Ajker Patrika

বাসা বদলের প্যাকিং: জেনে নিন নিয়মগুলো

ফারিয়া রহমান খান 
বাসা বদলের প্যাকিং: জেনে নিন নিয়মগুলো
প্যাকিং থেকে শুরু করে নতুন জায়গায় সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া, পুরো প্রক্রিয়াটি যেমন ক্লান্তিকর তেমনই মানসিক চাপেরও বটে। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

বাসা বদলের কথা এলেই অনেকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। প্যাকিং থেকে শুরু করে নতুন জায়গায় সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া, পুরো প্রক্রিয়াটি যেমন ক্লান্তিকর তেমনই মানসিক চাপেরও বটে। তবে আজকাল অনেকে ব্যস্ততার কারণে বিভিন্ন শিফটিং প্রতিষ্ঠানের ওপর প্যাকিং ও মালপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভরসা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কাজকে সহজে করে দিচ্ছেন। বাড়িতে এসে জামাকাপড়, থালাবাসন থেকে শুরু করে ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন—সবকিছুই সুন্দর করে প্যাক করে নতুন বাড়িতে বসিয়ে দিচ্ছেন তাঁরাই। এতে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ঝক্কি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

এমনই একটি বাসা শিফটিং প্রতিষ্ঠান প্যাক অ্যান্ড মুভ। এই প্রতিষ্ঠানের হেড অব অপারেশন আর্শাদ হোসেন জানান, প্রধানত দুটি কারণে মানুষ এখন তাঁদের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, অনলাইনে সহজলভ্যতা; মানুষ এখন খুব সহজে সেসব প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ঝামেলাবিহীন সেবা। আর্শাদ বলেন, ‘আমরা প্যাকিং থেকে শুরু করে মালপত্র হ্যান্ডেলিং—সব দায়িত্বই নিই বলে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ভয় থাকে না। এতে গ্রাহকের সময় ও শ্রম বেঁচে যায়। মূলত বিশ্বাসযোগ্যতা আর মানসিক প্রশান্তির জন্য মানুষ এখন আমাদের দিকে ঝুঁকছে।’

সে ক্ষেত্রে বাসা শিফটিংয়ের জন্য কী রকম খরচ হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিফটিংয়ের খরচ মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—দূরত্ব ও মালপত্রের পরিমাণ। ঢাকার ভেতরের খরচ এবং অন্য শহরে যাওয়ার খরচ ভিন্ন হয়। আবার মালপত্র অনুযায়ী ট্রাক এবং শ্রমিকের সংখ্যা কমবেশি হলে খরচেও পরিবর্তন আসে। সহজভাবে বললে, মালপত্রের পরিমাণ যত বেশি এবং দূরত্ব যত দীর্ঘ হবে, খরচ সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।’

এসব প্রতিষ্ঠান বাসা শিফটিংয়ের আগে কিছু গোল্ডেন রুলস মেনে চলে। সাধারণত যেদিন বাসা শিফট হবে তার আগের দিন থেকে এই গোছগাছ পর্ব চলে। এক ঝলকে দেখে নিতে পারেন তাদের গোল্ডেন রুলস।

প্যাকিং সরঞ্জাম ও বাক্সের সঠিক ব্যবহার

আর্শাদ হোসেন জানান, সফলভাবে প্যাকিংয়ের জন্য দরকার মানসম্মত বাক্স, প্যাকিং টেপ, বাবল র‍্যাপ এবং মার্কার পেন। বাক্সের নিচে সব সময় বাড়তি সুরক্ষা হিসেবে বাবল র‍্যাপ বা পুরোনো নিউজ পেপার ব্যবহার করা হয়। ভারী জিনিস, যেমন বই বা ডাম্বেল ছোট বক্সে এবং হালকা জিনিস যেমন বালিশ বা জামাকাপড় বড় বক্সে রাখা হয়। এভাবে প্যাকিং করলে নতুন বাসায় গিয়ে জিনিস খুঁজে পেতে সময় ও পরিশ্রম অনেকটা সাশ্রয় হয়।

রান্নাঘরের জিনিস ও ভঙ্গুর জিনিসের সুরক্ষা

রান্নাঘর গোছানো খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্লেট বা কাচের জিনিস প্যাক করার সময় সেগুলোর মধ্যে পেপার প্লেট বা বাবল র‍্যাপ ব্যবহার করা হয়। ছুরি বা ধারালো জিনিসের মাথার অংশটি মোটা কাগজে মুড়িয়ে টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে নেওয়া হয়। রেফ্রিজারেটর এবং ওয়াশিং মেশিনের মতো ভারী জিনিসগুলো তাদের অরিজিনাল বাক্সে ভরে তারপর বাসা বদল করা হয়।

আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম

বড় আসবাবপত্র, যেমন খাট, আলমারি বা টেবিল, যতটা সম্ভব খুলে বা ‘ডিসঅ্যাসেম্বল’ করে নেওয়াই ভালো। আসবাবের ছোট ছোট স্ক্রু বা নাটবল্টুগুলো জিপলক ব্যাগে করে ওই আসবাবের সঙ্গে টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়। এতে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। বড় আসবাবপত্র এবং ইলেকট্রনিকস সরঞ্জামের গায়ে স্ক্র্যাচ পড়া রোধ করতে পুরোনো কম্বল বা মোটা চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়, জানান আর্শাদ হোসেন।

বাড়িতে পৌঁছে ফ্যান, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, লাইট, ফিল্টার, চুলা, খাট, আলমারি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেন। তবে দেয়ালে ছবি বা ওয়ালম্যাট ঝুলানো বা বাসা গোছানোর কাজ নিজেদের করতে হবে। বাসা বদলের কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য প্যাকিংয়ের লোক আসার আগেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেললে কাজ অনেকটা সহজ এবং পরিচ্ছন্ন হয় বলে জানান আর্শাদ হোসেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত