Ajker Patrika

তিব্বতের পথে ৯৬ বছরের তানের যাত্রা

ফিচার ডেস্ক
তিব্বতের পথে ৯৬ বছরের তানের যাত্রা
চীনের চিয়াংসু প্রদেশের এই বৃদ্ধের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল, নিজ দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক প্রদেশ অন্তত একবারের জন্য হলেও ছুঁয়ে দেখবেন। ছবি: সংগৃহীত

বয়স পঞ্চাশ পার হলে অনেকে ভাবি, জীবনের সব অ্যাডভেঞ্চার শেষ। কিন্তু সবাই বিষয়টি একই চোখে দেখেন না। অনেকে চল্লিশের পর জীবনকে অন্যভাবে দেখেন। সেখানে ভ্রমণ, খাবার, মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, জীবনকে উপভোগ করা প্রাধান্য পায়। এই সময়ের পর অনেকে ভাবেন, এখন একটু নিজের জন্য বাঁচি। এমন নয়, এই ধারণা চল্লিশের পরেই আসবে। অনেক পরেও এই ভাবনা আসতে পারে। ৯৬ বছর বয়সী তান তেমনই একজন। ভারী চশমা আর বয়সের সংখ্যা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে ফিকে হয়ে গিয়েছিল। চীনের চিয়াংসু প্রদেশের এই বৃদ্ধের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল, নিজ দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক প্রদেশ অন্তত একবারের জন্য হলেও ছুঁয়ে দেখবেন। আর সেই ইচ্ছাই তাঁর জীবনকে দেখিয়েছে ভিন্নভাবে।

তানের ভ্রমণ তালিকার বাকি সব শহর দেখা শেষ হলেও বাকি রয়ে যায় শুধু একটাই স্থান—তিব্বত। কিন্তু সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়াল বয়স। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে যোগাযোগের পর তাঁর বয়স শুনেই সাফ না করে দেওয়া হলো। বন্ধু এবং স্বজনেরাও বাদ সাধলেন। বিশ্বের ছাদ নামে পরিচিত ৪ হাজার মিটারের বেশি উঁচুতে অবস্থিত তিব্বত। এই বয়সে অ্যালটিটিউড সিকনেস বা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিপজ্জনক। কিন্তু তান দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। এজেন্সি ফিরিয়ে দিয়েছে তো কী হয়েছে, তাঁর সঙ্গী হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’।

প্রযুক্তির হাত ধরে বাড়ল সম্ভাবনা

গত বছর মেয়ের ফোনে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পর থেকে এতে আগ্রহ জাগে তানের। ট্রিপের প্রস্তুতির জন্য তিনি এআই অ্যাপে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, ৯৬ বছর বয়সে তিব্বত ভ্রমণ নিরাপদ কি না। এআই নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে না পারলেও তান নিজেই নিজের সফরসঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

তিব্বতের পথে যাত্রা

গত অক্টোবরে তান একাই চেপে বসলেন তিব্বতগামী ট্রেনে। দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টার সফর, ৩ হাজার কিলোমিটারের পথ। ট্রেনের এক তরুণী যাত্রী তানের বয়স শুনে সানন্দে নিজের নিচের বার্থটি তানকে ছেড়ে দেন। তান ভাড়ার বাকি টাকা দিতে চাইলেও সেই তরুণী তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে ১২ অক্টোবর তান পা রাখলেন লাসায়।

সহায়তা করেছেন অনেকে

লাসায় পৌঁছানোর পর সেখানকার রেলওয়ে স্টাফরা হুইলচেয়ার দিয়ে তাঁকে রাইড-হেইলিং এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেন এবং হোটেলের কর্মচারীরাও তাঁর প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নেন। তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা, লাসা নদীতে সন্ধ্যাকালীন ক্রুজ উপভোগ করা, বাসে চড়ে শহর ঘুরে বেড়ানো কিংবা ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে হেঁটে বেড়ানো—সবই করলেন তিনি। অলৌকিকভাবে, কোনো উচ্চতাজনিত অসুস্থতা তাঁকে স্পর্শও করতে পারেনি!

তিব্বতে তান, সাক্ষী অনেকে

লাসায় এক রেস্তোরাঁয় আরেকজন পর্যটক তানের গল্প শুনে তাঁর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তান ভাইরাল হয়ে যান। ২১ অক্টোবর তিনি নিরাপদে নিজ শহর উক্সিতে ফিরে আসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাঁর এই অদম্য সাহসের প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘স্বপ্নের পিছু ছুটতে বয়স যে কোনো বাধা নয়, মি. তান তা প্রমাণ করেছেন।’ যদিও অনেকে ৪ হাজার মিটার উঁচুতে এই বয়সে একাকী ভ্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কিছুটা চিন্তাও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তান প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছা যদি প্রবল হয়, আর সঙ্গে যদি প্রযুক্তির আলো থাকে, তবে ৯৬ বছর বয়সেও তিব্বত জয় করা অসম্ভব নয়!

সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত