
একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন কারণ কাজ করে। বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা খুব কম, যেখানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক অনুপাতের চিত্র বেশ অবাক করা। লক্ষণীয়, বিশ্বের যে দেশগুলোতে নারীর সংখ্যা বেশি, তার একটি বিশাল অংশ পূর্ব ইউরোপের অন্তর্গত। যে দেশগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি, তার শীর্ষ ১০-এর তালিকায় মূলত পূর্ব ইউরোপের সাবেক সোভিয়েত ব্লকভুক্ত দেশগুলোর আধিপত্য। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও সেই অঞ্চলের নারীরা এখনো অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সম্মুখীন হন।
২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ছিল ৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এশিয়া অঞ্চলে পুরুষের সংখ্যার অনুপাত সর্বোচ্চ। সেখানে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে প্রায় ১০৯ জন পুরুষ আছেন। লাতিন আমেরিকায় মোট নারীর সংখ্যা সামান্য বেশি, যা মোট জনসংখ্যার ৫০.৪৭ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকায় পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও শুধু মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া, লেসোথো এবং এসোয়াতিনির মতো পাঁচটি দেশে নারী জনসংখ্যা সামান্য বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে পুরুষের অনুপাত অনেক বেশি হলেও এর প্রধান কারণ হলো উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুরুষ শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে অভিবাসন। ঐতিহাসিকভাবে এই লৈঙ্গিক অনুপাতে যুদ্ধ, সংঘাত, দীর্ঘ আয়ুষ্কাল এবং লিঙ্গ-নির্বাচনী জন্মদানের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লৈঙ্গিক ভারসাম্যের কারণ ও সমস্যা
ইতিহাসগতভাবে, লৈঙ্গিক অনুপাতের এই পার্থক্যগুলো কিছু মূল কারণ দ্বারা চালিত হয়। যেমন যুদ্ধ ও সংঘাত। কারণ, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুরুষদের বলিদান বা ক্ষয়ক্ষতি লৈঙ্গিক অনুপাতে বিশাল প্রভাব ফেলে। এরপর আয়ুষ্কালের পার্থক্যও অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ দেশে নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পুরুষের চেয়ে বেশি। পুরুষদের মধ্যে আসক্তি ও রোগের প্রবণতা এই পার্থক্য আরও বাড়িয়ে তোলে। কাজের সন্ধানে পুরুষদের অন্য দেশে অভিবাসনও লৈঙ্গিক ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে সামাজিক পছন্দের কারণে কন্যাসন্তানদের গর্ভপাত করার প্রবণতাও এই অনুপাতে প্রভাব ফেলে।

১. মলদোভা: শীর্ষে নারীর আধিক্য
মলদোভা পূর্ব ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। বিশ্বে সর্বোচ্চসংখ্যক নারী আছে এমন দেশের মধ্যে প্রথম মালদোভা। দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ৫৩.৯৮ শতাংশ নারী। তবে তালিকাভুক্ত অন্যান্য দেশের মতো মলদোভাও লৈঙ্গিক সমতার সমস্যায় জর্জরিত; বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতার ক্ষেত্রে সেখানে নারীরা পিছিয়ে।
২. লাটভিয়া: স্বাস্থ্যগত পার্থক্য
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরেকটি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র লাটভিয়া। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫৩.৬৮ শতাংশ। এখানে ৪০ বছরের নিচে পুরুষের সংখ্যা বেশি থাকলেও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নারীর সংখ্যা পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষের তুলনায় নারীর দীর্ঘ আয়ুষ্কাল এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অসচেতনতাই এই বিশাল পার্থক্যের প্রধান কারণ।
৩. আর্মেনিয়া: অভিবাসনের প্রভাব
তৃতীয় স্থানে থাকা আর্মেনিয়ায় নারী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৬১ শতাংশ। জর্জিয়ার মতোই কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে অসংখ্য আর্মেনিয়ান পুরুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও কর্মসংস্থান বাজারে নারীরা আয়ের বৈষম্যের শিকার হন।
৪. রাশিয়া: যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ফল
রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। যেখানে নারী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৫২ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ায় নারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেশি। এখানে রাশিয়ান নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১১ বছর বেশি। যুদ্ধে পুরুষের বলিদান এবং পুরুষদের মধ্যে আসক্তি ও রোগের উচ্চ প্রবণতা কম আয়ুষ্কালের কারণ, যা এই লৈঙ্গিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে।
৫. ইউক্রেন: আয়ুষ্কালের বিশাল ব্যবধান
এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় এক দশক বেশি বাঁচেন। উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ইউক্রেনীয় নারীরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের আয়ের মাত্র ৮০ শতাংশ উপার্জন করেন। বিষয়টি লৈঙ্গিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে।

৬. জর্জিয়া: কাজের সন্ধানে পুরুষদের প্রস্থান
জর্জিয়া ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। সেখানে মোট জনসংখ্যার তুলনায় নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫৩.৪ শতাংশ। সেখানে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় ৯ বছর। বেশির ভাগ পুরুষ জনসংখ্যাই কাজের সন্ধানে অন্যান্য দেশে অভিবাসী হওয়ায় নারীর সংখ্যা বেড়েছে।
৭. বেলারুশ: একই ধরনের বৈষম্য
বেলারুশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত বেলারুশের মতোই। এখানে নারী-পুরুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় এক দশক। টোঙ্গার মতো বেলারুশেও লৈঙ্গিক বৈষম্য তীব্র, যেখানে একজন নারী-পুরুষের আয়ের মাত্র ৮০% উপার্জন করেন।
৮. লিথুয়ানিয়া: শরণার্থীর প্রভাব
অষ্টম স্থানে থাকা লিথুয়ানিয়ায় নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় এক দশক। আর সংখ্যার অনুপাত ৫২.৮৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটি বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থী গ্রহণ করায় নারী জনসংখ্যা আরও বেড়েছে। কারণ, শরণার্থীদের অধিকাংশই নারী।
৯. টোঙ্গা: সংখ্যা বেশি, সমতা কম
পলিনেশন জাতি টোঙ্গায় যদিও নারীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু দেশটি লৈঙ্গিক সমতার গুরুতর সমস্যায় ভোগে এবং বৈষম্য সূচকে ১১৫তম স্থানে রয়েছে। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫২.৫৯ শতাংশ।
১০. সার্বিয়া: দীর্ঘ জীবন
এই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে সার্বিয়া। এই দেশে নারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫২.৫১ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো, সার্বিয়ান নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল তাদের পুরুষ প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রায় ছয় বছর বেশি।
সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার

বসন্ত বিদায় নেওয়ার পথে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাস মানেই ঋতু পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ সময় একদিকে প্রকৃতিতে ধুলাবালুর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়, অন্যদিকে গুমোট গরমে খুব দ্রুত জীবাণুর বিস্তার ঘটে। তাই ঘরবাড়ি শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করলে চলে না, দরকার হয় ডিপ ক্লিনিংয়ের। আজকের...
১০ ঘণ্টা আগে
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে। বর্তমানে হামে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক। হামের ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গগুলো...
১৭ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ঘরদোর প্রায়ই অগোছালো হয়ে পড়ে। কাজের চাপ, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে ঘরের যত্ন নেওয়া অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ড্রয়িংরুমে জমে থাকা পার্সেলের স্তূপ, ড্রেসিং টেবিলে এলোমেলো প্রসাধনী কিংবা ঘরের বিভিন্ন চেয়ারে জমানো লন্ড্রির কাপড়—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি...
১৯ ঘণ্টা আগে
ত্বকে সাধারণ প্যাক ব্যবহার বলুন বা বিশেষ কোনো ফেসিয়াল; যেকোনো স্কিনকেয়ারই শুরু হয় ত্বক পরিষ্কারের মাধ্যমে। সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে এর সুস্থতা কামনা করাই বৃথা। কারণ অপরিচ্ছন্ন ত্বকের ওপর টোনার, ময়শ্চারাইজার বা প্যাক যা-ই ব্যবহার করা হোক...
২১ ঘণ্টা আগে