ভ্রমণ

পৃথিবীতে কত ধরনের যে তালিকা তৈরি করা হয়, তার কোনো হিসাব নেই। তেমনি একটি তালিকা হলো ‘হেইটেড কান্ট্রি’। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ সম্প্রতি এ রকম একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
কোনো দেশের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত সেই দেশের বর্তমান সরকারের নীতি এবং প্রচারমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে অনেকখানি। তবে আধুনিক বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষা এবং পরিবেশগত সচেতনতা কোনো দেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। এ বছর বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন জনমত জরিপের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত বা অপছন্দের দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। অপছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে চীন। এর পরই যথাক্রমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। তালিকায় শীর্ষ ৩০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান থাকলেও নেই বাংলাদেশের নাম। এই তালিকাটি মূলত দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ, মানবাধিকার রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে অপছন্দের ৩ দেশ
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোই সাধারণত বেশি সমালোচনার শিকার হয়। তার ছাপ পাওয়া যাবে এ তালিকায় থাকা শীর্ষ তিনটি দেশের নাম দেখলে। দেশগুলো হলো যথাক্রমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
চীন
উইঘুর মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন, হংকং ও তাইওয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক তৎপরতার কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত। এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশদূষণকারী দেশ হিসেবেও চীনের নেতিবাচক চিত্র রয়েছে। ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো চীনের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সামরিক অভিযানের কারণে অনেকেরই রয়েছে দেশটির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বা বিনোদন জগতের কারণে দেশটির একটি ইতিবাচক ‘সফট পাওয়ার’ রয়েছে। কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশ্বজুড়ে একটি বিশাল অংশের মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এটিই মূলত দেশটিকে ‘সবচেয়ে অপছন্দের’ দেশের তালিকায় ওপরের দিকে নিয়ে এসেছে।
রাশিয়া
ইউক্রেন আক্রমণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কারণে রাশিয়া বর্তমানে বৈশ্বিক নেতিবাচক তালিকার ৩ নম্বরে রয়েছে। এ ছাড়া সাইবার হামলা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের অভিযোগও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ইউক্রেনের সঙ্গে লড়াইও দেশটির জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মানবাধিকার ও ভূরাজনৈতিক কারণে সমালোচিত
উত্তর কোরিয়া
বিশ্বের রহস্যময় ও দমনমূলক দেশ উত্তর কোরিয়া। তালিকায় দেশটি আছে ৪ নম্বরে। কিম জং-উনের শাসনে থাকা এ দেশটি তার নাগরিকদের ওপর চরম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে। সেখানে কোনো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম নেই; রেডিও-টেলিভিশনে কেবল সরকারি প্রচার চালানো হয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই বললেই চলে। সরকার মানুষকে পেশা নির্ধারণ করে দেয় এবং অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ নিষিদ্ধ। শ্রম শিবিরে অমানবিক পরিবেশে মানুষদের দাস হিসেবে খাটানোর অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও দেশটি তার আয়ের বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র ও সামরিক খাতে ব্যয় করে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।
ইসরায়েল
ভূখণ্ডগত বিরোধ ও ফিলিস্তিন ইস্যুর কারণ ইসরায়েল মানুষের অপছন্দে দেশের মধ্যে একটি। তালিকায় দেশটি আছে ৫ নম্বরে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি মূলত ফিলিস্তিনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সমালোচিত। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন এবং শরণার্থী ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েল বারবার নিন্দার মুখে পড়েছে। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে টার্গেটেড কিলিং বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা এবং গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
সৌদি আরব
তেলসমৃদ্ধ এ দেশটি তার রক্ষণশীল এবং কঠোর শাসনব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে আলোচিত। তালিকায় দেশটি রয়েছে ১৩ নম্বরে। এখানে রাষ্ট্রের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের হার অনেক বেশি। বিশেষ করে হত্যা, ব্যভিচার বা ধর্মত্যাগের মতো অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নারীরা দেশটিতে পুরুষ অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ড্রাইভিং বা শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা এলেও আইনিভাবে সে দেশের নারীরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার।
পাকিস্তান ও ইরান
সন্ত্রাসবাদ ও পারমাণবিক উদ্বেগের কারণে পাকিস্তান ও ইরান মানুষের অপছন্দের দেশের তালিকায় আছে। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে প্রায়ই সন্ত্রাসবাদের ‘অভয়ারণ্য’ বলা হয়। তালেবান বা আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে দেশটি সমালোচিত। এ ছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ওপর নির্যাতন ও আইনি জবাবদিহির অভাব এখানে প্রকট। কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইরান আন্তর্জাতিকভাবে বিমুখ। এ ছাড়া দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
ইরাক
ইরাক মূলত সাদ্দাম হোসেনের আমলের গণহত্যা ও নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের উত্থানের কারণে নেতিবাচকভাবে পরিচিত। আইএসের পক্ষ থেকে গণহারে বেসামরিক মানুষ হত্যা ও আত্মঘাতী হামলার ঘটনা দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
ঐতিহাসিক কারণে সমালোচিত দেশগুলো
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স: বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক হলেও অতীতে তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে দেশ দুটি সমালোচিত। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকে সম্পদ লুট এবং মানুষের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস এখনো অনেক জাতির মনে ক্ষোভ জাগিয়ে রেখেছে।
জার্মানি ও জাপান: জার্মানির নাৎসি বাহিনীর ভয়াবহতা এবং জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নিষ্ঠুরতার (বিশেষ করে চীনে) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দেশ দুটির নেতিবাচক ইমেজের কারণ। আধুনিক সময়ে দেশ দুটি নিজেদের বদলে ফেললেও ইতিহাসের কালিমাময় অধ্যায়গুলো এখনো আলোচিত হয়।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ত্বকের যত্ন নিয়ে নতুন নতুন পদ্ধতি প্রায়ই আলোচনায় আসে। এর মধ্যে ‘ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল’ নামটি বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, ত্বকের এই যত্নে ব্যবহার করা হয় রক্ত। ত্বকের যত্ন বলার চেয়ে একে চিকিৎসাপদ্ধতি বলাই বেশি মানানসই। বিশেষ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা...
১ ঘণ্টা আগে
নতুন একটি ঠিকানা দিয়ে গতকাল নতুন অধ্যায়ে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশের লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউস অব আহমেদ। গুলশান ২-এর ভেঞ্চুরা মলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে দোতলায় সাজানো নতুন এই আউটলেটের মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটি প্রবেশ করছে তাদের চ্যাপটার টু-এ। তবে এটি শুধু নতুন আউটলেট নয়; বরং হাউস...
১২ ঘণ্টা আগে
দৈনিক চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় টিভি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বিহেভিয়ারাল নিউট্রিশন অ্যান্ড ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা। ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা...
১৭ ঘণ্টা আগে
বাসি খাবার দ্রুত গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। অফিস বা ঘরের ব্যস্ততায় কয়েক মিনিটেই খাবার ধোঁয়া ওঠা গরম করে নেওয়ার সুবিধা অতুলনীয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করার জন্য উপযুক্ত নয়? কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে শুধু তার স্বাদ ও টেক্সচারই নষ্ট হয়...
১৮ ঘণ্টা আগে