয়া যায়।

একান্ত প্রয়োজন না হলে দেখে না পড়াই ভালো

লিখিত স্ক্রিপ্ট বা স্লাইড দেখে পড়লে শ্রোতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ ব্যাহত হয়। শ্রোতাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে নিজের ও বার্তার ওপর মনোযোগ ধরে রাখা যায়। একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা আপনার স্মৃতি সচল রাখতে এবং মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত না হতে সাহায্য করবে।

কণ্ঠস্বর ও হাতের ভঙ্গি কার্যকরভাবে ব্যবহার করুন

স্নায়বিক অস্থিরতা বা অস্বস্তিকর অঙ্গভঙ্গি বাদ দিন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে কথার চেয়ে অবাচনিক বা শারীরিক ভঙ্গিই মূল বার্তাটি বেশি বহন করে। ভালো উপস্থাপনা মানেই এমন ভঙ্গি, যা আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে না, বরং কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই বক্তার ধারণাগুলো স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়।

অডিও-ভিজ্যুয়াল উপকরণের যথাযথ ব্যবহার করুন

এগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার শ্রোতাদের সঙ্গে আপনার সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। তাই এগুলোর ব্যবহার পরিমিত হওয়া জরুরি। এগুলোর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আপনার বিষয়বস্তুকে আরও সমৃদ্ধ বা স্পষ্ট করা অথবা শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা ও ধরে রাখা।

অনুশীলন করলেই যে সবকিছু নিখুঁত হবে, তা সব সময় না-ও হতে পারে। কোনো কিছু কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। তবে প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিলে আপনি আরও ভালো বক্তৃতা দিতে পারবেন। হয়তো আপনি আপনার জড়তা বা স্নায়বিক চাপ পুরোপুরি দূর করতে পারবেন না, কিন্তু তা কমিয়ে আনার উপায় অবশ্যই শিখতে পারবেন।

সূত্র: প্রফেশনাল অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট এবং ভার্চুয়াল স্পিচ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত