
ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পান বা ঘাবড়ে যান। অনেকের হয়তো ভয়ে বুক ধুকধুক করে বা হাতের তালু ঘামতে শুরু করে। অনেক সময় আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, কণ্ঠস্বর ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমরা খুব চিন্তিত বা নার্ভাস হয়ে পড়ি বলে আমাদের শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে অনেক সময় পেশাদার বক্তারাও নার্ভাস হয়ে পড়েন। তবে তাঁরা কিছু কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলে নেন।
স্নায়বিক উত্তেজনা বা নার্ভাসনেস একটি স্বাভাবিক বিষয়। এগুলো থেকে মুক্ত থাকার ভালো উপায় হলো প্রস্তুতি, প্রস্তুতি এবং আরও বেশি করে প্রস্তুতি নেওয়া। এই উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার জন্য কিংবা জনসমক্ষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার কিছু উপায় জেনে নিতে পারেন।
ভালো প্রস্তুতি নিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে। আগে থেকে যেখানে বক্তব্য দেবেন, সেই জায়গা ও কক্ষ দেখে আসতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা উপকরণ অন্তত এক দিন আগে প্রিন্ট করে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখার জন্য ছোট নোট কার্ড তৈরি করে নিতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছান এবং বারবার অনুশীলন করুন।
কল্পনা করুন, আপনি সুন্দরভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। কথা বলার সময় শরীর কীভাবে নাড়াবেন এবং সেই সঙ্গে হাতের অঙ্গভঙ্গি কেমন হবে, সেগুলোরও অনুশীলন করুন। অন্যদের সামনে অনুশীলন করে তাঁদের মতামত নিন। নিজের বক্তব্য ভিডিও করে পরে দেখে ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করুন। তারপর নেতিবাচক চিন্তার বদলে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক চিন্তা করুন।
বার্তা বা বক্তব্য তৈরির আগে ভেবে দেখুন, এটি কাদের জন্য তৈরি করছেন। অর্থাৎ আপনার শ্রোতা কারা, সে বিষয়ে জেনে নিন। তাদের সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তাদের উপযোগী শব্দচয়ন, তথ্যের গভীরতা নির্ধারণ, বক্তব্যের কাঠামো সাজান। প্রয়োজনে শ্রোতাদের উপযোগী অনুপ্রেরণামূলক গল্প বা উদাহরণ ঠিক করে নিন।
আপনার বক্তব্যের একটি কাঠামো বা খসড়া তৈরি করুন। বিষয়বস্তু, সাধারণ উদ্দেশ্য, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, মূল ধারণা এবং প্রধান পয়েন্টগুলো লিখে রাখুন। খেয়াল রাখবেন যেন শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়।
নার্ভাস কমানোর জন্য বক্তব্য দেওয়ার আগে বেশি কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করবেন না। এগুলো আপনাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। যাওয়ার পথে শোনার জন্য পছন্দের গান বা পডকাস্ট প্রস্তুত রাখতে পারেন। মঞ্চে ওঠার আগে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন।
শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া বুঝে প্রয়োজনে আপনার বক্তব্য কিছুটা পরিবর্তন করুন এবং নমনীয় থাকুন। আগে থেকে মুখস্থ করা বা যান্ত্রিকভাবে কোনো বক্তব্য দিলে আগ্রহী শ্রোতারাও মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে পারেন বা বিভ্রান্ত হতে পারেন।
যেকোনো ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বা যান্ত্রিক না হয়ে নিজের স্বাভাবিক সত্তা বজায় রাখুন। ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। শ্রোতারা যখন আপনাকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে দেখবেন, তখন আপনার কথার ওপর তাঁদের আস্থা বাড়বে।
যদি মনে হয়, খুব দ্রুত কথা বলছেন, তাহলে কিছুক্ষণ থামুন এবং গভীর শ্বাস নিন। এতে অস্বাভাবিক লাগবে না। বরং মনে হবে আপনি ভেবেচিন্তে কথা বলছেন। প্রশ্ন করার পরে বা একটি বিষয় শেষ হলে ইচ্ছা করে কিছুক্ষণ বিরতি নিতে পারেন। এতে আপনি শান্ত হতে পারবেন এবং শ্রোতারাও বিষয়টি ভাবার সময় পাবেন।
উপস্থাপনায় কোনো মজার ঘটনা বা কৌতুকপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথা যুক্ত করলে নিশ্চিতভাবে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হবে। শ্রোতারা সাধারণত বক্তব্যের মধ্যে ব্যক্তিগত ছোঁয়া পছন্দ করেন, যা কোনো গল্পের মাধ্যমে সহজেই দেওয়া যায়।
লিখিত স্ক্রিপ্ট বা স্লাইড দেখে পড়লে শ্রোতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ ব্যাহত হয়। শ্রোতাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে নিজের ও বার্তার ওপর মনোযোগ ধরে রাখা যায়। একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা আপনার স্মৃতি সচল রাখতে এবং মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত না হতে সাহায্য করবে।
স্নায়বিক অস্থিরতা বা অস্বস্তিকর অঙ্গভঙ্গি বাদ দিন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে কথার চেয়ে অবাচনিক বা শারীরিক ভঙ্গিই মূল বার্তাটি বেশি বহন করে। ভালো উপস্থাপনা মানেই এমন ভঙ্গি, যা আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে না, বরং কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই বক্তার ধারণাগুলো স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়।
এগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার শ্রোতাদের সঙ্গে আপনার সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। তাই এগুলোর ব্যবহার পরিমিত হওয়া জরুরি। এগুলোর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আপনার বিষয়বস্তুকে আরও সমৃদ্ধ বা স্পষ্ট করা অথবা শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা ও ধরে রাখা।
অনুশীলন করলেই যে সবকিছু নিখুঁত হবে, তা সব সময় না-ও হতে পারে। কোনো কিছু কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। তবে প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিলে আপনি আরও ভালো বক্তৃতা দিতে পারবেন। হয়তো আপনি আপনার জড়তা বা স্নায়বিক চাপ পুরোপুরি দূর করতে পারবেন না, কিন্তু তা কমিয়ে আনার উপায় অবশ্যই শিখতে পারবেন।
সূত্র: প্রফেশনাল অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট এবং ভার্চুয়াল স্পিচ

মানসিকভাবে মানুষ প্রতিটি সম্পর্কের এক জটিল ছক বা মানচিত্র তৈরি করতে ওস্তাদ। কে কার অনুগত, কার সঙ্গে কার প্রতিযোগিতা কিংবা কে কখন কার বিরুদ্ধে যেতে পারে—প্রতিনিয়ত আমাদের মন এসবের হিসাব রাখে। কিন্তু সম্পর্কের এই অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা বিরোধের ছাপ বেশি স্পষ্ট হয়। কখনো ভেবে দেখে
৩৭ মিনিট আগে
লক্ষ করলে দেখা যাবে, অস্বস্তি লাগলেও আমরা ক্রিঞ্জ ভিডিও থেকে চোখ সরাতে পারি না। উল্টো পুরোটা দেখার পর আরও এমন ভিডিও খুঁজতে থাকি। কিন্তু কেন অন্যের এই লজ্জা বা অস্বস্তিকর মুহূর্ত আমাদের এভাবে স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখে? এটা কখনো ভেবে দেখেছেন? সামাজিক সহানুভূতির কারণে অন্য কেউ বিব্রত হলে নিজের...
৭ ঘণ্টা আগে
আমাদের দেশে ফল হিসেবে পাকা পেয়ারা এবং এটি দিয়ে জ্যাম ও জেলি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তরকারি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন নেই। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেয়ারা দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাওয়া হয়। এখানে রইল পেয়ারা দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী একটি পদ—পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি। এটি ভারতের উত্তরাঞ্চলের কিছু...
৯ ঘণ্টা আগে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও তাঁর চারপাশে ভাইরাসের অস্তিত্ব থেকে যায় অনেকটা সময়। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর ভাইরাস মানুষের হাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো বাঁচলেও ঘরের শক্ত যেকোনো জিনিসের নিচে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় ও সংক্রামক থাকতে পারে। তাই নিজে সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের অন্য...
১১ ঘণ্টা আগে