Ajker Patrika

যেভাবে তৈরি করতে পারেন ত্বকের উপযোগী রেটিনল জুস

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
যেভাবে তৈরি করতে পারেন ত্বকের উপযোগী রেটিনল জুস
রেটিনল জুস এখন ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। ছবি: পেক্সেলস

রেটিনলসমৃদ্ধ প্রসাধনীর কথা প্রায় সবারই জানা। বিশেষ করে সেরাম। কিন্তু ত্রিশের পর যাঁরা রেটিনল সেরাম ব্যবহারের কথা ভাবছেন, তাঁদের জানিয়ে রাখি, মুখে মাখার চেয়ে পান করলে রেটিনল আরও ভালো ফল দেয়। চোখ কপালে তোলার কারণ নেই। রেটিনল জুস এখন ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। বাজারে পাওয়া এ জুস পানে আপত্তি থাকলে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন এটি। জুসজাতীয় পানীয় দোকান থেকে কিনে না পান করাই ভালো। কারণ দোকানের জুসে কোন ধরনের পানি ব্যবহার করা হবে, তার নিয়ন্ত্রণ ক্রেতা হিসেবে আপনার হাতে নেই। আর এটি মনে রাখতে হবে, পানি বিভিন্ন রোগের বাহন। রেটিনল জুস তৈরির আগে জানা দরকার রেটিনল সম্পর্কে।

রেটিনল মূলত ভিটামিন ‘এ’ এবং এটি চর্বিতে দ্রবণীয়। রেটিনল খাবারে পাওয়া যায়। আবার এটি সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও পাওয়া যায়। সাপ্লিমেন্ট খেতে না চাইলে বিভিন্ন উপাদান দিয়ে জুস বানিয়ে পান করতে পারেন সকালে উঠে। এই জুস শরীর ভেতর থেকে সুস্থ রাখে এবং ত্বক রাখে উজ্জ্বল, পরিচ্ছন্ন ও প্রাণবন্ত।

রেটিনল জুস তৈরির উপকরণ

এই জুসে থাকে এমন সব ফল ও সবজি, যেগুলো বিটা-ক্যারোটিন আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। যেমন গাজর, কমলালেবু, আপেল, পালংশাক, শসা ইত্যাদি। শরীরে গিয়ে এই বিটা-ক্যারোটিন ভেঙে তৈরি হয় ভিটামিন ‘এ’, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

ত্বকের উপকারিতা

প্রতিদিন এই জুস পান করলে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়। মুখের দাগ ও পিগমেন্টেশন কমে। অল্প বয়সে বলিরেখা পড়া রোধ করে। অন্ত্র পরিষ্কার রাখে, ফলে ভেতর থেকে শরীর সুস্থ থাকে। হরমোনের ব্রণ কমাতেও সাহায্য করে এই জুস।

প্রতিদিন রেটিনল জুস পান করলে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়। ছবি: পেক্সেলস
প্রতিদিন রেটিনল জুস পান করলে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়। ছবি: পেক্সেলস

জেনে নিন কয়েক ধরনের রেটিনল জুস তৈরির উপায়

রেসিপি-১

উপকরণ

মাঝারি আকারের গাজর ২টি, পালংশাক একমুঠো, আদা ১ টুকরা, আপেল বা কমলালেবু অর্ধেক, পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি

সব উপকরণ একসঙ্গে মিক্সচারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। পাতলা রস পছন্দ হলে পরে একটু বেশি পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। তারপর ছেঁকে পান করুন। তবে আঁশের প্রয়োজন হলে ছেঁকে নেওয়ার দরকার নেই। সকালে খালি পেটে খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।

রেসিপি-২

উপকরণ

বড় গাজর ২টি, বড় মিষ্টিআলু ১টি, কমলা ১টি, তাজা আদার টুকরা ১ ইঞ্চি পরিমাণ, সামান্য পানি ও লেবুর রস।

প্রণালি

সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে ঢেলে পান করুন।

রেসিপি-৩

উপকরণ

শসা ২টি, কমলালেবু, আদা, লেবু ও আপেল ১টি করে, পুদিনা পাতা ও সেলেরি পরিমাণ স্বাদমতো, আপেল সিডার ভিনেগার ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি

সব উপকরণ একসঙ্গে মিক্সচারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। পাতলা রস পছন্দ হলে বেশি পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। তারপর ছেঁকে পান করুন। তবে আঁশের প্রয়োজন হলে ছেঁকে নেওয়ার দরকার নেই। সকালে খালি পেটে খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।

রেসিপি-৪

উপকরণ

গাজর ১টি, আদা ১ টুকরা, হলুদ দেড় ইঞ্চি পরিমাণ, অর্ধেক লেবুর রস ও একটি কমলার রস।

প্রণালি

অল্প পানি দিয়ে ব্লেন্ডারে মসৃণ করে মিশিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে পান করুন।

কোন বয়সীদের জন্য উপযোগী এই জুস?

সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষেরা এই জুস পান শুরু করতে পারেন। তবে গর্ভবতীদের জন্য এই জুস পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে রেটিনল জুস পান করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তবে রেটিনল জুসে কোনো ধরনের চিনি যোগ করা যাবে না। যাঁদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই জুস পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

সূত্র: এনডিটিভি ফুড ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত