
ইটিং ডিজঅর্ডার শুধু খাদ্যের সমস্যা নয়; এটি একটি জটিল মানসিক অবস্থা, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট করা আধুনিক জীবনের অংশ হলেও কখন এটি মানসিক ও শারীরিক রোগে রূপ নেয়, তা বোঝা জরুরি। এর লক্ষণগুলো একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। যদি আপনার নিজের বা প্রিয়জনের মাঝে খাবার নিয়ে কোনো অস্বাভাবিক বাধ্যবাধকতা বা লজ্জার অনুভব দেখেন, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই সুস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ। ইটিং ডিজঅর্ডার বা খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যাগুলো আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এটি নিরাময়যোগ্য। লেডি গাগা, জায়ন মালিক কিংবা ডেমি লোভাটোর মতো তারকারাও একসময় এই সমস্যায় ভুগেছেন।
ইটিং ডিজঅর্ডারের ৬ তথ্য
অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টে সুস্থ মনে হলেও তারা শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ হতে পারে।
এই রোগের জন্য পরিবার দায়ী নয়; বরং চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিবার হতে পারে রোগীর সবচেয়ে বড় সহযোগী।
জিনগত গঠন এবং পরিবেশ—উভয়ই এই রোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুধু বংশগতি বা জিনের বৈশিষ্ট্য দেখে আগে থেকে বলা সম্ভব নয়, কে এই রোগে আক্রান্ত হবে।
এই রোগে আত্মহত্যার ঝুঁকি এবং শারীরিক জটিলতা—দুটিই অনেক বেশি থাকে।
সঠিক সময়ে রোগনির্ণয়ের পদক্ষেপ নিলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
ইটিং ডিজঅর্ডারের লক্ষণ ও প্রকারভেদ
ইটিং ডিজঅর্ডার শুধু একটি সমস্যা নয়, এর রয়েছে নানান ধরন। প্রতিটি পর্যায়ের লক্ষণগুলোও আলাদা হয়ে থাকে।
অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা: এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ওজন কমানোর নেশায় খাবার খাওয়ার ব্যাপারে চরম অনীহা দেখায়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ও অতিরিক্ত ওজন কমানো, ক্যালরি নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তিত থাকা, নিজেকে ‘মোটা’ মনে করা এবং হাড়-জিরজিরে শরীর লুকাতে স্তরে স্তরে পোশাক পরার প্রবণতা থাকে। অপুষ্টির কারণে শরীর গরম রাখতে চামড়ায় একধরনের নরম লোম গজাতে পারে এই স্তরে থাকা মানুষদের। এরা নিজেরা না খেলেও অন্যদের জন্য খুব চমৎকার ও জটিল সব খাবার রান্না করতে পছন্দ করে।
বুলিমিয়া নার্ভোসা: আক্রান্ত ব্যক্তি একবারে প্রচুর খাবার খেয়ে ফেলেন এবং পরে তা শরীর থেকে বের করে দিতে বমি করা বা ল্যাক্সেটিভ ব্যবহারের মতো পথ বেছে নেন। খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাথরুমে কাটানো, দাঁতের এনামেল ক্ষয় হওয়া এবং বমি করার জন্য আঙুলের গিঁটে দাগ বা কড়া পরা এর লক্ষণ। এদের চোয়ালের নিচের অংশ ফুলে যেতে পারে।

বিঞ্জ ইটিং ডিজঅর্ডার: নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রচুর খাবার খাওয়া এই রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এরা সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে অদ্ভুত সব মিশ্রণে খাবার তৈরি করে খান। যেমন এরা আলুর ভর্তার সঙ্গে খেতে পারে ওরিও বিস্কুট। খাওয়ার পর তারা চরম লজ্জা ও অপরাধবোধে ভোগে।
অন্যান্য ধরন
খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা বমির ভয়ে খাবার এড়িয়ে চলা।
খাবার নয় এমন বস্তু; যেমন কাগজ, সাবান, মাটি, চক ইত্যাদি খাওয়ার নেশা।
শুধু স্বাস্থ্যকর বা শুদ্ধ খাবার খাওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত বা অবসেসিভ চিন্তাভাবনা করা।

আচরণগত ও শারীরিক সতর্কসংকেত
খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা শুধু ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আরও কিছু গভীর লক্ষণ রয়েছে।
আবেগীয় পরিবর্তন: ওজন ও শারীরিক গঠন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ, আয়নায় বারবার খুঁত খোঁজা এবং মেজাজের চরম ওঠানামার মতো আবেগীয় পরিবর্তন হতে পারে ইটিং ডিজঅর্ডারের অন্যতম সংকেত। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে।
খাবার নিয়ে অদ্ভুত আচরণ: খাবার ছোট ছোট টুকরো করা, প্লেটে খাবার সাজানো বা নির্দিষ্ট ক্রমে খাবার খাওয়ার মতো নানা নিয়ম তৈরি করার প্রবণতা ইটিং ডিজঅর্ডারের সংকেত। প্রকাশ্যে খেতে লজ্জা পাওয়া বা অস্বস্তি বোধ করাও একটি বড় সংকেত।
অতিরিক্ত ব্যায়াম: শরীর অসুস্থ বা আহত থাকলেও কোনোভাবে ব্যায়াম বাদ না দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হলে সতর্ক হতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ ছাত্রীদের তুলনায় নারী অ্যাথলেটদের মধ্যে এই প্রবণতা অনেক বেশি।

শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
ইটিং ডিজঅর্ডার হলে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এর ফলে শরীরে যে জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে, সেগুলোর মধ্যে আছে—
শারীরিক দুর্বলতা: সারাক্ষণ শীত অনুভব করা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
পরিপাক ও হরমোনজনিত সমস্যা: পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মেয়েদের মাসিকের অনিয়ম এবং রক্তশূন্যতা।
ত্বক ও চুলের ক্ষতি: শুষ্ক ত্বক, ঝরে পড়া চুল, ভঙ্গুর নখ এবং চোখ ও গাল বসে যাওয়া। ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন

লক্ষ করলে দেখা যাবে, অস্বস্তি লাগলেও আমরা ক্রিঞ্জ ভিডিও থেকে চোখ সরাতে পারি না। উল্টো পুরোটা দেখার পর আরও এমন ভিডিও খুঁজতে থাকি। কিন্তু কেন অন্যের এই লজ্জা বা অস্বস্তিকর মুহূর্ত আমাদের এভাবে স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখে? এটা কখনো ভেবে দেখেছেন? সামাজিক সহানুভূতির কারণে অন্য কেউ বিব্রত হলে নিজের...
৩ ঘণ্টা আগে
আমাদের দেশে ফল হিসেবে পাকা পেয়ারা এবং এটি দিয়ে জ্যাম ও জেলি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তরকারি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন নেই। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেয়ারা দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাওয়া হয়। এখানে রইল পেয়ারা দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী একটি পদ—পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি। এটি ভারতের উত্তরাঞ্চলের কিছু...
৫ ঘণ্টা আগে
রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও তাঁর চারপাশে ভাইরাসের অস্তিত্ব থেকে যায় অনেকটা সময়। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর ভাইরাস মানুষের হাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো বাঁচলেও ঘরের শক্ত যেকোনো জিনিসের নিচে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় ও সংক্রামক থাকতে পারে। তাই নিজে সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের অন্য...
৭ ঘণ্টা আগে
ঘুম ভেঙেছে, চোখ মেলতেই দেখলেন ঘরের কোণে দাঁড়ানো কোনো এক অস্পষ্ট কালো অবয়ব। ঘরের ভেতর এক হিংস্র উপস্থিতি টের পাচ্ছেন। এদিকে বুকে যেন বিশাল কোনো ভারী পাথর বা দেও-দানব চেপে বসে আছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু চিৎকার করতে কিংবা হাত-পা একটুও নাড়াতে পারছেন না। রূপকথা বা হরর সিনেমার...
১ দিন আগে