
ঈদের প্রস্তুতিতে কেনাকাটা করা হবে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তা আর বিপণিবিতানে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনেও। নাগরিক জীবনে সময়ের অভাবে অনলাইনে কেনাকাটা এখন অনেকের জন্য জরুরি। তবে সমস্যা হলো, অনলাইনে কেনাকাটা এখন আর শুধু প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন অনেকের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ জন্য অনেকের জীবনে এখন রাত জেগে মোবাইল ফোন স্ক্রল করে পছন্দের পণ্য খোঁজা রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এই যে ডিজিটাল দুনিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পণ্য দেখা, এটি কি শুধুই অভ্যাস? গবেষণা বলছে, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে লুকিয়ে আছে মানসিক স্বাস্থ্যের সূক্ষ্ম ক্ষতি। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এটি একধরনের আসক্তি। অনলাইন শপিং যখন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায় বা আবেগ এড়িয়ে চলার মাধ্যম হয়, তখন তা ক্ষতিকর। ঈদের সময় অনেকের জীবনে এই ক্ষতির মাত্রা ব্যাপক বেড়ে যায়। ফলে এই ব্যাপক কেনাকাটার মৌসুমে সতর্ক হওয়া জরুরি।
রিটেইল থেরাপি বনাম ডিজিটাল জটিলতা
একসময় বিপণিবিতানে কেনাকাটাকে বলা হতো রিটেইল থেরাপি। এটি কিছু মানুষকে সাময়িকভাবে বিষণ্নতা কাটাতে এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করত। কিন্তু অনলাইন শপিং অনেক সময় মস্তিষ্কের জন্য বিভ্রান্তিকর ও ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। ইন্টারনেটে পণ্যের বিশাল সমাহার আমাদের সামনে প্যারাডক্স অব চয়েস বা পছন্দের বিড়ম্বনা তৈরি করে। যখন মানুষের সামনে পছন্দ করার অসংখ্য বিকল্প থাকে, তখন তারা ডিসিশন প্যারালাইসিস বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোন স্ক্রল করার পর কোনো পণ্য না কিনে যখন কেউ স্ক্রলিং করা বন্ধ করে, তখন তার মধ্যে একধরনের হতাশা ও বিরক্তি তৈরি হয়। এটি হতে পারে আপনার বিষণ্নতা নামের রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ধাপ।
ডোপামিনের মায়া এবং মানসিক অবস্থা
স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এলিয়াস আবুজাউদে জানান, অনলাইন শপিং এবং ইন্টারনেট—উভয়ই আসক্তি তৈরি করতে পারে। এই দুয়ের সংমিশ্রণে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের প্রবাহ বাড়ে। অনেক সময় পণ্য হাতে পাওয়ার চেয়ে কার্টে পণ্য যোগ করা বা কেনার প্রক্রিয়াই বেশি আনন্দদায়ক মনে হয়। অবদমিত বিষণ্নতা বা উদ্বেগ থাকলে মানুষ সাময়িক স্বস্তির জন্য অনলাইনে কেনাকাটা করে। কিন্তু পণ্য ডেলিভারি পাওয়ার পর সেই আনন্দ আর স্থায়ী হয় না।

বিপণনের ফাঁদ
‘আপনি যথেষ্ট ভালো ক্রেতা নন’—অনলাইন মার্কেটিং প্রক্রিয়া প্রায়ই মানুষকে এমন বার্তা দেয়। বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আসল সত্তার বদলে আদর্শ সত্তাকে লক্ষ্য করে পণ্য বিক্রি করে। এর ফলে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা বা হীনম্মন্যতার মতো নেতিবাচক আবেগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বা টেকসই পণ্য কেনার সামাজিক চাপ অনেক সময় একজন সচেতন ক্রেতার জন্য বাড়তি উদ্বেগ ও মানসিক টানাপোড়েন তৈরি করে।
অনলাইন শপিংয়ের আসক্তি কাটানোর কৌশল
অনলাইন শপিংকে আনন্দদায়ক ও স্বাস্থ্যকর রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন—
নিখুঁত পণ্যের সন্ধানে সময় নষ্ট না করে যেটি আপনার প্রয়োজন মেটাবে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। এতে মানসিক চাপ কম হয়।
ব্রাউজারে ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য সেভ করে না রাখা। এটি হুটহাট কেনাকাটা করার প্রবণতা কমায়।
কোনো পণ্য পছন্দ হলে তখনই না কিনে অন্তত এক দিন বা এক সপ্তাহ অপেক্ষা করা। একে স্লিপ অন ইট বলা হয়। এই প্রক্রিয়া প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়।
প্রলুব্ধকারী বিজ্ঞাপনী ই-মেইল আন সাবস্ক্রাইব করা এবং প্ররোচিত করে এমন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মিউট করা।
কেনাকাটার সময় নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং সুনির্দিষ্ট কোনো কিছুর খোঁজ করা। যদি খুব বেশি মানসিক চাপ অনুভব করেন, তবে ডিভাইস থেকে দূরে সরে গিয়ে শরীরচর্চা বা হাঁটাচলা করা উচিত।
সূত্র: টাইম ডটকম, ভোগ ইন্ডিয়া

ইটিং ডিজঅর্ডার শুধু খাদ্যের সমস্যা নয়; এটি একটি জটিল মানসিক অবস্থা, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট করা আধুনিক জীবনের অংশ হলেও কখন এটি মানসিক ও শারীরিক রোগে রূপ নেয়, তা বোঝা জরুরি। এর লক্ষণগুলো একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
রমজানকে নিজের উন্নতির একটি সুযোগ হিসেবে দেখুন। কোরআনের অর্থ নিয়ে ভাবুন এবং বেশি বেশি জিকির করুন। এটি আপনাকে অনর্থক কথা ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে রাখবে। এই মাসে নতুন কিছু শেখার মানসিকতা রাখুন। ইসলামিক পডকাস্ট শোনা বা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখার মাধ্যমে নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ান। আপনার প্রতিদিনের...
৫ ঘণ্টা আগে
ঈদে পাওয়া বোনাস মানেই সেটাকে বাড়তি মনে করে সব টাকা খরচ করে ফেলা নয়; বরং এটি আপনার আর্থিক অবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি দারুণ সুযোগ। বোনাসের টাকা প্রয়োজনের তুলনায় কখনো কম, কখনো বা বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু একটু সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা থাকলে এই টাকা দিয়ে ঈদের কেনাকাটা সেরেও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের...
৭ ঘণ্টা আগে
দুবাইয়ের রাস্তা এখন শুধু মানুষের ভিড়ে ঠাসা নয়; সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে মালিকবিহীন শত শত কুকুর আর বিড়াল। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট পোষা প্রাণীর সংখ্যা ২০ লাখের বেশি; বিশেষ করে দুবাইয়ে কুকুরের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। ৬৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ পোষা প্রাণীর মালিকের মালিকানায় আছে বিড়াল। প্রাণী...
১৭ ঘণ্টা আগে